Showing posts with label প্রকাশিত লেখা. Show all posts
Showing posts with label প্রকাশিত লেখা. Show all posts

Thursday, August 15, 2019

কোয়ান্টাম মেথডঃ আমাদেরকে কোন পথে ডাকছে-৩

৩য় পর্বের লিংক

৬. ইসলামের দৃষ্টিতে কোয়ান্টাম মেথডের নানা দিক:
৬.১.মনের শক্তির ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গী:
অন্তরের ইবাদতসমূহের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হল “তাওয়াক্কুল” – যা আল্লাহ ছাড়া আর কারও ওপর করা যাবে না। কেউ যদি আল্লাহ ছাড়া এমন কোন সত্তার ওপর এমন কোন ব্যাপারে তাওয়াক্কুল করে যা সংঘটনের ক্ষমতা তার নেই, তবে তা বড় শিরক হবে যা একজন ব্যক্তিকে ইসলামের গণ্ডীর বাইরে নিয়ে যায়।
মেডিটেশন পদ্ধতিতে নিজের ওপর “তাওয়াক্কুল” ও স্বয়ংসম্পূর্ণতার শিক্ষা দেয়া হয়, বলা হয়: তুমি চাইলেই সব করতে পার। [25]
তাহলে আমরা দেখলাম যে, মনের স্বাধীন শক্তির এই ধারণাটি ইসলামের শিক্ষার সাথে রীতিমত সাংঘর্ষিক। মনের এমন কোন ক্ষমতা নেই, যা প্রকৃতির নেপথ্য শক্তিকে (আল্লাহ ব্যতীত আর কোন শক্তির অস্তিত্ব কল্পনা করাই শিরক) নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। জৈবিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করা বা স্থান-কালের ঊর্দ্ধে যেতে পারাও সম্ভব নয় মানব আত্মার পক্ষে।
৬.২.মাটির ব্যাংকের ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গী:
আমরা যদি মাটির ব্যাংক সংক্রান্ত আমাদের উপরের আলোচনা একটু লক্ষ্য করি তাহলে দেখব যে, এখানে ধরে নেয়া হচ্ছে মাটির ব্যাংকে দান মানুষের কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পারে, অথচ ইসলামী শিক্ষা হল কল্যাণ একমাত্র আল্লাহ পাকের কাছ থেকেই আসে, আর কারও জন্য কোন ক্ষতি নির্ধারিত হলে সেটাও একমাত্র আল্লাহ তা’আলার নিয়ন্ত্রণে, আল্লাহর সাথে এতে কোন অংশীদার নেই। যদি দাবী করা হয় যে মাটির ব্যাংকে দানের উছিলায় কল্যাণ ত্বরান্বিত হয়, তবে কোন ঘটনার উপকরণ বা “সাবাব” হিসেবে এমন কিছুকে নির্ধারণ করা হল, যাকে আল্লাহ পাক উপকরণ বা সাবাব হিসেবে নির্ধারণ করেননি। এই কারণেই তাবিজ এর ব্যবহার ইসলামে নিষিদ্ধ – অবস্থাভেদে তা বড় বা ছোট শিরক হতে পারে।
৬.৩.কমান্ড সেন্টারের ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গী:
আমরা আগেই গায়েবের জ্ঞানের সংজ্ঞা দিয়েছি এবং উল্লেখ করেছি যে এতে কারো অংশীদার নেই। কিন্তু কমাণ্ড সেন্টারের প্রয়োগ দেখলেই আমরা বুঝব তা মানুষকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার দাবী করছে যখন সে গায়েবের জ্ঞানের অধিকারী হয়। আমরা এও দেখেছি যে, কিভাবে কুরআনের আয়াতের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে এই জঘন্য বিষয়টিকে ইসলামে অনুমোদিত হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
৬.৪.কোয়ান্টা ভঙ্গির ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গী:
কোয়ান্টা ভঙ্গীকে আল্লাহকে স্মরণ করার যে উপায় হিসেবে দেখানো হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে অভিনব একটি বিদ’আতের উদাহরণ। আল্লাহর স্মরণ বা যিকির ইসলামের একটি প্রতিষ্ঠিত ইবাদাত। তাই এর উৎস অবশ্যই ওহী হতে হবে। আর কোয়ান্টা ভঙ্গীর যে অ্যাস্ট্রোলজিকাল ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে তাতে ইসলামে যে এটা পরিত্যাজ্য তা দিবালোকের মত পরিষ্কার।
৬.৫.অন্তর্গুরুর ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গী:
ইসলামের কোন পুরোহিততন্ত্র (Priesthood) নেই – যা এর একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। পীরের মুরিদ হওয়ার কোন সুযোগ ইসলামে নেই বরং তা যে কিভাবে মানুষকে শিরকের দিকে ডাকে আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে তা বোঝা মোটেও কঠিন নয়। কোয়ান্টাম মেথডের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আরও ভয়ংকর এই কারণে যে এখানে অন্তর্গুরু কল্যাণ বা অকল্যাণ করার ক্ষমতা রাখেন যা শিরক হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহের অবকাশ রাখেনি। [26]
৬.৬. মেডিটেশন পদ্ধতিটির উৎস:
আমরা যদি কোয়ান্টাম মেডিটেশন সম্পর্কে জানার জন্য internet এ একটু search দেই, তাহলে পাই:
Meditation is the oldest self-help technique available to human beings, offering detailed mental and physical plans carefully designed to bring the mind under critical observation and control to achieve harmony and dynamic health. The discipline of meditation is over 5000 years old, and can be traced back to ancient India. Following the introduction of modern Quantum Mechanics into scientific discourse, our concept of reality has changed most radically. The science of Quantum Mechanics now concurs with the ancient wisdom of Hindu Vedanta philosophy, in the observation that the sense-bound intellect alone is simply inadequate for experiencing the ultimate condition of reality. We also need to use our deep inner perception of unity through a holistic mind-body connection in order to experience the ultimate reality. We can experience such reality only when we are able to commune within at a deeper level of consciousness, where the subject, the observer — and the object, the observed — become one perception. [27]

৬.৭.মেডিটেশনের ধাপসমূহ:

কোয়ান্টাম মেথডের বিস্তারিত আলোচনা থেকে আমরা দেখেছি- মেডিটেশনের প্রথম ধাপ হচ্ছে ‘শিথিলায়ন’। বাকি ধাপগুলোর ব্যাপারে শুধু আভাস দেয়া হয়েছে যাকে বলা হয়েছে অতিচেতনার পথে যাত্রা যাকে থিটা, বিটা লেভেল ইত্যাদি নানা নামকরণ করা হলেও আসলে তাদের নাম নির্বাণ বা ফানাফিল্লাহ। (এ ব্যাপারে কোয়ান্টামের বক্তব্য-) এসময় মহাচৈতন্যের (super consciousness) সাথে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়, মানব অস্তিত্বের যে অংশ স্থান কালে আবদ্ধ নয়, তা প্রকৃতির নেপথ্য নিয়ম ও স্পন্দনের সহজেই যোগাযোগ স্থাপন করে এবং তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
এখন আসুন আমরা এই ধাপগুলোর উৎস খোঁজার চেষ্টা করি-
“Nirvana” is a Sanskrit term meaning “blown out” referring to the extinction of all worldly desires, or salvation. Though the term originated in Vedantic (Bhagavad-Gita and the Vedas) it is most often associated with Buddhism. In Hinayana Buddhism the term is equated with extinction while in Mahayana Buddhism it is a state of bliss. [28] In this state, according to a branch of Buddhist thought, the ego disappears and the human soul and consciousness are extinguished.
This concept also forms the core of a philosophy known as “mysticism”. Mysticism is defined as an experience of union with God and the belief that man’s main goal lies in seeking that union. The origins of mysticism can be found in the writings of ancient Greek philosophers….. [29]
মুশরিকদের ধর্মের একটি অংশ ইসলামে কিভাবে আসল তা জানতে ইতিহাস ঘাটলে আমরা পাই:
The mystic tradition began to find expression among Muslims from about 8th century CE, a century after the borders of the Islamic state had expanded to include Egypt and Syria and its major centers of monasticism. A group of Muslims who were not satisfied with what the Sharee’ah (Islamic Law) had to offer, developed a parallel system which they named the Tareeqah (the way). Just as the ultimate goal of the Hindu was unity with the world soul and of the Christian mystic union with God; the ultimate goal of this movement became Fanaa, the dissolution of the ego, and Wusool the meeting and unification of the human soul with Allaah in this life. A series of preliminary stages and states which had to be attained were defined. They were called Maqaamaat (stations) and Haalaat (states). A system of spiritual exercises was also designed for the initiate in order to bring about this “meeting.” These exercises of “Dhikr” often involved head and body movements and sometimes even dance, as in the case of whirling dervishes. [30]
৭. উপরের আলোচনার আলোকে কোয়ান্টাম মেথড:
এতক্ষণে আশা করি এই তথাকথিত সাইন্টিফিক মেথড বা Science of Living যে আসলে হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মের একটি Ritual ছাড়া আর কিছুই নয় এ বিষয়টি আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়েছে। কেন এটি পরিত্যাজ্য তার ব্যাপারে আর কোন প্রমাণ দাখিলের ও বোধহয় প্রয়োজন নেই। কিন্তু প্রকৃত সত্য এই যে এটি মাত্র শুরু।

৭.১. কোয়ান্টাম মেথড সকল ধর্মই সত্য এই মতবাদ প্রচার করে:

আমাদের দ্বীনের মূলমন্ত্র বা সারকথা একটি বাক্যে সংকুচিত –“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌”। এই একটা ব্যাপারে কোন সংলাপ বা সমঝোতা হবার নয় – এ কথাটা বলতেই বিখ্যাত আয়াত “লাকুম দ্বীনুকুম ওয়াল ইয়া দ্বীন” নাজিল হয়েছে ৷ অথচ, অজ্ঞতাবশত আমাদের দেশের মূর্খ রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে তথাকথিত সুশীল সমাজের অনেককেই এই আয়াতটিকে ঠিক উল্টোভাবে ব্যবহার করে আন্তঃধর্ম প্রেমের বাণী ছড়ানোর চেষ্টা করতে দেখা যায় ৷ কোয়ান্টাম ফাউণ্ডেশন ও এর ব্যতিক্রম নয়।

৭.২. এটি একটি জঘন্য বিদ’আত:

আমরা আগেই দেখিয়েছি যে, তারা নিজেরাই প্রচার করছে যে মেডিটেশন এক ধরণের ইবাদাত। আর এটা একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যাপার যে, এমন কিছু রাসূল (সা.) এর সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং সাহাবীদের মাঝে এর প্রচলন ছিলনা।
অনেকে দাবী করেন যে, রাসূল (সা.) হেরা গুহায় ধ্যান করতেন। তাদের খুব স্পষ্টভাবে জেনে রাখা প্রয়োজন যে –
  • রাসূল (সা.) হেরা গুহায় ঠিক কি করতেন, যা করতেন সেটাকে ধ্যান বলে আখ্যায়িত করা যায় কিনা এ ব্যাপারে আমাদের কোন বিস্তারিত তথ্য জানা নেই।
  • যদি বা তর্কের খাতিরে ধরেও নেই যে, রাসূল (সা.) হেরা গুহায় ধ্যান করতেন, তবে তা করতেন নব্যুয়তের আগে। নব্যুয়তের আগে তাঁর করা কোন কাজ আমাদের জন্য শরীয়াতের উৎস নয়।

৭.৩. বিদ’আতপন্থী দলগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য কোয়ান্টাম মেথডের মাঝে বিদ্যমান:

  • কুরআনের ভুল ব্যাখ্যা:জ্যোতিষশাস্ত্র যে ইসলামে অনুমোদিত তা প্রমাণ করার জন্য কুরআন অপব্যাখ্যা করার এক হীণ প্রচেষ্টা তারা চালিয়েছে তাদের ওয়েবসাইটে-পবিত্র কোরআনের সূরা জ্বীনের ২৬-২৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘গায়েব বা ভবিষ্যত শুধুমাত্র তিনিই জানেন, যদি না তিনি কাউকে জানান, যেমন তিনি রসূলদের জানিয়েছেন।’ অর্থাৎ জানার পথ খোলা আছে। তিনি যে কাউকে ইচ্ছা ভবিষ্যত জানাতে পারেন, যে কাউকে ইচ্ছা গায়েব জানাতে পারেন, এটা ওনার এখতিয়ারে। আর এটা আল্লাহর একটি আশ্বাসই যে, যে যা জানতে চায়, আল্লাহ সেই জ্ঞান তাকে দিয়ে দেন। [31]অথচ আয়াতটির সঠিক অনুবাদ হল-তিনি অদৃশ্যের জ্ঞানী, আর তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না। তবে তাঁর মনোনীত রাসূল ছাড়া। আর তিনি তখন তার সামনে ও তার পিছনে প্রহরী নিযুক্ত করেন।ইবনে তাইমিয়্যা (র) একটি চমৎকার অভিমত দান করেছেন যে বিভ্রান্ত দল গুলি যে আয়াতকে তাদের দলিল হিসেবে পেশ করে, সেই একই আয়াত থেকে তাদের ভুল তুলে ধরা যায়। কুরআনের এই অনুপম বৈশিষ্ট্যটি এক্ষেত্রে আবারো প্রমাণিত হল কারণ আল্লাহ বলে দিচ্ছেন যে মনোনীত রাসূল ছাড়া আর কেউ গায়েবের জ্ঞান জানেনা।অনুরূপভাবে তাদের ওয়েবসাইটে বলা হচ্ছে-ইসলামের স্বর্ণযুগে যত বড় বড় আরব পণ্ডিত ছিলেন – আল বেরুনী থেকে শুরু করে আল বাত্তানী, আল কিন্দি, আল জারকানি, ইবনে বাজ্জা, ইবনে তোফায়েল, ইবনে আরাবী, ইব্রাহীম আল ফাযারি, আল ফারগানি, আল খারেজমি, আল তারাবি, ওমর খৈয়াম, ইবনে ইউনুস, নাসিরুদ্দিন আল তুসী প্রমুখ ইসলামি মনীষীগণ এস্ট্রলজি চর্চা করেছেন। কারণ তাদের অনুপ্রেরণা ছিলো পবিত্র কোরআনের বাণী, “নিশ্চয়ই আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিন-রাত্রির আবর্তনে জ্ঞানীদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে। তারা দাঁড়িয়ে, বসে বা শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে। তারা আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিরহস্য নিয়ে ধ্যানে নিমগ্ন হয় এবং বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি কর নি।” [32]এখন আমরা যদি আয়াতটির পুরো অংশ দেখি, তাহলে পাই-Who remember Allah while standing or sitting or [lying] on their sides and give thought to the creation of the heavens and the earth, [saying], “Our Lord, You did not create this aimlessly; exalted are You [above such a thing]; then protect us from the punishment of the Fire.”
    অর্থ্যাৎ আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি নিবিড় পর্বেক্ষণ তাকে উদ্বুদ্ধ করে আল্লাহর কাছে জাহান্নামের শাস্তি থেকে পানাহ চাইতে যা আবারো ইসলামের Salvific Exclusivity-র বিষয়টিকে প্রতিফলিত করে।ওয়েবসাইটে আরও যে মিথ্যাচারটা করা হচ্ছে তা হল-৮৫ নং সূরাটির নাম ‘বুরুজ’ যার মানে রাশিচক্র।
    যারা তাফসীরের মূলনীতিগুলো জানেন, তাদের একথা জানা যে এটি একটি ভুল অনুবাদ। আসলে বুরুজ শব্দের অর্থ বড় তারকা।
  • জাল হাদীসের ব্যবহার:
    ওয়েবসাইটে বলা হচ্ছে-হযরত আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত আছে যে নবীজী (স) বলেছেন; সৃষ্টি সম্পর্কে এক ঘণ্টার ধ্যান ৭০ বছরের নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম। ( মেশকাত) । [33]এই হাদীসটিকে মুহাদ্দিসগণ জাল হাদীস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

৭.৪. কোয়ান্টাম মেথড শিরকের দিকে ডাকে:

আমরা আগেই বলেছি যে, সাধারণ বিদ’আতও কয়েক প্রজন্মের মাঝে কিভাবে শিরকে রূপান্তরিত হয়। কিন্তু এখানে লক্ষণীয় যে, কোয়ান্টাম মেথড কিভাবে শিরকের দিকে ডাকে তা বোঝার জন্য আপনাকে কয়েক প্রজন্ম অপেক্ষা করতে হবেনা। উপরে কোয়ান্টাম মেথডের নানা দিক সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি যাতে এর মাঝে শিরকের যে সব ধরনের উপাদান ই রয়েছে তা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা। কমাণ্ড সেন্টার, মনের শক্তি, মাটির ব্যাংক, অন্তর্গুরু, কোয়ান্টা ভঙ্গি ইত্যাদির প্রত্যেকটি বিষয়ই ছোট এবং ক্ষেত্রবিশেষে বড় শিরকে লিপ্ত করছে আমাদেরকে।

৭.৫. ইসলাম সম্পর্কে বিকৃত বা তথ্য দান করেঃ

কোয়ান্টামের ওয়েবসাইটে ধ্যানের গুণগান গাইতে গিয়ে নবী রাসূলদের নবুয়্যত প্রাপ্তির ইতিহাস নিয়ে মিথ্যাচার করা হয়েছে। যেমনঃ
ইতিহাসের দিকে তাকান, হযরত ইব্রাহীম (আ) আত্মনিমগ্ন হলেন। তাঁর মনে প্রশ্ন জাগলো-কে আমার স্রষ্টা? একদিন, দুইদিন, তিনদিন, চারদিন পাঁচদিন-তিনি তাঁর প্রশ্নের উত্তর পেলেন এবং সেই নতুন জ্ঞান তাঁর অনুসারীদের মাঝে প্রচার করলেন।
হযরত মুসা (আ) সিনাই পাহাড়ে চলে গেলেন, আত্মনিমগ্ন হলেন। স্রষ্টার সাথে তাঁর কথা হলো। স্রষ্টার বাণী লাভ করলেন এবং সেই বাণী নিয়ে এসে তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে ফেরাউনের হাত থেকে মুক্ত করলেন।
যিশুখ্রিষ্ট বা হযরত ঈসা (আ) মাঝে মাঝে পাহাড়ে চলে যেতেন। আত্মনিমগ্ন হতেন এবং স্রষ্টার বাণী এনে মানুষের মাঝে, অনুসারীদের মাঝে প্রচার করতেন।[34]
এইসব তথ্য কোন বিশুদ্ধ উৎস থেকে জানা যায় না, তাদের এই দাবীর কোন রেফারেন্স ও দেয়া নেই।
ওয়েবসাইটটিতে আরো প্রশ্ন করা হয়েছে যে গান বাজনাকে কেন উৎসাহিত করা হয়, তখন উত্তরে বলা হয়েছে যে উদ্দেশ্য সৎ হলে ইসলামে সঙ্গীত, বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার অনুমোদিত। [35] অথচ এটা সুস্পষ্ট সহীহ হাদীসের বিরোধী যেখানে বাদ্যযন্ত্রকে সম্পূর্ণ হারাম করা হয়েছে।

৮. কোয়ান্টাম মেথডের নানা দিক: আসলে তা কিভাবে ঘটে?

কমাণ্ড সেন্টার, অন্তর্গুরু – এই যে বিষয়গুলো কোয়ান্টাম মেথডের সাথে জড়িত, তার বাস্তব সংঘটনের কথা তো অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু আসলে কিভাবে এগুলো ঘটে তার ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি যদি আমরা পর্যালোচনা করি, তাহলে আমাদের জানতে হবে জ্বীনদের সম্পর্কে।
‘ Many shaykhs appear to levitate, travel huge distances in split instants of time, produce food or money from nowhere etc. Their ignorant followers believe these feats of magic to be divine miracles. But behind all of these phenomena lie the hidden and sinister world of the jinn. They are able to travel over vast distances instantaneously and enter human bodies prepared for entry. In many Christian and pagan sects people work themselves into a physical and spiritual frenzy, fall into a state of unconsciousness. In that weakened state the jinn may easily enter their bodies and cackle on their lips. This phenomenon has also been recorded by some sufi orders during their dhikr. Information about the past of an unknown person can easily be put into the subconscious mind by the jinn.’ [36]
তাহলে আমরা বুঝলাম যে মেডিটেশনের ধাপগুলো আসলে জ্বীনদের সাহায্য অর্জনের প্রক্রিয়া মাত্র। এই বিষয়ে কুরআন সুন্নাহ ভিত্তিক পড়াশোনা থাকলেই আমরা কমাণ্ড সেন্টারে অপরিচিত মানুষদের ব্যাপারে কিভাবে পুংখানুপুঙ্খ বিবরণ দেয়া হয় তা বুঝতে পারব। যাকে অন্তর্গুরু হিসেবে চাওয়া হচ্ছে তাকে কিভাবে দেখা যাবে তাও বোঝা যাবে। সব ক্ষেত্রে আসলে গুরু শয়তান!

৯. নামায ও মেডিটেশন: তুলনাযোগ্য?

আমরা দেখেছি যে বারবার নামাযের সাথে মেডিটেশনের একটা তুলনা চলে এসেছে।
যারা এর কোন প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননা তারাও জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে একে নামাযের সাথে তুলনা করেন। কিন্তু এই তুলনা আমাদের জন্য অবমাননাকর। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে-
• প্রাথমিকভাবে আমরা নামায পড়ি আল্লাহর আদেশ পালন করতে – পরকালে শাস্তির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে নামাযের ব্যাপারে।
• নামায দ্বীন ইসলামের একটি রুকন।
• নামায কোন শরীর চর্চার পদ্ধতি নয়, যদিও বা তা দৈহিক সুস্থতার জন্য সহায়ক।
অর্থ্যাৎ নামাযের সাথে মেডি্টেশনের মৌলিক পার্থক্য এর উদ্দেশ্য এবং এর উৎসে।

১০. যারা একে ইসলামে অনুমোদিত বলেন তাদের যুক্তির খন্ডন:

  •  যুক্তি ১: রাসূল (সা.) হেরা গুহায় ধ্যান করতেন।
  •  সূরা আল ইমরানের ১৯১ নং আয়াতে ধ্যানের কথা বলা হয়েছে।
  • মেডিটেশনে নামাযে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।
এই প্রত্যেকটি যুক্তিই আমরা খণ্ডন করেছি আমাদের পুরো আলোচনাতে।

১১. কেন মেডিটেশন আমাদের দেশে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে?

আমরা মুসলিমরা পরষ্পর পরষ্পরের সাথে দেখা হলেই সম্ভাষণ জানাই- আল্লাহ আপনার উপর শান্তি বর্ষণ করুন – এই বলে। আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের মাঝে যে শান্তি, তার ছোঁয়া আমাদের জীবনে পড়েনা বলেই আমরা শান্তির খোঁজে নানা পদ্ধতি অবলম্বন করছি। শান্তির খোঁজ পেতে মরিয়া হয়ে যাওয়া আর ইসলামী জ্ঞানের ব্যাপারে অসীম অজ্ঞতার সুযোগেই কোয়ান্টাম মেথড আমাদের দেশে এতটা প্রচার ও প্রসার লাভ করেছে।

১২. আমাদের করণীয়:

এক কথায় যদি আমাদের করণীয় বলতে হয়, তবে তা হল দ্বীন শিক্ষা করা। এক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে যে দ্বীন শিক্ষার রাস্তা কোন কালেই মসৃণ ছিলনা। তাবে-তাবেঈদের মত আমাদের হয়তোবা হাদীসের বিশুদ্ধতা যাচাই করতে উটের পিঠে চড়ে মাসের পর মাস ভ্রমণ করতে হবেনা, তবে আজকের অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে Click করে ইসলামী জ্ঞান অর্জন করার আগে অবশ্যই যাচাই করে নিতে হবে উৎসটা সহীহ কিনা। আলেমের অধীনে Systematic উপায়ে দ্বীন শিক্ষার কোন বিকল্প কখনও ছিলনা, এখনও নেই। আমরা যেন মনে রাখি-
বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই আল্লাহকে ভয় করে। [37]
“আল্লাহ পাক যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন।” [38]

১৩. উপসংহার:

আমরা ইচ্ছা অনিচ্ছায় যতই ভুলে থাকার চেষ্টা করিনা কেন অথবা ভুলে থাকিনা কেন, সত্য হল আমাদের সবাইকে যে কোন দিন আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে এবং পুংখানুপুংখ হিসাব দিতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে যে assignment দিয়ে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন(তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা) তার বৈশিষ্ট্য হল “প্রশ্ন-উত্তর” সবই জানা। যা শুধু জানা নেই তা হল Submission Deadline । মালাকুল মউত আসার পর অসহায় আফসোস যেন না করতে হয়, সেজন্য আমাদের খুব দ্রুত দ্বীন শিক্ষায় মনোযোগী হওয়া উচিত। খুব শক্তিশালী ইসলামিক জ্ঞানের ভিত্তি থাকলে, কোয়ান্টাম মেথডের মত আর কোন শিরকি পদ্ধতি আমাদের ঈমান নষ্ট করতে পারবেনা ইনশা’আল্লাহ্।
আল্লাহ আমাদেরকে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার তৌফিক দান করুন।

সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি:

  • ১. কালিমা তায়্যিবা (http://www.oiep.org/books_archive_tawhid.php)
  • ২. হাদীসের নামে জালিয়াতি (ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর)
  • ৩.Text book of Aqidaah 101 of Islamic Online University (BAIS)

ফুটনোটসমূহ:



  • [25]এ ব্যাপারে কোয়ান্টামের বক্তব্য: “মনের এই ধ্যানাবস্থার শক্তিকে প্রয়োগ করেই প্রাচ্যের সাধক দরবেশ ঋষিরা একদিন আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। ইচ্ছা করেছেন-ঘটনা ঘটেছে। ইচ্ছা করেছেন-মানুষ রোগমুক্ত হয়েছে।” – যা এই লেখার প্রথম পর্বে উদ্ধৃত হয়েছে!
  • [26]এ ব্যাপারে কোয়ান্টামের বক্তব্য:অন্তর্গুরু প্রথমে সকল অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তির জন্য ‘সাইকিক বর্ম প্রদান করেন যা অতীতের সকল অশুভ প্রভাব নিষ্ক্রিয় করে দেয় এবং ভবিষ্যতের এ ধরণের প্রভাব থেকে নিরাপদ রাখে। http://quantummethod.org.bd/book/hajaro-prosner-jobab-1/12906
  • [27] http://www.centralyoga.org/quantum.htm
    এখানে আবারও সর্বেশ্বরবাদ” নামক “কুফর” এবং “শিরক” উঠে এসেছে – সৃষ্টি ও স্রষ্টা মিলেমিশে একাকার – deification of humans AND humanization of the Deity!
  • [28](W. L. Resse, Dictionary of Philosophy and Religion, (New Jersey: Humanities Press, 1980), p.393).
  • [29]Fundamental of Tawheed by Dr Abu Aminah Bilal Philips: p-160-161
  • [30]Fundamental of Tawheed by Dr Abu Aminah Bilal Philips: p-162
  • [31]http://quantummethod.org.bd/book/hajaro-prosner-jobab-1/12924
  • [32]http://quantummethod.org.bd/book/hajaro-prosner-jobab-1/12924
  • [33]http://quantummethod.org.bd/book/hajaro-prosner-jobab-1/12865
  • [34] http://quantummethod.org.bd/book/hajaro-prosner-jobab-1/12870
  • [35] http://quantummethod.org.bd/book/hajaro-prosner-jobab-1/12870
  • [36]  Fundamental of Tawheed by Dr. Abu Aminah Bilal Philips: p-104-107
  • [37] সূরা ফাতির ৩৫:২৮
  • [38] বুখারী(৩১১৬) মুসলিম (১০৩৭)
কোয়ান্টাম মেথড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন

http://quantummethodbd.wordpress.com

কোয়ান্টাম মেথডঃ আমাদেরকে কোন পথে ডাকছে-২



১ম পর্বের লিংক

৫. ইসলামের কিছু মৌলিক বিষয়ের পর্যালোচনা:

ইসলামের দৃষ্টিতে কোয়ান্টাম মেথডের অবস্থান বিবেচনা করার আগে আমরা ইসলামের কিছু মূলনীতি বা পরিভাষা সম্পর্কে আলোচনা করে নেব – যে বিষয়গুলোর ব্যাপারে ধোঁয়াশাচ্ছন্ন ধারণা নিয়ে আমাদের বক্তব্য বোঝা কঠিন হয়ে যাবে।(আমাদের দেশের খুব কম মানুষেরই এই বিষয়গুলো নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা আছে)
৫.১.বিদ’আত:
৫.১.১. বিদ’আত কি?
আল্লামা ইব্রাহীম ইবনু মুসা আশ-শাতিবী বলেন: বিদআত বলতে বুঝায় দ্বীনের মধ্যে শরীয়াতের পদ্ধতির তূল্য কোন নব-আবিষ্কৃত উদ্ভাবিত তরীকা বা পদ্ধতি, মহান আল্লাহর অতিরিক্ত ইবাদাতের আশায় যে পদ্ধতির অনুসরণ করা হয়।’ [18]
তাহলে আমরা বুঝলাম যে, বিদ’আত মূলত বর্জনের সুন্নাতের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং ইবাদাতের উদ্দীপনাতেই এর সৃষ্টি। এ ব্যাপারে ইসলামের মূলনীতিটি হচ্ছে-
  • ইবাদাতের ক্ষেত্রে সব কিছু হারাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা অনুমোদন দিয়েছেন তা ব্যতীত।
  • দুনিয়াবী ব্যাপারে অন্য সব কিছু হালাল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা নিষিদ্ধ করেছেন তা ব্যতীত।
অজ্ঞতার বশে অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন আল্লাহর রাসূল প্লেনে চড়েননি, তাহলে কি প্লেনে চড়া বিদআত? আমাদের দেখতে হবে আল্লাহর রাসূলের এই বর্জন কি ইচ্ছাকৃত নাকি অনিইচ্ছাকৃত? বিদ’আত সবসময় ইচ্ছাকৃত বর্জন এবং অবশ্যই ইবাদাতের সাথে সংশ্লিষ্ট।

৫.১.২. বিদ’আত চেনার উপায়:

উপরোক্ত মূলনীতির আলোকে আমরা বলতে পারি, কোন কিছুকে বিদ’আত হিসেবে চিহ্নিত করার পূর্বে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে-
  •  প্রথমেই দেখতে হবে তা ইবাদাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কিনা। হতে পারে তা কোন কথা, কাজ বা বিশ্বাস।
  •  ইবাদাতের সাথে সংশ্লিষ্ট হলে দেখতে হবে আল্লাহর রাসূল ও তাঁর সাহাবীরা এই পদ্ধতি সম্পর্কে জানতেন কিনা।
  • যদি না জেনে থাকেন, তবে তাঁর উৎস ওহী নয়। আর ইসলামে সকল ইবাদাতের উৎস একমাত্র ওহী।
  •  যদি জেনে থাকেন, তবে তাঁরা তার উপর আমল করেছিলেন কিনা। যদি না করে থাকেন, তবে সেটাই উচিত সিদ্ধান্ত, কারণ তাঁরাই শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম এবং আমাদের অনুসরণীয় আদর্শ।

৫.১.৩. বিদ’আত বর্জনের ব্যাপারে আমরা এত সংবেদনশীল কেন?

• ইসলাম আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য একমাত্র জীবনব্যবস্থা:
আল্লাহ বলেন: “যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত।” (আল ইমরান ৩:৮৫)
এই চিন্তাটা ‘আমাদের বিবেক বুদ্ধি’ দ্বারা খুব সাম্প্রদায়িক এবং অসহিষ্ণু মনে হলেও করার কিছু নেই।কারণ ইসলামের এই ‘Salvific Exclusivity’( পারলৌকিক মুক্তি শুধই ইসলামের প্রকৃত অনুসারীদের জন্য) তে বিশ্বাস করা আমাদের ঈমানের একটি অংশ। “আসলে সকল ধর্মের মর্মকথা একই – পার্থক্য শুধু অভিব্যক্তিতে বা বাহ্যিক প্রকাশে বা rituals-এ” – এই কথা যদি সত্যি হত, তবে মুহাম্মদ (সা.)-এঁর মিশনের কোন প্রয়োজনই ছিল না । মক্কার পৌত্তলিকরা সবাই আল্লাহ মানতো – আবু জাহেল, আবু লাহাব সবাই আল্লাহয় বিশ্বাস করতো – কথায় কথায় আল্লাহকে নিয়ে শপথ করতো ৷ কিন্তু তবু আমরা তাদের কাফির ও মুশরিক বলে থাকি এবং কাফির ও মুশরিকের সাথে কিছুতেই মুসলিমদের প্রেম-প্রীতি, সহ-অবস্থান, সামাজিকতা বা নির্বিচার মেলামেশা যে সম্ভব নয়, সে কথা পবিত্র কুর’আনের বহু আয়াতে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে। রাসূল (সা.)- এঁর বহু হাদীসেও মুসলিমদের সাবধান করে দেওয়া হয়েছে। আর সেজন্যই, উদাহরণস্বরূপ, জন্মদিন বা Valentine Day উদযাপন কখনই মুসলিম সংস্কৃতির অংশ হতে পারেনা।
এজন্য কোন কিছুকে ইবাদাত হিসেবে গ্রহণ করার আগে একজন মুসলিম সম্ভাব্য সকল উপায়ে তা যাচাই বাছাই করে নেন; পরকালের ব্যাপারে “হলেও হতে পারে” জাতীয় অনিশ্চয়তাসূচক কোন মানসিকতা তার মাঝে থাকেনা। আর কোন মতবাদ যদি তাকে এই দৃষ্টিভঙ্গী গ্রহণ করতে বলে যে, সকল ধর্মই এক বা কোন কাজ করতে বলে যা অন্য কোন ধর্মের ইবাদাতের অংশ হিসেবে প্রমাণিত বা কোন কাজ যে অনুমোদিত তা বোঝানোর জন্য অন্য কোন ধর্মগ্রন্থ থেকে reference দেয়া হয় বা অন্য কোন ধর্মের প্রবাদপুরুষ কাউকে example হিসেবে দেখানো হয়, তবে তা নি:সন্দেহে আপনাকে পথভ্রষ্টতার দিকে ডাকছে।
• বিদআত কুফরের দরজা খুলে দেয়:
ইসলাম একটি পূর্ণাংগ এবং ত্রুটিমুক্ত জীবনব্যবস্থা( complete and perfect)এতে সংযোজন বা বিয়োজনের কোন অবকাশ নেই। রাসূল (সা.) বলেন: সত্যতম বাণী আল্লাহর কিতাব, সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মাদের আদর্শ, সবচেয়ে খারাপ বিষয় হল নতুন উদ্ভাবিত বিষয়। প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা। [19]
তাই কেউ যদি দাবি করেন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য এমন কোন কাজ বা পন্থা রয়েছে যা তার মস্তিষ্কপ্রসূত, তবে তিনি প্রকারান্তরে দাবী করছেন-
# ওহী অসম্পূর্ণ, রাসূল (সা.)আমাদেরকে যা জানিয়েছেন, তার চেয়ে উত্তম কিছু তিনি আবিষ্কার করেছেন।
অথবা
# রাসূল (সা.)তার দায়িত্ব ঠিকমত পালন করেননি।
আমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছি যে, উপরোক্ত দুটি চিন্তার উভয়টি বা যে কোন একটি আমাদেরকে ইসলামের বাইরে নিয়ে যায়। রাসূল (সা.) বলেন:
যা কিছু কাউকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে অথবা আগুন থেকে দূরবর্তী করে তার এমন কিছুই নেই যা কিনা তোমাদের জন্য স্পষ্ট করে বর্ণনা করা হয়নি। [20]
• বিদআত শিরকের দরজা খুলে দেয়:
মূর্তিপূজা যে শিরকের সবচেয়ে প্রকাশ্য এবং জঘন্য রূপ এ ব্যাপারটি সর্বজনস্বীকৃত।আল্লাহ পাক আল কুর’আনে নূহের জাতির বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন সূরা নূহের ২৩ নম্বর আয়াতে। তাতে নূহের (আ)জাতির যে উপাস্যগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা তাদের পূর্ববর্তী যুগের সৎকর্মশীলদের নাম। কিন্তু তাদের পূজা কিভাবে শুরু হল সেটা আমরা জানতে পারি নিচের হাদীস থেকে। একটু মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করি-
হযরত মুহাম্মাদ ইবনে কায়েস (রহ.) বলেন যে, ঐ লোকগুলো ছিলেন আল্লাহর ইবাদাতকারী, দ্বীনদার,আল্লাহ ওয়ালা ও সৎ। তাঁরা হযরত আদম (আঃ) ও নূহ (আ) এর ছিলেন সত্য অনুসারী,যাদের অনুসরণ অন্য লোকেরাও করতো।যখন তারা মারা গেলেন। তখন তাদের অনুসারীরা পরস্পর বলাবলি করলোঃ ‘যদি আমরা এদের প্রতিমূর্তি তৈরী করে নেই, তবে ইবাদাতে আমাদের ভালভাবে মন বসবে এবং এদের প্রতিমূর্তি দেখে আমাদের ইবাদাতে আগ্রহ বাড়বে।’ সুতরাং তারা তাই করল। অতঃপর যখন এই লোকগুলোও মারা গেল এবং তাদের বংশধরদের আগমণ ঘটল, তখন শয়তান তাদের কাছে এসে বললোঃ’তোমাদের পূর্বপুরুষরাতো ঐ বু্যুর্গ ব্যক্তিদের পূজা করত এবং তাদের কাছে বৃষ্টি ইত্যাদির জন্য প্রার্থনা করত। সুতরাং তোমরাও তাই করো।’ তারা তখন নিয়মিতভাবে ঐ মহান ব্যক্তিদের পূজা শুরু করে দিল। [21]
উপরোক্ত ঘটনা থেকে নিচের বিষয় গুলো লক্ষণীয়-
  • প্রথমে নূহের জাতির জন্য স্মারক বানানোর পুরো ব্যাপারটির উদ্দেশ্যই ছিল সৎ-আল্লাহর ইবাদাতে মনোযোগ বৃদ্ধি। কিন্তু এই পদ্ধতিটি ঐশী বাণী দ্বারা সমর্থিত ছিলনা।ইসলামী পরিভাষায় একে আমরা স্বচ্ছন্দে বিদ’আত হিসেবে অভিহিত করতে পারি।
  •  (সাধারণ) বিদ’আত রাতারাতি শিরকে পরিণত হয়না।কয়েক প্রজন্ম সময় লাগে।
  •  শয়তান আপাতদৃষ্টিতে ভাল পরামর্শ ই দিয়ে থাকে। ঐশী জ্ঞানের সাহায্য ছাড়া তার কুটকৌশল বোঝা কঠিন।
৫.১.৪. বিদআতপন্থী দলের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
  • Out of the Context কুরআনের আয়াত ব্যবহার:কুরআন কোন কালেই অর্থহীণ শব্দসমষ্টি বা ধাঁধাঁ ছিলনা যে তাকে ইচ্ছামত ব্যাখ্যা করা যাবে। এর একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য এই যে একে পূর্ণাংগ একটি বই (সুন্নাতকে মানদণ্ড ধরে, যার একটি অংশ অপর অংশকে ব্যাখ্যা করে) হিসেবে বিবেচনা না করে যদি বিচ্ছিন্নভাবে নেয়া হয়, তবে সকল বিভ্রান্ত আক্বীদার মানুষই এখান থেকে দলিল দেখাতে পারবে। তাই তাফসীরের কিছু অবশ্য অনুসরণীয় মূলনীতি রয়েছে যার আলোকে কুর’আনকে ব্যাখ্যা করতে হয়। বিদ’আতপন্থী দলগুলোর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য এই যে, তারা সবসময় কুর’আনের একটি আয়াত বা তার অংশবিশেষকে বিচ্ছিন্নভাবে (তাফসীরের মূলনীতি গুলো না মেনেই) মনগড়াভাবে উপস্থাপন করে, যাতে তা তাদের পক্ষে দলিল হিসেবে কাজ করে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা ইসলামের মূল বাণীর সাথে রীতিমত সাংঘর্ষিক।
  • • জাল হাদীসের ব্যবহার:রাসূল (সা) এর সুন্নাত ওহীর একটি রূপ। তাই একে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহর ইচ্ছায় মুসলিমগণ এমন সূক্ষ্ম, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অবলম্বন করেছেন যা অতুলনীয়। যুগে যুগে এই পদ্ধতি অবলম্বন করে, যে কোন যুগেই একজন মানুষ জাল ও সহীহ হাদীসের মাঝে পার্থক্য করতে পারবে। কিন্তু বিদ’আতপন্থী দলগুলোর এটা স্বভাবজাত যে, তারা সবসময় সহীহ হাদীসগুলোকে পাশ কাটিয়ে জাল হাদীসকে তাদের দলীল হিসেবে ব্যবহার করে।
৫.২. আল্লাহর অবস্থান নিয়ে ইসলামের বক্তব্য:
লোকমুখে চালু আছে যে, আল্লাহ পাক সর্বত্র বিরাজমান। তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতা সর্বত্র পরিব্যাপ্ত – এটা সঠিক। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁর সত্তা তাঁর সৃষ্টির সাথে মিশে আছে। বরং সত্তাগত ভাবে তিনি সৃষ্টি থেকে পৃথক এবং তিনি সাত আসমানের ওপরে আছেন এবং তিনি সৃষ্টির উর্দ্ধে অবস্থানকারী। অতএব তিনি তাঁর সত্তার দ্বারা সর্বত্র বিরাজমান নন, আর মানুষের যুক্তিও তাঁর সর্বত্র বিরাজমান হওয়াকে প্রত্যাখ্যান করে, কেননা যদি তিনি সর্বত্র থাকেন, তবে অর্থ এই দাঁড়ায় যে যাবতীয় আবর্জনাতেও তাঁকে পাওয়া যাবে, কিন্তু এটা তাঁর পবিত্রতার ধারণার বিরোধী, উপরন্তু আল্লাহ পাক তাঁর কিতাবে কিংবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হাদীসে কোথাও উল্লেখ করেননি যে তিনি সর্বত্র বিরাজমান। বরং তাঁর অবস্থান সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি আসমানে, অর্থাৎ সাত আসমানের উর্দ্ধে অবস্থিত, আর এটাই সঠিক বিশ্বাস। এর সপক্ষে কুরআন ও হাদীসে বহু দলীল রয়েছে, আমরা এখানে দুএকটি উল্লেখ করব।
আল্লাহ পাক বলেন: “তোমরা কি নিরাপদ বোধ করছ যে যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের সহ ভূমিকে ধসিয়ে দেবেন ফলে আকস্মিকভাবে তা প্রকম্পিত হতে থাকবে?” [22]
হাদীসে বর্ণিত যে আল্লাহর রাসূল এক দাসীকে প্রশ্ন করলেন যে “আল্লাহ কোথায়?” সে জবাব দিল “আসমানে।” এরপর তিনি প্রশ্ন করলেন “আমি কে?” দাসীটি বলল: “আপনি আল্লাহর রাসূল।” ফলে নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাসীটিকে মুমিন হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন। [23]
৫.৩.ইসলামে সূফীবাদের অবস্থান:
পার্থিব লোভ লালসা ও ভোগ বিলাস যথাসম্ভব পরিত্যাগ করা ইসলাম ধর্মের একটি মৌলিক শিক্ষানীতি হলেও সন্ন্যাসবাদের কোন স্থান এখানে নেই। আজকের খ্রিষ্টধর্মে এর বহুল প্রচার থাকলেও এটা আসলে কোন ঐশী নির্দেশ নয়। ধার্মিক খ্রিষ্টানগণ যখন অনুভব করলেন বিবাহ ও ঘরসংসার করে যথেষ্ট আখিরাতমুখিতা অর্জন করা যায়না, তখন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য মানবীয় বুদ্ধি বিবেক খাটিয়ে এক নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন যার সাফল্য সহজেই অনুমেয় যখন আমরা পাদ্রীদের দ্বারা শিশুদের যৌন হয়রানির খবর দেখি। ইসলামের মাঝেও একদল মানুষ অনুরূপ নতুন পদ্ধতির সূচনা করেন যাদের আক্বীদা, কাযযকলাপ কোন কিছুই শরীয়াহ সম্মত নয়। যেমনঃ সুফীবাদের অনুসারী ও অন্যান্য কতিপয় পথভ্রষ্ট দল সৃষ্টির সাপেক্ষে আল্লাহ পাকের সত্তা ও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কিছু ভ্রান্ত ও কদর্য ধারণা পোষণ করে থাকে আর এ সম্পর্কে তাদের কিছু বাতিল পরিভাষা আছে।
হুলুল: সুফী ও অন্যান্য পথভ্রষ্ট দলের পরিভাষায় হুলুল সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টার অবস্থান – গোটা সৃষ্টিজগতে কিংবা এর কোন অংশে।গোটা সৃষ্টিজগতে স্রষ্টার অবস্থানের মতবাদ এই যে স্রষ্টা সৃষ্টি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া সত্ত্বেও সর্বত্র বিরাজমান।
ইত্তিহাদ: দুটো বস্তু এক হওয়াকে আরবীতে ইত্তিহাদ বলা হয়। পথভ্রষ্টদের পরিভাষায় ইত্তিহাদ হল এই ধারণা যে স্রষ্টা ও সৃষ্টি অথবা এর কোন অংশ প্রকৃতপক্ষে একই সত্তা।স্রষ্টা ও গোটা সৃষ্টি একই সত্তা হওয়ার মতবাদকে ‘ওয়াহদাতুল উজুদ’(وَحْدَة الوُجُود) বলা হয়। যারা স্রষ্টা ও সৃষ্টির কোন অংশ একই সত্তা হওয়ায় বিশ্বাসী তারা ধারণা করে যে নবী, সৎকর্মশীল, দার্শনিক প্রকৃতির লোকেরা স্রষ্টারই অংশ! এরা নোংরা বস্তুকে স্রষ্টার অংশ হওয়া থেকে বাদ দেয়। ইবনুল ফারিদ, ইবনু আরাবী প্রমুখ এই মতবাদের অনুসারী ছিল।
হুলুল ও ইত্তিহাদের ধারণা সুস্পষ্ট কুফর ও ধর্মদ্রোহিতা আর এর মধ্যে কদর্যতার দিক থেকে ইত্তিহাদ হুলুলের চেয়েও মারাত্মক, কেননা তা সৃষ্টি ও স্রষ্টাকে এক সত্তায় পরিণত করেছে।
৫.৪.ইসলামে জোতিষশাস্ত্রের অবস্থান:
আল-কুরআন এবং হাদীসে দিনের আলোর মত স্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে গায়েবের জ্ঞান বা অদৃশ্যের জ্ঞান আল্লাহ পাকের একচ্ছত্র বৈশিষ্ট্য, এতে কারও কোন অংশীদারিত্ব নেই। গায়েবের জ্ঞানের মধ্যে রয়েছে এমন সবকিছু যা মানুষের ইন্দ্রিয়সমূহের দ্বারা জানা যায় না। সেটা হতে পারে অতীতের ঘটনা, কিংবা ভবিষ্যতের ঘটনা কিংবা দূরত্বের কারণে মানুষের জ্ঞান থেকে অন্তরালে থাকা কিছু যেমন জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদি। এর মধ্যে কিছু বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহ পাক চাইলে তাঁর সৃষ্টির কোন অংশকে জানাতে পারেন, যেমন তিনি নবীর(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মারফত আমাদেরকে জান্নাত জাহান্নামের বিবরণ জানিয়েছেন। তেমনি আল্লাহ পাক পৃথিবীতে মানুষের রিযিকের বিলিবন্টন সংক্রান্ত তথ্য ফেরেশতাগণের নিকট প্রকাশ করলে তাঁরা তা জানতে পারেন। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে নবী-রাসূল কিংবা ফেরেশতারা গায়েব জানেন, বরং গায়েবের জ্ঞানের একাংশ আল্লাহ পাক তাদেরকে জানালে তবেই কেবল তারা তা জানতে পারে। আর তাই এটি ইসলামী আকীদার একটি অন্যতম মূলনীতি যে গায়েবের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ পাকের বৈশিষ্ট্য, এই বৈশিষ্ট্য কারও প্রতি আরোপ করলে তাকে আল্লাহর সমকক্ষ করা হয়।
জ্যোতিষশাস্ত্র, রাশিচক্র এবং অনুরূপ ভ্রান্ত বিদ্যাগুলোর মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থা ও অবস্থান দেখে কোন ঘটনা, ভাগ্য বা ভবিষ্যত নির্ণয় করা। এই বিদ্যাচর্চার দুটি তাওহীদ বিরোধী দিক রয়েছে:
প্রথমত, এই ধারণা করা যে গ্রহ-নক্ষত্র মহাবিশ্বের ঘটনাবলীকে সৃষ্টি, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে, এই ধারণা মূলত রুবুবিয়্যাতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে শিরক করার সমতুল্য।
দ্বিতীয়ত, গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান থেকে মানুষের ভাগ্য ও ভবিষ্যত নির্ণয়ের চেষ্টা, যা কিনা আল্লাহ পাকের অদৃশ্যের জ্ঞানের একচ্ছত্র বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে অপরকে শরীক করার শামিল।
৫.৫. জ্বীন জগত:
সাধু সন্ন্যাসী, ভাগ্যগণক, যাদুটোনা চর্চাকারীদের দ্বারা সংঘটিত নানা অলোকিক ঘটনা দেখে বহু মানুষ তাদেরকে আল্লাহর প্রিয় পাত্র ভাবা শুরু করে এবং তাদের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধার আতিশয্যে তারা যা বলে তাই করতে থাকে। পুরো ব্যাপারটিই ঘটে জ্বীনজগত সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতার কারণে। মানুষের মাঝে একদল লোক যাদুটোনা, ভাগ্যগণনা জাতীয় বাতিল ও নিষিদ্ধ বিষয় চর্চার জন্য জ্বীনদের সাহায্য নেয়, তারা শয়তান জ্বীনদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য নানাপ্রকার শিরকী ও কুফরী কাজ করে, জ্বীনদের ইবাদত করে, ফলে শয়তান জ্বীনেরা তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে তাদেরকে এই সমস্ত নিষিদ্ধ বিষয় চর্চায় সাহায্য করে। [24]

ফুটনোটসমূহ:

  • [18] শাতিবী, আল-ই’তিসাম ১/৫০
  • [19] মুসলিম ২/৫৯৩
  • [20] তাবারানীর আল মুজাম আল কাবীর।আলবানীর (র) এর মতে সহীহ
  • [21] বুখারী (৪৯২০) তাফসীর ইবনে কাসীর (১৮/১৪২-১৪৪)
  • [22] সুরা মূলকঃ ১৬
  • [23] মুসলিম (৫৩৭)
  • [24] আর যেদিন আল্লাহ তাদের সবাইকে সমবেত করবেন। সেদিন বলবেন, “হে জিনের দল, মানুষের অনেককে তোমরা বিভ্রান্ত করেছিলে” এবং মানুষদের মধ্য থেকে তাদের সঙ্গীরা বলবে, “হে আমাদের রব, আমরা একে অপরের দ্বারা লাভবান হয়েছি এবং আমরা পৌঁছে গিয়েছি সেই সময়ে, যা আপনি আমাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন।” তিনি বলবেন, “আগুন তোমাদের ঠিকানা, তোমরা সেখানে স্থায়ী হবে। তবে আল্লাহ যা চান তা ব্যতীত।” নিশ্চয় তোমার রব বিজ্ঞ, সর্বজ্ঞ। (সূরা আল আনআম, ৬ : ১২৮)

Wednesday, August 7, 2019

কান নিয়েছে চিলে

আপা, ও আপা!
রহিমা বুয়া বার তিনেক ডাকার পর হুঁশ ফিরলো ডঃ ফিরোজার। মগ্ন হয়ে একটা রিসার্চ আর্টিকেল পড়ছিলেন। খুবই ইন্টারেস্টিং আর্টিকেলটা। ঢাকা বিশ্যবিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ডঃ ফিরোজা। দেশ বিদেশের বিখ্যাত জার্নালে তার পেপার নিয়মিত পাবলিশ হয়। তবে তিনি বিশ্বাস করেন এর অনেকটুকু অবদান রহিমা বুয়ার। সে আছে বলেই বিশাল একটা সময় রিসার্চের পিছনে দিতে পারেন তিনি। নিজের মত করে গুছিয়ে কাজ করে সে, খুব কমই তার কাজের খবরদারী করতে হয়। আজকের দিনে ঢাকা শহরে তার মত কাজের বুয়া থাকা আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার শামিল। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হল ফিরোজা যখন পড়াশোনার কাজ করেন তখন সেটা বুঝতে পারে রহিমা বুয়া, পারতপক্ষে ডিস্টার্ব করে না তাকে। তাই হঠাৎ তার এই ডাকে বেশ অবাকই হলেন তিনি।
কী ব্যাপার বুয়া?
একটা কথা জিগানোর জন্য আইছি।
বলো!
আমাগো বস্তিতে সবাই কইতেসে, আসছে জুম্মাবারে বাসার বেসিন দিয়া হগগলে এক লগে ব্লিচিং পাউডার ঢাইলা দিলে বলে সব ডেঙ্গু মশা যাইবো গা! যারা নানান বাড়িত কাম করে, তারা করবো এই কাম বলাবলি করতাসিলো। হুইনা আমার কেমুন য্যান লাগলো। টুনির বাপ গত জুম্মায় মসজিদ থন হুইন্যা আইসে যে ইমাম সাব কইসে চট কইরা সব কথা য্যান আমরা বিশ্বাস না করি। আল্লাহর মানা আসে। এই ছেলেধরা আইসা বাচ্চা লইয়া যাইবো এইটাও নাকি ভুয়া কথা। তাই ভাবলাম আপনারে জিগাই! এই কথাটা কি ঠিক আপা?
এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে গেলো রহিমা বুয়া আর কথাগুলো শুনে থ হয়ে রইলেন ফিরোজা। ব্লিচিং পাউডার দিলে এডিস মশা মরবে কিভাবে এটার লার্ভা তো থাকে পরিষ্কার স্বচ্ছ পানিতে! এভাবে বেসিন দিয়ে সবাই ব্লিচিং পাউডার ঢেলে দিলেতো সেটা ড্রেন দিয়ে ওয়াসার পানির লাইনের সাথে মিশে যেতে পারে, নদী নালা গুলোর মাঝে গিয়ে পড়লে মাছ, জলজ নানা প্রাণীর মারাত্মক সর্বনাশ হতে পারে। এটাতো চরম আত্মঘাতী একটা কাজ হতে যাচ্ছে। কে রটাচ্ছে এসব গুজব! তাদের উদ্দেশ্যই বা কী!
রহিমা বুয়াকে এত বিস্তারিত না বলে খালি বললেন ভুলেও এই কাজ করবে না। একদম ভুল কাজ এটা। ডেঙ্গু মশা জন্মায় পরিষ্কার পানিতে, হারপিক দিয়ে এটা মরে না, বরং এভাবে আমাদের খাওয়ার পানিতে হারপিক মিশে যেতে পারে।
তার আঁতকে ওঠা চেহারা আর এই ব্যাখ্যা শুনেই কনভিন্সড রহিমা বুয়া। জানালো এখুনি গিয়ে বস্তির অন্যান্য মানুষদের এটা জানিয়ে দিবে সে।
রহিমা বুয়া চলে যাওয়ার পরও চরম অস্বস্তিটা যাচ্ছিলো না ডঃ ফিরোজার। হাতে মোবাইল তুলে নিলেন। দুদিন পর একটা কনফারেন্সে ফুল পেপার সাবমিশনের ডেডলাইন আছে বিধায় অনলাইন জগত থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন। বড্ড সময় নষ্ট হয় একবার ফেসবুক বা হোয়াটস অ্যাপে ঢুকলে। তবে এটার সমস্যা হচ্ছে একদমই কিছু জানাও যায় না তাছাড়া। তাই ভাবলেন একটু জানা দরকার কী ঘটছে বাইরের দুনিয়ায়। ফিরোজা বেশ কিছু হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের মেম্বার , কিন্তু অনেক মেসেজ আসে দেখে নোটিফিকেশন অফ করে রেখেছেন। সেগুলো চেক করতে গিয়ে বিস্ময়ে থ হয়ে গেলেন-সবগুলো গ্রুপেই দেখি এই আহ্বান ওয়ালা মেসেজ এসেছে! আসছে জুম্মাবারে সবাই একসাথে.........
কিছুক্ষণ অবাক হয়ে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে রইলেন ফিরোজা। আসলেই কী এই মেসেজগুলো তার ডাক্তার, স্কুলের শিক্ষিকা ফ্রেণ্ডদের দ্বারা ফরওয়ার্ডেড হয়েছে? এদেরকে কি আদৌ শিক্ষিত বলা যায়?
একটা বিশা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন ফিরোজা। সেই পুরান কথাটাই আবার যেন নতুন করে উপলব্ধি করলেন- আল্লাহর কিতাবের জ্ঞান মানুষকে এমন একটা ‘সেন্স’ দেয় যেটা দুনিয়ার হাজারটা ডিগ্রী দিতে পারে না। ইমাম সাহেব বলেছেন যে রহিমা বুয়ার যে আক্কেল আছে সেটা তার তথাকথিত শিক্ষিত ফ্রেণ্ডদের নাই। মনে পড়লো সূরা হুজুরাতের আয়াতটা-
মুমিনগণ! যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও। (৪৯:৬)
কী গভীর একটা কথা। আমরা একবার যদি মেনে চলতাম তাহলে এভাবে কি যাচাই না করে স্রেফ শেয়ার অপশনে ক্লিক করে দিতাম? ডঃ ফিরোজার আরো মনে পড়লো-

অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে (১৬:৪৩)

যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার পিছনে পড়ো না। নিশ্চয় কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে। (১৭:৩৬)

এ বিষয়ে হাদীসও আছে-

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কোন লোকের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে (সত্যতা যাচাই না করে) তা-ই বলে বেড়ায়। (মুসলিমঃ৫)
আসলে অনলাইন দুনিয়াটাই বোধহয় এমন। খুব সহজে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় এই ব্যাপারটার একটা উন্মাদনা আছে মনে হয়। তাই চিন্তা ভাবনা না করেই ক্লিক করতে থাকি আমরা। কিন্তু যার দ্বীনের বুঝ আছে সেতো বুঝবে যে প্রতিটা ক্লিকের জন্যই সে দায়িত্বশীল। এসব কাজে সময় ব্যয় করি বলেই অনেক সুন্নাতী আমল করি না যা হয়তো আসলেই আমাদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। সহীহ হাদীস থেকে আমরা একটা দুআ জানতে পারি যেটা সকাল বিকাল তিনবার যদি আমরা নিয়ম করে পড়ি তাহলে ডেংগু মশা সহ যাবতীয় ক্ষতিকর প্রাণী থেকে মুক্ত থাকতে পারবো ইনশাল্লাহ। হাদীসটা হচ্ছে
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন “যে ব্যক্তি সকালে তিনবার ও সন্ধ্যায় তিন বার এই দুআ পড়বে, কোনো কিছুই ঐ ব্যক্তির ক্ষতি করতে পারবেনা”।
بِسْمِ اللهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ العَلِيمُ
আরবী উচ্চারণঃ বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা ইয়াদুররু মা আ’সমিহী শাই’উন ফিল আরদি, ওয়ালা ফিস সামা-য়ী, ওয়াহুয়াস সামীউ’ল আ’লীম। (৩ বার)।
বাংলা অর্থঃ আমি সেই আল্লাহর নামে শুরু করছি, যার নামে শুরু করলে আসমান ও যমীনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারেনা। প্রকৃতপক্ষে তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী। (৩ বার)।
আবু দাউদ, তিরমিযী ৩৩৮৮, ইবনে মাজাহ ৩৮৬৯, মুসনাদে আহমাদ ৪৪৮, ৫২৯, হিসনুল মুসলিমঃ পৃষ্ঠা ১৩৮, শেখ আলবানীর মতে হাদীসটি হাসান।
ডঃ ফিরোজা এটা সবসময় আমল করার চেষ্টা করেন, ছেলেমেয়েদের শিখিয়েছেন, সাথে নিচের কাজটাও করেন নিয়মিত। বাসায় ঢুকে, ভার্সিটি যেয়ে নিচের দুআটা পড়েন-
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন স্থানে অবতরণ করে বলে, ‘আউযুবি কালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মা-তি মিন শার্‌রি মা খালাক্ব’ (অর্থাৎ, আমি আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ বাক্য দ্বারা তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় কামনা করছি)। কোন কিছুই তাঁর ক্ষতি করতে পারবে না, এ স্থান ত্যাগ না করা পর্যন্ত।” (মুসলিম ২৭০৮)
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সিদ্ধান্ত নিলেন ডঃ ফিরোজা-আরো বেশী সময় দাওয়াতী কাজে ব্যয় করতে হবে। অবশ্যই যে রিসার্চগুলো তিনি করেন, সেগুলোকে ইবাদাত মনে করেন বলেই করেন কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মাঝে তার একটা অন্যরকম গ্রহণযোগ্যতা আছে তিনি টের পান। সেটা কাজে লাগিয়ে আরো বেশী অফলাইনের দুনিয়ায় ব্যস্ত হতে হবে ইনশাল্লাহ। তার আগে নিজে থেকেই ফোন করলেন সুমনকে, তার ভাগিনা, একটা শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক, নিজেই ফোন করে বললেন যে তার রেফারেন্স দিয়ে যেন ছাপিয়ে দেয় যে এটা একটা ভুয়া নিউজ।
আমরা সবাই যদি নিজের দায়িত্বগুলো এভাবে পালন করি তাহলে এই ‘কান নিয়েছে চিলে’ টাইপ গুজবগুলো আমাদের জন্য সর্বনাশ ডেকে আনবে না ইনশাল্লাহ।

Thursday, July 4, 2019

জীবনের চিত্রনাট্য

প্রতিদিনের জীবনে কত ধরণের প্ল্যান করি আমরা। এটা করবো, এভাবে করবো......কিন্তু আসলে লাইফটার ড্রাইভিং সিটে কি বসে আছি আমরা?

ছদ্ম নামে একটা গল্প লিখেছিলাম রৌদ্রময়ীতে। 

গত ১৫ দিন ধরে একটা তীব্র অস্থিরতা ভিতরটা কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে নবীনাকে। প্রেগ্ন্যান্সী স্ট্রীপে দুই দাগ দেখার পর থেকেই.........কী হবে এখন! আদনান একটা ইন্টার্নশিপে অন্য শহরে গেছে, আসবে আরো দিন পনেরো পর। খুব প্রেস্টিজিয়াস একটা কোম্পানিতে কাজ করার সুযোগ এটা। যখন পেয়েছিলো তখন এতদিন মেয়েকে নিয়ে একা থাকতে হবে জেনেও খুব খুশি ছিলো ওরা দুজনেই। কিন্তু এখন এই সুযোগটাই গলার কাঁটা হয়ে বিঁধছে। যেমন নামীদামী কোম্পানী, তেমন খাটুনি। সারাদিনে একবার কথা হয় নাকি সন্দেহ। খবরটা জানিয়েছে ওকে, কিন্তু এমনই অবস্থা যে মন খুলে একটু কথা বলারও সুযোগ হয় নি এটা নিয়ে!
এদিকে সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। ইন ফ্যাক্ট নবীনা টেরই পায়নি এতদিন যখন পেয়েছে তখন প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেছে। হাল্কা অসুস্থতা ছিলো, কিন্তু একা একা মেয়ের দেখভাল করতে গিয়ে পাত্তাই দেয় নি সেসব। আজকে একাই গিয়েছিলো ডাক্তারের কাছে। ঊনি আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে দিলেন, সব কিছু ঠিকই আছে।
ফেরার পথে কী মনে করে দীপার কাছে গেলো। কারো সাথে প্রাণ খুলে কথা না বলতে পারলে দম বন্ধ হয়েই মারা যাবে নবীনা।
দীপা খুব হাসিখুশী চঞ্চল টাইপ। মনটা খুব ভালো! ঘটনা শুনেই নবীনাকে জড়ায় ধরে বলে আরে বন্ধু এতো মারাত্মক আনন্দের খবর! আজকে এখানেই থেকে যা, আম্মুকে বলি মিষ্টি বানাতে! ওর এই খুশি দেখে নিজের অজান্তেই মেজাজ চড়ে গেলো নবীনার। ওর বলে টেনশনে ঘুম হচ্ছে না, চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে, আর ঊনি আছেন ঘটনা উদযাপনের ধান্ধায়!
আস্তে করে গলা থেকে ওর হাতটা সরিয়ে দিলো নবীনা। ওর এহেন রিঅ্যাকশনে কিছুটা অপ্রতিভ হয়ে দীপা বললো কিরে তুই খুশী না?
ওর কণ্ঠের মাঝে এমন একটা আন্তরিকতা ছিলো যে এতদিনের অস্থিরতা, টেনশন সব চোখের পানি হয়ে অঝোরে বেয়ে পরতে লাগলো! ওকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে ফেলে নবীনা বললো আমার খুব ভয় লাগছেরে! অনন্যার বয়স তো মাত্র সাত মাস। এর মাঝেই আরেকটা বাবু হলে বিদেশে একা হাতে আমি সব সামলাবো কিভাবে! এত কম গ্যাপে দুইটা সিজার হলে নানা জটিলতাও হতে পারে শুনেছি। কিভাবে কী হয়ে গেলো কিছুই বুঝলাম না, আমরাতো যথেষ্ট সাবধানই ছিলাম!
ওকে জড়িয়ে ধরে চুপচাপ ওর কথাগুলো শুনলো দীপা। তারপর আলতো করে ওর চোখের পানি মুছে দিলো। তারপর ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বললো তুই কি দেড় বছর আগের এই সময়টার কথা ভুলে গেছিস?
প্রথমে ওর কথাটা ঠিক বুঝলোনা নবীনা। দীপা কিছু বলছে না......ওর দিকে অপলক তাকিয়ে আছে। হঠাৎই বুঝতে পারলো দীপা কী বলতে চাইছে। আর তাতেই হঠাৎ বুকটা কেঁপে উঠলো ওর। নিজের অজান্তেই চোখটা নামিয়ে নিলো নবীনা।
দীপা ধীরে ধীরে বলে যেতে লাগলো- জীবনের দৃশ্যপটগুলো কি আমরা নিজের মত করে সাজাতে চাই? চারপাশে আর কত ঘটনা ঘটলে আমাদের হুশ হবে যে জীবনটা আমাদের মনের মত করে চলবে না?
দীপার শেষের কথাটার মাঝে এমন কিছু ছিলো যে নবীনার চোখে আবার পানি চলে এলো! সত্যিতো! এমন অকৃতজ্ঞ কিভাবে হতে পারলো নবীনা! বিয়ের প্রায় ছ বছর পর যখন অনন্যা পৃথিবীতে আসার ব্যাপারটা টের পেয়েছিলো, কী খুশিটাই না ও হয়েছিলো! কত অপেক্ষার প্রহর গুনেছে এই দিনটার জন্য। আর এখন অনুরূপ খবরে এত অস্থির হচ্ছে স্রেফ ঘটনাটা ‘ওদের পরিকল্পনা মত’ ঘটেনি বলে?
দীপা বলে চললো.........অনন্যা পেটে থাকতে তোর কত কমপ্লিকেশন ধরা পড়েছিলো, কত অসুস্থ ছিলি তুই! আর এবার দ্যাখ চার মাস হয়ে গেছে তুই টেরই পাস নি! এটাই কি একটা বিশাল লক্ষণ না যে আল্লাহ কাউকে সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা দেন না? কত মানুষ একটা সন্তানের জন্য হাহাকার করছে তা কি তোকে বলে বোঝাতে হবে? তোর তো তাও একটা আশা ছিলো যে অপেক্ষা করলে একসময় সুসংবাদ মিলতে পারে, অনেকেরতো সেই অপেক্ষা করার দরজাটাও বন্ধ!
শেষের কথাটা বলতে গিয়ে গলাটা একটু কি ধরে এলো দীপার? ওর এই হাশি খুশী চঞ্চলতার পিছনে কী গভীর একটা বিষাদ লুকিয়ে আছে তা কি আর অজানা নবীনার? বিয়ের দু বছরের মাথায় কার অ্যাক্সিডেন্টে দীপার হাজব্যাণ্ড মারা যাওয়ার পর থেকে দীপার মাঝে বিশাল পরিবর্তন এসেছে! ইসলাম পালন করা শুরু করেছে, ও প্রায়ই বলে যে ওই ঘটনাটা এখন ওর কাছে আল্লাহর রহমত মনে হয়, নাইলে তো ও ইসলামের ব্যাপারে সিরিয়াসই হত না!
দীপাকে জড়িয়ে ধরে আবার কেঁদে ফেললো নবীনা। কিন্তু এবারের কান্নাটা পুরা অন্যরকম! এটা একটা লজ্জা মিশ্রিত কৃতজ্ঞতা বোধ থেকে উঠে আসা কান্না! জীবনের চিত্র নাট্যটা শ্রেষ্ঠ নির্মাতা নির্মাণ করছে এই অমোঘ সত্যটা মনে করে মনে মনে আলহামদুলিল্লাহ বললো নবীনা।

Tuesday, July 2, 2019

কোয়ান্টাম মেথডঃ আমাদেরকে কোন পথে ডাকছে-১

কোয়ান্টাম মেথডকে এক কথায় বলা যায় আকর্ষণীয় মোড়কে উপস্থাপিত এক ভয়ংকর ফাঁদ শুনতে বাজে শোনালেও যারা এর মাধ্যমে উপকার পেয়েছেন তারা কেমন যেন পীরের মুরিদের মত আচরণ করেন, এর বিরুদ্ধে কোনো কথা শুনতেই চান না, নির্মম সত্য হলেও।

এরা আমাদেরকে কোন পথে ডাকছে সেটা নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম প্রায় ১০ বছর আগে। লেখাটা 'কুরআনের আলো' ওয়েব সাইটে পাওয়া যাবে

১ম পর্বের লিংক

১. ভূমিকা:

কাগজে কলমে বাংলাদেশ এখন একটি সেক্যুলার দেশ। আবার এ কথাও বলা হয়ে থাকে যে এটি ৮৮% মুসলমানের দেশ, এদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। এই দুই সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী উপাধির মাঝে সমন্বয় সাধন করতে গেলে যে চিত্রটি ফুটে উঠে, তাই আসলে আমাদের দেশের বাস্তব অবস্থা।দেশকে সেক্যুলার করা সম্ভব হয়েছে সুদীর্ঘ সময় ধরে শুদ্ধ ইসলামিক জ্ঞানের চর্চা থেকে দেশের মানুষকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখার সুচিন্তিত পরিকল্পনা সফল হওয়ায়। অন্যদিকে, একইসাথে দেশের মানুষ তথাকথিত ধর্মভীরু হওয়ায় যে কোন ব্যবসা বা মতবাদ, তা ইসলামের সাথে যতটা সাংঘর্ষিকই হোক না কেন ইসলামিকভাবে প্যাকেট করে বাজারজাত করা হলে তাতে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া যায় নিশ্চিতভাবে। ফলশ্রুতিতে এখন শূন্য (ক্ষেত্রবিশেষে মাইনাস) জ্ঞান নিয়েও যে টপিক নিয়ে উদ্দাম আলোচনায় মত্ত হওয়া যায় তা হল ‘ইসলাম’। জেনে, বুঝে, দল নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলাম পালন করার চেষ্টা এখন নিতান্তই ক্ষুদ্র, ব্যক্তিগত উদ্যোগের মাঝে সীমাবদ্ধ। আর সেই সাথে যে কোন ধরণের বিভ্রান্ত মতবাদ প্রচার করার জন্য বাংলাদেশ এখন উত্তম Fishing Ground-এ পরিণত।
এমতাবস্থায় যখন দেখি খুব কাছের মানুষগুলো অনুরূপ কোন কৌশল/প্রচেষ্টার ফাঁদে পা দিয়ে ঈমান হারাচ্ছে(In the eye of Allah) ,অথচ তা উপলব্ধিও করতে পারছেনা, তখন যে প্রবল কষ্টের অনুভূতি হয়, তার তাড়না থেকেই এই লেখার অবতারণা।
একজন মুসলিম এই দুনিয়ায় তার ক্ষণস্থায়ী আবাসকালে সবকিছু হারাতে পারে – অর্থ, খ্যাতি, সন্তান,সংসার। কিন্তু যা কখনো হারায় না বা হারাতে পারে না, তা হল জীবনের উদ্দেশ্য। কি করছি, কেন করছি-এ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকালে, যে কোন পরিস্থিতিতেই সে অবিচল থাকতে পারে । এই অবিচলতা তাকে এনে দেয় অনাবিল মানসিক প্রশান্তি। ‘শান্তি’র এই বিষয়টি ইসলামের সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। অপরপক্ষে যখন ঐশী জ্ঞানের পূর্ণাংগ চিত্রের সাথে সে সম্পূর্ণ ভাবে অপরিচিত থাকে, তখন নানা অতৃপ্তি, হাহাকার তাকে পেয়ে বসে। ‘শান্তি’র খোঁজে যে কোন কিছুকেই অবলম্বন করতে সে দ্বিধাবোধ করেনা। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের অবস্থাই এখন এমন। আমাদের মানসিক এই ক্রান্তিলগ্নে তাই শান্তি এবং সাফল্যের চাবিকাঠি নিয়ে উপস্থিত হয়েছে ‘কোয়ান্টাম মেডিটেশন’। আমাদের চারপাশের বহু ডুবন্ত মানুষ একে খড়কুঁটো ভেবে আঁকড়ে ধরছেন।
আসুন,ইসলামের দৃষ্টিতে এই পদ্ধতিটি একটু আলোচনা করি।
প্রসংগত উল্লেখ্য যে এই লেখাটিতে ব্যবহৃত কোয়ান্টাম মেথড সংক্রান্ত সকল তথ্য তাদের ওয়েবসাইট, লিফলেট এবং টেক্সটবুক (সাফল্যের চাবিকাঠি কোয়ান্টাম মেথড – মহাজাতক [1]) থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। বিস্তারিত উৎস ফুটনোটে দেয়া থাকবে ইনশাআল্লাহ।

২.কোয়ান্টাম মেথড কি:

তাদের ভাষ্যমতে এককথায় এটি science of living. আশ্রম ও খানকার চৌহদ্দি থেকে বের করে ধ্যানকে গণমানুষের আত্মউন্নয়ন ও ব্যক্তিত্বের বিকাশে প্রয়োগ করাই উনাদের উদ্দেশ্য।

৩. টেক্সটবুকটির বিস্তারিত পর্যালোচনা:

কোয়ান্টাম মেথড বলতে আসলে উনারা কি বুঝাচ্ছেন তা জানার উদ্দেশ্য আমরা ওয়েব সাইট থেকে প্রাপ্ত ‘সাফল্যের চাবিকাঠি কোয়ান্টাম মেথড- মহাজাতক’ বইটির বিভিন্ন অধ্যায়ের মূল বক্তব্যের উপর আলোকপাত করব। প্রথমেই দেখা যাক ভূমিকায় কি বলা হচ্ছে-

৩.১.মেডিটেশন: শৃঙ্খলা মুক্তির পথ:

আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে মানুষ অপার সম্ভাবনা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু ভ্রান্ত বিশ্বাস/ সংস্কার তথা মনোজাগতিক শিকল তাকে পরিণত করে কর্মবিমুখ, ব্যর্থ কাপুরুষে। অন্যদিকে মুক্তমানুষ বিশ্বাস হচ্ছে সকল সাফল্য, অর্জনের ভিত্তি। বিশ্বাসই রোগ নিরাময় করে, ব্যর্থতাকে সাফল্যে আর অশান্তিকে প্রশান্তিতে রূপান্তরিত করে। দৈনন্দিন জীবন বেশিরভাগ চিন্তাশীল মানুষের জন্যই যুগে যুগে ছিল এক ক্লান্তিকর বিড়ম্বনা। ভাত খাওয়া, গোসল করা, কাপড় পরা, সংসার করা, প্রার্থনা করা-র একঘেঁয়েমি থেকে মুক্তি চেয়েছেন তারা।
ভ্রান্ত ধারণা ও সংস্কারের শৃঙ্খল মুক্তির পথ হচ্ছে মেডিটেশন। তখন প্রতিবারের প্রার্থনাতেঁই আপনি পুলকিত হবেন, প্রতিটি সেজদাই পরিণত হবে মেরাজে। মেডিটেশনের মাধ্যমেই আপনি সংযোগ সাধন করতে পারেন আপনার ‘অন্তরের আমি’র সাথে, আপনার শক্তির মূল উৎসের সাথে [2]। মেডিটেশনের পথ ধরেই আপনি অতিক্রম করতে পারবেন আপনার জৈবিক অস্তিত্বের সীমাবদ্ধতা।
এরপর অধ্যায় ১,২ তে মন সকল শক্তির উৎস, চেতনা অবিনশ্বর, প্রাণ রহস্যের চাবিকাঠি যে বিশ্বাস তা এক নতুন বিশ্বদৃষ্টি উন্মোচন (যাতে সব কিছুকে ব্যাখ্যা করা যায় কোয়ান্টা ফিজিক্সের মাধ্যমে), বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব এবং নানা সফল ব্যক্তিদের (যার মাঝে রয়েছে বিশিষ্ট ব্যালে নর্তকী, আত্মস্বীকৃত নাস্তিক স্টিফেন হকিং) জীবন কণিকা থেকে প্রমাণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিস্তারিত উদাহরণ দেয়া হয়েছে বাংলাদেশে ফলিত মনোবিজ্ঞানের পথিকৃত এবং আত্মউন্নয়নে ধ্যান পদ্ধতির প্রবর্তক প্রফেসর এম.ইউ আহমেদের। তিনি ক্লিনিক্যালী মৃত্যুবরণ করার পরও পুনরায় জীবন লাভ করেন শুধু তাকে বাঁচতে হবে, তিনি ছাড়া দেশে নির্ভরযোগ্য মনোচিকিৎসক নেই……তার এই দৃঢ় বিশ্বাসের জোরে। [3]
অধ্যায় ৩-এ ব্রেনকে কম্পিঊটারের সাথে তুলনা করে সকল প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। অধ্যায় ৪ অনুযায়ী ব্রেনকে সুসংহতভাবে ব্যবহার করার নেপথ্যনায়ক হচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গি। প্রোঅ্যাক্টিভ হতে উৎসাহিত করা হয়েছে পবিত্র বাইবেল এবং কোরআনে উল্লেখিত ইঊসুফ (আ.) এর কাহিনী থেকে!!!!
অধ্যায় ৫-এ ‘ধ্যানাবস্থার প্রথম পদক্ষেপ’ শিরোনামে ব্রেন ওয়েভ প্যাটার্ণ সারণী দেয়া হয়েছে যেখানে থিটা লেভেল সম্পর্কে বলা হয়েছে মেডিটেশনকালে সাধকরা এই স্তরে প্রবেশ করেই মহাচৈতন্যের (super consciousness) সাথে সংযোগ স্থাপন করতেন।এর পরবর্তী লেভেল-ডেল্টাতে দরবেশ ঋষিরা এই স্তরেও সজাগ থাকেন আবার মহাচৈতন্যে লীনও হতে পারেন। [4] এই মহাচৈতন্যের সংজ্ঞা বইটির কোথাও সুস্পষ্টভাবে দেয়া নেই।
মেডিটেশনের প্রথম ধাপ হচ্ছে ‘শিথিলায়ন’ যার মাধ্যমে ব্রেন ওয়েভকে আলফা লেভেলে নিয়ে মনের ধ্যানাবস্থা সৃষ্টি করা হয়। [5] তাদের ভাষ্য:
‘‘ ‘শিথিলায়ন’ পুরোপুরি আয়ত্ত হলেই আপনি মনের শক্তিবলয় নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি হাতে পাবেন। ধ্যানাবস্থায় মন হয় ত্রিকালদর্শী, চেতনা অতিক্রম করে সকল বস্তুগত সীমা। মনের এই ধ্যানাবস্থার শক্তিকে প্রয়োগ করেই প্রাচ্যের সাধক দরবেশ ঋষিরা একদিন আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। ইচ্ছা করেছেন – ঘটনা ঘটেছে। ইচ্ছা করেছেন – মানুষ রোগমুক্ত হয়েছে।আপনিও এ চাবিকাঠিকে কাজে লাগিয়ে অর্জন করতে পারেন অতিচেতনা। এই চাবিকাঠি দিয়েই দৃশ্যমান সব কিছুর পেছনে যে নেপথ্য স্পন্দন ও নিয়ম কাজ করছে তার সবটাকেই আপনি নিজের ও মানবতার কল্যাণে সক্রিয় করে তুলতে পারবেন।’’
এরপর অধ্যায় ৬ তে ‘শিথিলায়ন’ প্রক্রিয়া অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে। অধ্যায় ৭,৮ তে নানা আত্মবিনাশী প্রোগ্রাম যেমন নেতিবাচক চিন্তা, হতাশা, অনুশোচনা, রাগ, হীণমন্যতা ইত্যাদি মোকাবেলা করার অব্যর্থ কৌশল হিসেবে ‘শিথিলায়ন’ কে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
অধ্যায় ৯, ১০ তে আত্মবিকাশী প্রোগ্রাম হিসেবে অটোসাজেশন এবং মনছবি র বিবরণ দেয়া হয়েছে। অধ্যায় ১১,১২, ১৩ তে যথাক্রমে কল্পনাশক্তি, মনোযোগ বাড়ানোর কৌশল জানানো হয়েছে। অধ্যায় ১৪ তে কোয়ান্টা সংকেত, অধ্যায় ১৫ তে জাগৃতি এবং ঘুম নিয়ন্ত্রনের উপায়, অধ্যায় ১৬ তে স্বপ্নের সৃজনশীল প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে যেখানে ইস্তেখারা সালাতকে বর্ণনা করা হয়েছে স্বপ্নচর্চা ও এর সৃজনশীল প্রয়োগের একটি বিশেষ মাত্রা হিসেবে।
বই এর অধ্যায় ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২১ গুলোতে যথাক্রমে ছাত্রজীবনে সফল হবার উপায়, কোয়ান্টাম নিরাময়, ওজন নিয়ন্ত্রনের উপায়, ড্রাগ এবং নেশা থেকে বিরত থাকার উপায় এবং সুস্বাস্থ্যের কোয়ান্টাম ভিত্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে।
এতক্ষণ ধরে বইটিতে ধ্যানের প্রথম ধাপের কথা বলা হয়েছে। পরবর্তীতে বাকি ধাপগুলোর ব্যাপারে শুধু আভাস দেয়া হয়েছে যাকে বলা হয়েছে অতিচেতনার পথে যাত্রা। এর পথ ধরেই কোয়ান্টাম গ্র্যাজুয়েটরা কমাণ্ড সেন্টার এবং প্রকৃতির সাথে একাত্মতার অনুভূতি লাভ করেন। নিচে আমরা বাছাই করা কিছু বিষয়ের উপর বিশেষভাবে আলোকপাত করব।

৩.২. মনছবি:

শিথিলায়ন প্রক্রিয়ায় মানুষের মাঝে এমন এক ক্ষমতা তৈরি হয় যার ফলে সে তার কল্পনা শক্তি দ্বারাই নিজের চাওয়া পাওয়া পূরণ করে ফেলতে পারে। নিচে বই এ উল্লেখিত একটি ঘটনা হুবহু তুলে ধরা হলঃ ‘‘এক ইঞ্জিনিয়ার।সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার মনছবি দেখতে লাগল। ডিভি ভিসা পেয়ে গেল। ভিসা পাওয়ার পর মনছবি দেখতে লাগল সমমানের চাকরির, যাতে নিজের প্রকৌশল জ্ঞানকে কাজে লাগাতে পারেন। দেশে তিনি কাজ করতেন বিদেশি প্রতিষ্ঠানে। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার দেড় মাসের মধ্যে একই প্রতিষ্ঠানে আগের চেয়েও দায়িত্বপূর্ণ পদে চাকরি হয়ে গেল তার।’’ [6]

৩.৩. কোয়ান্টাম নিরাময়:

রোগের মূল কারণকে মানসিক আখ্যায়িত করে এখানে মেডিটেশনের মাধ্যমে সকল রোগ ব্যাধি উপশমের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মনছবি বা ইমেজ থেরাপি ছাড়াও রয়েছে ‘দেহের ভিতরে ভ্রমণ’ নামক পদ্ধতি যেখানে রোগীকে প্রথমে শিথিলায়ন করতে বলা হয়, তারপর শরীরের নানা অঙ্গের মধ্য দিয়ে কাল্পনিক ভ্রমণ করতে বলা হয়। এতে সে তার সমস্যার স্বরূপ সম্পর্কে অন্তদৃষ্টি লাভ করে এবং নিজেই কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে সমাধান করতে পারে। যেমন: “একজন ক্যান্সারের রোগী তার ক্যান্সারের কোষগুলোকে কল্পনা করে সর্ষের দানারূপে।আর দেখে অসংখ্য ছোট ছোট পাখি ওই সর্ষে দানাগুলো খাচ্ছে। আর সর্ষের দানার পরিমাণ ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। আস্তে আস্তে সর্ষের দানা নিঃশেষ হয়ে আসছে। সর্ষের দানাও শেষ, নিরাময়ও সম্পন্ন।” [7]
শিথিলায়ন প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা সম্পর্কে এতে বলা হয়েছে ‘‘শিথিলায়নের মাধ্যমে ব্যথা উপশম করার জন্য আপনাকে সাধু সন্ন্যাসী বা ভিক্ষু হবার প্রয়োজন নেই। এজন্য নির্বাণ বা ফানাফিল্লাহর স্তরেও আপনাকে যেতে হবেনা। [8]

৩.৪. মাটির ব্যাংক:

মাটির ব্যাংকের কার্যকারিতার জ্বলন্ত উদাহরণে ভর্তি এ সংক্রান্ত লিফলেটটি। একটি মাত্র ঘটনা এখানে উল্লেখ করা হল- ‘‘ছেলের সামান্য জ্বর হয়েছে। সারাদিন ভালোই ছিল।তখন প্রায় রাত ১টা, বাসার সবাই ঘুমে। হঠাৎ গোঙ্গানির শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল। তাকিয়ে দেখি ওর পুরো শরীর মৃগী রোগীর মত খিঁচছে। বুকটা ধক করে উঠল। এই মধ্যরাতে কোথায় ডাক্তার পাব, কি করব ভাবছি আর আল্লাহকে ডাকছি। হঠাৎ চোখ পড়ল ড্রেসিং টেবিলের ওপর রাখা মাটির ব্যাংকে। তাড়াতাড়ি মশারির ভেতর থেকে বেরিয়ে মানিব্যাগ থেকে ৫০০ টাকার নোট ব্যাংকে রাখলাম। স্রষ্টার কি করূণা! মিনিট পাঁচেকের মধ্যে খিঁচুনি বন্ধ হল, সে ঘুমিয়ে পড়ল। পরদিন সকালে উঠে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করল যেন কিছুই হয়নি।’’ [9]

৩.৫. কোয়ান্টা সংকেত:

বইটির সংশ্লিষ্ট অংশে বলা হচ্ছে- ‘‘কথিত আছে অলৌকিক শক্তিবলে ঋষিরা ইসম বা মন্ত্র উচ্চারণ করতেন আর যাদুর মত সব ঘটনা ঘটে যেত। যে কোন ঋষিরা মন্ত্র উচ্চারণের আগে বছরের পর বছর ইসম বা মন্ত্র জপ করতেন বা জিকির করতেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আল্লাহ, ইয়াহু, ইয়া হক, ওম ইত্যাদি। ধর্মবহির্ভূত ধ্যানীরা নিজের পছন্দমত কোন শব্দ লক্ষ লক্ষবার উচ্চারণ করেন। তাদের বিশ্বাস এইভাবে অগণিতবার উচ্চারণের ফলে এই ধ্বনি এমন এক মনোদৈহিক স্পন্দন সৃষ্টিতে সহায়ক হয় যার ফলে সে তার মনোদৈহিক শক্তি পুরোপুরি একাগ্রভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়।’’ [10]

৩. ৬. কোয়ান্টা ভঙ্গি: [11]

‘‘আপনি মহামতি বুদ্ধসহ প্রাচীন ঋষিদের যে ভাস্কর্য দেখতে পান,তার বেশিরভাগই অভয়মুদ্রা করে সিদ্ধাসনে বসা। আর এই অভয়মুদ্রার আধুনিক নামই কোয়ান্টা ভঙ্গি।
কোয়ান্টা ভঙ্গির জ্যোতিষ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হল- হাতের বুড়া আঙ্গুলের ক্ষেত্র হল শুক্র বা ভেনাসের ক্ষেত্র । আর তর্জনীর ক্ষেত্র হচ্ছে বৃহস্পতির ক্ষেত্র।জ্যোতির্বিজ্ঞানে শুক্র ও বৃহস্পতি কল্যাণ ও সাফল্যের প্রতীকরূপে গণ্য। আর মধ্যমার ক্ষেত্র শনির ক্ষেত্র রূপে পরিচিত। শনি বিলম্ব ও বাধার প্রতীক। প্রাচীন ঋষিরা এ কারণেই ভেনাস ও জুপিটারের প্রবৃদ্ধিকেই সংযুক্ত করেছেন, এর সাথে শনির প্রভাবকে যুক্ত করতে চাননি।
কোয়ান্টা ভঙ্গি করে হাত সামনে এনে খেয়াল করলে দেখবেন হাতে আরবী আলিফ, লাম ও হে অর্থ্যাৎ আল্লাহু হয়ে আছে। অর্থ্যাৎ কোয়ান্টা ভঙ্গি করার সাথে সাথে আপনি প্রকারান্তরে স্রষ্টাকে স্মরণ করছেন।’’ [12]

৩.৭. কমান্ড সেন্টার:

কমান্ড সেন্টারকে একথায় বলা যায় মনের বাড়ির শক্তি ও কল্যাণ কেন্দ্র।মানব অস্তিত্বের যে অংশ স্থান কালে আবদ্ধ নয়, সে অংশ এই কমান্ড লেভেলে প্রকৃতির নেপথ্য নিয়ম ও স্পন্দনের সাথে সহজেই যোগাযোগ স্থাপন করে । যাকে তারা জীবনে কখনও দেখেননি, যার কথা জীবনে কখনও শোনেননি, শুধু তার নাম, বয়স ও ঠিকানা বলার সাথে সাথে তার এমন হুবহু বর্ণনা দিতে সক্ষম হন কোয়ান্টাম গ্র্যাজুয়েটরা যে প্রশ্নকর্তা নিজেই অবাক হয়ে যান। [13]
কমান্ড সেন্টারের প্রয়োগ: ‘‘ছেলে কোলকাতায় গিয়েছে, যাওয়ার পরে ২ দিন কোন খবর নেই।বাবা কোয়ান্টাম গ্র্যাজুয়েট, মাগরিবের নামাজ পড়ে মেডিটেশন কমান্ড সেন্টারে গিয়ে ছেলের বর্তমান অবস্থা দেখার চেষ্টা করতেই কোলকাতার একটি সিনেমা হলের গেট ভেসে এল।ছেলে সিনেমা হলের গেটে ঢুকছে। বাবা ছেলেকে তার উদ্বেগের কথা জানালেন। বললেন শিগগিরই ফোন করতে।’’ [14]

৩.৮. অন্তর্গুরু:

আধ্যাত্মিকতার পথে অগ্রসর হতে হলে একজন আলোকিত গুরুর কাছে বায়াত বা দীক্ষা প্রয়োজন। এছাড়া আধ্যাত্মিকতার সাধনা এক পিচ্ছিল পথ।যে কোন সময়ই পা পিছলে পাহাড় থেকে একেবারে গিরিখাতে পড়ে যেতে পারেন।
কমান্ড সেন্টার নির্মাণ করে সবকিছু ঠিক মত সাজানোর পর ধ্যানের বিশেষ স্তরে অন্তর্গুরুর আগমন ঘটে। অন্তর্গুরু প্রথমে সকল অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তির জন্য ‘সাইকিক বর্ম প্রদান করেন যা অতীতের সকল অশুভ প্রভাব নিষ্ক্রিয় করে দেয় এবং ভবিষ্যতের এ ধরণের প্রভাব থেকে নিরাপদ রাখে। অন্তর্গুরুকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা যত তীব্র হবে, তত সহজে আপনি তার দর্শন লাভ করবেন। এ ব্যাপারে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা হয়েছে কোয়ান্টাম গ্র্যাজুয়েটদের। [15]

৪. কোয়ান্টাম মেডিটেশন কেন করব?

এই প্রশ্নের জবাবটা আসুন উনাদের ওয়েবসাইট থেকেই নেয়া যাক-
প্রশ্ন: মেডিটেশন মনকে প্রশান্ত করে। আমি কোরআন-হাদীসের আলোকে জানতে পারলাম নামাজই একমাত্র মনকে প্রশান্ত করতে পারে। এর সঠিক ব্যাখ্যা জানতে চাই।
উত্তর: মনকে প্রশান্ত করার মতো নামাজ যাতে আপনি পড়তে পারেন এজন্যেই মেডিটেশন দরকার। শুধু উঠা-বসা করলে, রুকু-সেজদা দিলে নামায হয় না। আমাদের দেশে নামাজীর সংখ্যা তো কম নয়- জুম্মার দিন বিশাল রাস্তা বন্ধ করে নামাজ হয়। যেভাবে আমরা নামাজ পড়ি তাতে যদি প্রশান্তি পাওয়া যেত, তাহলে আমাদের দেশে এত অশান্তি থাকতো না।
প্রশ্ন: ধর্মের সাথে কি কোয়ান্টাম মেথডের কোনো বিরোধ আছে?
উত্তর: কোয়ান্টাম মেথডের সাথে ইসলাম বা অন্য কোনো ধর্মের কোনো বিরোধ নেই। আমাদের দেশের বহু বিশিষ্ট আলেম এ কোর্সে অংশগ্রহণ করেছেন এবং তারা সবাই এক বাক্যে বলেছেন যে, এর কোনো সূত্রের সাথে আমাদের ঈমান-আকিদার কোনো বিরোধ নেই। বরং তারা অনেকে খুব দুঃখ করে বলেছেন যে, আমরা তো বলি, হুদরিল ক্বালব ছাড়া নামাজ হয় না। শুধু রুকু-সেজদা দিলে নামাজ হয় না, শুধু সূরা-কেরাত পড়লে নামাজ হয় না। নামাজের জন্যে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হুদরিল ক্বালব, একাগ্রচিত্ততা। এই হুদরিল ক্বালব কীভাবে সৃষ্টি করতে হয় তা এখানে এসে শিখতে পেরেছি। [16]
Whatever your religion, your prayer or worship will definitely take a different dimension once learn to meditate.
However, meditation is not only for the religious. Whatever your belief or philosophy, meditation will help you attain peace, health or success.
তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম যে কোয়ান্টাম মেডিটেশন করার জন্য ধর্ম বিশ্বাস কোন জরুরি বিষয় নয়। [17]

ফুটনোটসমূহ:
  • [1] পরিবর্ধিত নতুন সংস্করণঃ জানুয়ারী, ২০০০
  • [2] এখানে মানুষের ভিতর ঈশ্বরের অস্তিত্বের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে – যা হচ্ছে সর্বেশ্বরবাদ – একাধারে “কুফর” ও “শিরক”। ইসলাম কেবল আল্লাহকেই সকল শক্তির মূল উৎস মনে করে – যাঁর সাথে কারো কোন সাদৃশ্য নেই এবং যিনি আরশের উপরে রয়েছেন।
  • [3] পৃঃ ২২-২৪
  • [4] পৃঃ ৫৮
  • [5] পৃঃ ৫৯
  • [6] পৃঃ ১১৫
  • [7] পৃঃ ১৯৪
  • [8] পৃঃ ১৯০
  • [9]  দুঃসময়ের বন্ধু মাটির ব্যাংক
  • [10]  পৃঃ ১৬১
  • [11] পৃঃ ১৬৩
  • [12] পৃঃ ১৬৪, http://quantummethod.org.bd/book/hajaro-prosner-jobab-1/12895
  • [13] পৃঃ ২৩৩
  • [14] পৃঃ ২৪১,  http://quantummethod.org.bd/book/hajaro-prosner-jobab-1/12896
টেন্ডার দাখিল করার সময় সর্বনিম্ন দরে কাজ পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোয়ান্টা ভঙ্গি কাজে আসবে কি?
উত্তর : সর্বনিম্ন রেট নির্ধারণের জন্যে কমান্ড সেন্টার ব্যবহার করবেন।
দূর দেশে একজন কী অবস্থায় আছে তা দেখার জন্যে কি কমান্ড সেন্টার ব্যবহার করা যাবে?
উত্তর : অবশ্যই যাবে। এমন বহু ঘটনা রয়েছে। এক ছেলে কলকাতায় গেছে। যাওয়ার পরে দুই দিন কোনো খোঁজ নেই। ছেলে, বাবা ও মেয়ে- পরিবারে তিনজনই কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট। মেয়ে ডাক্তার। ছেলে যাওয়ার পর দুদিন টেলিফোন না করায় বাবা উদ্বিগ্ন। তৃতীয় দিন সন্ধ্যায় মেয়ে এসে বাবাকে উদ্বিগ্ন দেখে কারণ জিজেস করলো। বাবা কারণ বললেন। মেয়ে বললো, টেলিফোন করে নি তাতে কী? আপনি কমান্ড সেন্টারে গিয়ে দেখুন, ও কোথায় আছে।
বাবা মাগরিবের নামাজ পড়ে মেডিটেশনে কমান্ড সেন্টারে গিয়ে ছেলের বর্তমান অবস্থান দেখার চেষ্টা করতেই কোলকাতার একটি সিনেমা হলের গেট ভেসে এলো। ছেলে সিনেমা হলে ঢুকছে। বাবা ছেলেকে তার উদ্বেগের কথা জানালেন। বললেন, শিগ্গিরই টেলিফোন করতে।
ওদিকে সিনেমা দেখতে দেখতেই ছেলের মনে পড়লো বাড়িতে টেলিফোন করা হয় নি। হল থেকে বেরিয়েই ছেলে বাবাকে টেলিফোন করলো। বাবা টেলিফোন ধরে ছেলের কণ্ঠস্বর শুনেই জিজ্ঞেস করলেন, সন্ধ্যায় তুই অমুক সিনেমা হলে ছিলি? ছেলে তো বিস্মিত! বাবা জানলো কীভাবে? বাবা তাকে বললেন, কমান্ড সেন্টারে তিনি তাকে সিনেমা হলে ঢুকতে দেখেছেন।
[15] পৃঃ ২৪৭, http://quantummethod.org.bd/book/hajaro-prosner-jobab-1/12906
আমরা যারা কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট-আমাদের তো সাইকিক বর্ম দেয়া আছে। তারপরও কোনো প্রকারের কু-নজর, জাদু, বান-টোনা এগুলো লাগবে কি না? আমরা অনেক কারণে তাবিজ পরে থাকি, এ তাবিজ পরার আর প্রয়োজন আছে কি?
উত্তর : যারা কোয়ান্টাম মেথড কোর্স করেছেন, কোর্সের তৃতীয় দিনই কমান্ড সেন্টারে গুরু আপনাদের সাইকিক বর্ম দিয়েছেন। আপনার চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। অতএব এসব তাবিজ-কবচ নিয়ে অহেতুক মাথা ঘামাবেন না।
[17]  http://quantummethod.org.bd/book/hajaro-prosner-jobab-1/12900
আসলে একজন খ্রিষ্টান যদি নিয়মিত কোয়ান্টায়ন করেন, মৌন সাধনা করেন তাহলে তিনি একজন ভালো খ্রিষ্টান হবেন, সন্তে রূপান্তরিত হবেন। একজন মুসলমান যদি নিয়মিত কোয়ান্টায়ন করেন তাহলে তিনি একজন ভালো মুসলমান হবেন, বুজুর্গে রূপান্তরিত হবেন। একজন হিন্দু যদি নিয়মিত কোয়ান্টায়ন করেন তাহলে তিনি একজন ভালো হিন্দু হবেন, ঋষিতে রূপান্তরিত হবেন। একজন বৌদ্ধ যদি নিয়মিত কোয়ান্টায়ন করেন তাহলে তিনি একজন ভালো বৌদ্ধ হবেন, ভিক্ষুতে রূপান্তরিত হবেন।


অর্থাৎ কোয়ান্টায়ন বা মৌন সাধনা হচ্ছে একটা প্রক্রিয়া বা অনুশীলন। যিনিই অনুশীলন করবেন তিনি এ থেকে সমানভাবে উপকৃত হবেন। অতএব আপনার ধর্ম বিশ্বাস যা-ই হোক, কোয়ান্টায়ন থেকে আপনি সমানভাবে উপকৃত হতে পারবেন।

রিবা নিয়ে জানা সিরিজের স্ক্রিপ্ট -১১

রিবার নানা রূপ আজকের পর্বে আমরা রিবার নানা রূপের সাথে পরিচিত হব যেন দৈনন্দিন জীবনে আমরা সেগুলো থেকে বেঁচে থাকতে পারি-   টাকা ধার নেয়ার...