Showing posts with label টুকরা কথা. Show all posts
Showing posts with label টুকরা কথা. Show all posts

Wednesday, August 7, 2019

মুখের ভাষা



ফেসবুকে কয়েকটা পোস্ট দেখে মনটাই খারাপ হয়ে গেল আনিকার। ওর ফ্রেণ্ডলিস্টে সব মতাদর্শের মানুষই আছে, তাই এমন পোস্ট চাইলেও চোখ এড়ায় না......

একজন ফ্রেণ্ড তার চিন্তা ভাবনার সাথে মেলে না এমন একজন স্কলারের ঢালাও নিন্দা করে একটা লেখা শেয়ার করেছে যেখানে সমানে ঊনাকে পথভ্রষ্ট, গোমরাহ এগুলো বলা হচ্ছে......সাথে এটাও দাবী করা হচ্ছে যে ঊনার এহেন আক্বীদার জন্য ঊনি আর মুসলিম থাকতে পারেন না, তাই যারা তাঁর আদর্শকে অনুসরণ করে তারাও উচ্ছ্বনে গেছে ইত্যাদি...ওই পোস্টে এসে একজন বিরোধিতা করেছে, ব্যাস শুরু হয়ে গেছে কী বোর্ডের খোঁচা দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি।  ২-১টা কমেন্ট পড়ে আর সহ্য করতে পারলো না ও। উঠে গেল...।।

জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে একটু আনমনা হয়ে গেল আনিকা......ও যদি ওর ইসলামে আসার আগে এসব তথাকথিত প্র্যাক্টিসিং মুসলিমদের সাথে মিশতো, যাদের মুখের ভাষা এরকম, তাহলে জীবনে কী আসতো ও আর ইসলামে ?

Etiquette of seeking knowledge কোর্সটাতে সেদিনই পড়ছিল যে কোনো স্কলারকে ভুলের ঊর্ধ্বে মনে করা এক ধরণের এক্সট্রিমিজম। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাতীত আর কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে ছিলেন না। ঠিক সেভাবে কোনো স্কলারের যদি কোনো ভুল জানিও আমরা, তবে তাঁর আর সব কাজকে বাদ দিয়ে দেয়াও আরেকধরণের এক্সট্রিমিজম। আমাদের উচিৎ মধ্যপন্থা অবলম্বন করা......ঊনি বেশ কিছু স্বনামধন্য স্কলারের বড় কিছু ভুলের উদাহরণও দিলেন যেন আমরা স্কলারদের ফেরেশতার পর্যায়ে না উঠিয়ে ফেলি। আমরা যেন ভুলে না যাই যে ইসলামে কোনো পুরোহিত তন্ত্র নেই......অবশ্যই স্কলাররা সম্মানিত, তাদেরকে আমরা অন্ধভাবে বিশ্বাস করি না, আবার তাদের একটু ভুল পেলে ধুয়েও ফেলি না...মধ্যপন্থা......মধ্যপন্থা শিখতে হবে আমাদের!

প্রায়োরিটি


আল্লাহ কেন কুরআনকে আরবী ভাষায় পাঠাতে গেলেন? এত কঠিন! তার উপর উচ্চারণের কত নিয়ম কানুন!

কিছুদিন হল বাসায় একজন তাজউইড এর শিক্ষিকা রেখে সহীহভাবে কুরআনের উচ্চারণটা শিখছে নিপা। ও পড়ছে, এমন সময়ে কয়েকদিন ওর বাসায় এসেছে শৈলী, তাতেই ওর মনে এই প্রশ্নের উদয় হয়েছে।
কথা শুনে স্মিত হাসি দিল নিপা।কিছু বললো না।

কিন্তু শৈলী তো আর ছেড়ে কথা বলার পাত্রী না, তাই আবারো বললো, ‘তোর কাছে এই ব্যাপারটা বিরক্তিকর লাগে না? কঠিন লাগে না?

নিজের অজান্তেই শৈলীর পড়ার টেবিলের দিকে চোখ চলে গেল নিপার। টেবিল ভর্তি IELTS আর GRE র বই দিয়ে ভরা।

আচ্ছা এই যে তুই গত ছয় মাস ধরে GRE আর IELTS এর জন্য পড়ছিস, তোর এই ব্যাপারটা বিরক্ত লাগে না?কঠিন লাগে না?

লাগে না আবার! জানটা কয়লা হয়ে গেল রে! কিন্তু কোনো উপায়ও যে নেই! IELTS ছাড়া বাইরে পড়তে যাওয়ার তো কোনো সুযোগই নেই!

হুম।

দ্যাখ, ‘বাইরে পড়তে যাওয়াটা’ তোর কাছে যথেষ্ট ভালো একটা incentive মনে হচ্ছে এতদিন ধরে এগুলা পড়ার জন্য, তাই না?

কুরআন সহীহ উচ্চারণে তিলাওয়াত করার এবং আরবী জানার উপকারিতা তুই যদি জানতি বা বলা যায় বিশ্বাস করতি, তাহলে জান প্রাণ দিয়ে খেটে এগুলা শিখতে চাইতি। আমরা আখিরাতের উপরে দুনিয়ার সাফল্যকে এখন অগ্রাধিকার দেই বলে এগুলোর পিছনে সময়, শ্রম ব্যয় করতে চাই না।
কথাটা শুনে একটু ম্রিয়মান হয়ে গেল শৈলী। কথাটা তুই খুব একটা ভুল বলিসনি বোধ হয়......
*******************************************
আমরা সবাই দাবী করি যে আমরা পরকালে বিশ্বাস করি। আমাদের জীবনের ‘প্রায়োরিটি’ ঠিক করার সময় সেটা কি প্রকাশ পায়?


নিয়্যতের বিশুদ্ধতা


আনিকার বাসায় স্নিগ্ধাকে দেখে একদম চমকে গিয়েছিল স্বর্ণা। না চমকে উপায় নেই অবশ্য, পুরোদস্তুর বোরকায় ঢাকা ওকে দেখে বোঝার উপায় নেই এই সেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্নিগ্ধা...জিন্স আর টিশার্ট ছিল যার প্রতিদিনের পোশাক। কত চেষ্টা করেছে ইসলামের সৌন্দর্য্য বোঝাতে, একটুও পারে নি। তারপর একসময় হাল ছেড়ে দিয়েছিল। সেই স্নিগ্ধা! স্নিগ্ধাও স্বর্ণাকে দেখে জড়িয়ে ধরল দু হাত ধরে......পাক্কা ৫ বছর পর দেখা......

বাসায় ফিরেও একটু আনমনা ছিল স্বর্ণা।কিছুই ভালো লাগছে না......আম্মা ভাপা পিঠা বানিয়েছিলেন, এতদিন দেশের বাইরে থাকার পর আম্মার হাতের পিঠা! তবু কেন কিছু ভালো লাগছে না?

স্নিগ্ধার কথাগুলো মাথায় ঘুরছিল। আনিকার ভূয়সী প্রশংসা করছিল। কিভাবে ওর মাধ্যমে ইসলাম প্র্যাক্টিসের প্রতি আগ্রহ জন্মেছে, কিভাবে আনিকা ওকে ধরে ধরে কুরআন শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করা শিখিয়েছে......

বারান্দায় বসে থাকতে থাকতে হঠাৎ একটা চিন্তা উঁকি দিল স্বর্ণার মাথায়। তবে কি স্নিগ্ধার মুখে আনিকার এত প্রশংসা শুনে মনে খারাপ লাগছিলো ওর? অথচ আনিকাও তো ওর ইসলাম ক্লাসের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী! তবে কি স্নিগ্ধা আনিকার প্রভাবে বদলে যাওয়াতে মন থেকে খুশী হতে পারে নি ও?

কিন্তু তা তো না......ও তো একসময় নিয়মিত দুআ করতো স্নিগ্ধার জন্য......

তবে কি স্বর্ণা চাইতো ওর মাধ্যমে একজন ইসলামে আসুক, ও কি আত্মতৃপ্তিতে ভুগতে চাইতো? নাকি চাইতো ওর কাছের বন্ধু ইসলামের ছায়াতলে আসুক সেটা যেভাবেই হোক?

মাগরিবের নামাযের আযান শুনে উঠে পড়লো বারান্দা থেকে। এখুনি আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে হবে, আর দুআ করতে হবে নিজের নিয়্যতের শুদ্ধতার জন্য। নিজেকেই নিজে মনে করিয়ে দিলো স্বর্ণা.........আমি চাই আমার চারপাশের মানুষেরা ইসলামকে বুঝুক, পালন করুক কারণ আমি তাদের ভালোবাসি......সেটা যার মাধ্যমেই হোক, আমি খুশী। আমার মাধ্যমে কেউ ইসলামে এসেছে এই আত্মতৃপ্তিতে ভুগতে চাই যদি তবে সেটা রিয়া হয়ে যাবে যে !

Wednesday, July 24, 2019

কয়েক স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা


জানেন আপু আমার না মেডিসিন নিয়ে পড়তে ইংল্যাণ্ডে যাওয়ার কথা ছিল, সেই আমি ended up going to Bangkok for treatment, সেখানে থাকতে হল প্রায় ৭-৮ মাস......খুব বিতিকিচ্ছিরি অসুখ, গলায় সিস্ট হইসিলো, কথা বলতে পারি নাই ৩ মাস! ডাক্তাররা একবার সাস্পেক্ট করছিলো যে ক্যান্সার হয়ে গেছে মনে হয়। আলহামদুলিল্লাহ যে হয় নাই। এরপর থেকেই আমি সিদ্ধান্ত নেই প্র্যাক্টিসিং মুসলিম হবার ব্যাপারে!

হুম। তাহলে তো বলা যায় তুমি বোনাস লাইফের উপর চলছো। এতদিনে তোমার আখিরাত মানে কবরের জীবন শুরু হয়ে যেতে পারতো, কী বলো?

তাতো বটেই আপু! কিন্তু ভার্সিটি গেলেই আমার এইসব সচেতনতা সব উধাও হয়ে যায়। ইসলাম প্র্যাকটিস করা মানেই প্রচণ্ড একা হয়ে যাওয়া আপু, সেটা আমি খুব ভয় পাই.........পরিত্যক্ত হবার ভয়!

এটা কিন্তু স্বাভাবিক জানো?

স্বাভাবিক?

হুম। আমাদের একটা মেজর সমস্যা হচ্ছে যে আমরা যে একজন ভয়ংকর শত্রু পরিবেষ্টিত হয়ে থাকি, সেটা আমাদের মনে থাকে না......

শত্রু? ফিক করে হেসে ফেলল রাত্রি

সত্যিরে আপু! সেই শত্রুর নাম শয়তান। আল্লাহ কুরআনে বারবার ওকে প্রকাশ্য শত্রু বলছেন। এই জীবনটা হচ্ছে শয়তানের সাথে একটা constant battle. এইভাবে যদি দেখা যায় সব কিছু, তাহলে অনেকটাই সহজ হয়। আজ যদি তুমি ভাবো যে তুমি শত্রু পরিবেষ্টিত হয়ে আছেো, তাহলে তোমার অ্যাটিটিউড কী নরমাল থাকবে?

এইটা কিন্তু আপু ভালো কথা বলসো। এমনে ভাবি নাই। এভাবে দেখলে বুস্ট আপ থাকা যায় সবসময়।

এক্স্যাটলি। আমাদের ইসলামী পড়াশোনায় এটা একটা মিসিং লিংক মনে হয় আমার কাছে। প্রতিটা সময় যখন আমাদের দুনিয়ার প্রতি মোহ জন্মায় আমরা যদি সেটাকে শয়তানের ফাঁদ হিসেবে দেখতে পারি, তাহলে সহজে প্রতারিত হই না......

হুম......খুশী মনে মাথা নাড়লো রাত্রি......এখন থেকে নিজেকে কয়েক স্তর বিশিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে মুড়ে রাখতে হবে দুআ, যিকির আর righteous company দিয়ে ইনশাল্লাহ।

নিষিদ্ধ প্রশ্ন


শীলা: আপু, তোমাকে একটা কথা জিগ্যেস করি?

নীরা: অবশ্যই! এত ভূমিকা করছিস কেনো হঠাৎ?

শীলা: আগে বলো রাগ করবা না! ইয়ে মানে প্রশ্নটা একটু ভয়ংকর টাইপ। ছোটবেলায় আম্মুকে বলছিলাম, আম্মু ঠাস করে চড় লাগায় দিসিল আর তওবা করতে বলছিল!কিন্তু আমার মাথা থেকে না প্রশ্নটা যায় নাই!

কথাটার মাঝে এমন একটা সরলতা ছিল যে শুনে ফিক করে হেসে দিল নীরা।

নীরা: আচ্ছা বাবা শুনে চড় লাগাব না, রাগও করব না।

কথাটা শুনে একটু আশ্বস্ত হয়ে শীলা বলল ইয়ে মানে আপু তুমি বলার পর থেকে আমি আবার কুরআন অর্থসহ পড়া শুরু করছি। কিন্তু যখনই জাহান্নামের বর্ণনা পড়ি, আমার কাছে শাস্তিগুলা না কেমন যেন অবাস্তব লাগে, ঠিক বিশ্বাস হতে চায় না! এমন কি আসলেই হবে আপু? 

কথাটা শুনে একটু থম ধরে থাকল নীরা। IOU তে ভর্তি হবার আগে ঠিক এইরকমভাবেই বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলাচলে যে ও নিজেও ভুগতো, তা আর বছর আটেকের ছোট এই কাজিনটাকে খুলে বলল না ও। IOU তে Dawah কোর্সে পড়া টিপসটাই ব্যবহার করল.........

নীরা: এই যে এখানে পানির বোতলটা দেখতেসিস, এখান থেকে এক ফোঁটা পানি দিয়ে যদি আমি আস্ত একটা মানুষ বানায় ফেলি তাইলে কেমন হবে ব্যাপারটা?কিংবা যদি এখন এই ছাঁদ দিয়ে অঝোরে পানি পড়তে থাকে?

শীলা: এক ফোঁটা পানি থেকে মানুষ হবে কেমনে? আর মাত্র নতুন বানানো এই বাড়িটার ছাদে তো কোনো ফাটল নাই, সেখান থেকে পানিই বা পড়বে কেমনে আপু? কীসব অবিশ্বাস্য কথাই যে বলো!

নীরা: আপুরে, অথচ চিন্তা করে দ্যাখ যে এমন অবিশ্বাস্য ব্যাপারই তো হরহামেশা ঘটছে, তাই না? আকাশ থেকে রেগুলার পানি পড়ছে, কোনো ফুটা নাই তবু, আকাশটা দাঁড়িয়ে আছে খুঁটি ছাড়াই, আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করছেন এক ফোঁটা বীর্য থেকে...... তাই না?

শীলা: এভাবে তো কখনো ভেবে দেখি নাই!

নীরা: হ্যাঁ রে! এইজন্যই আল্লাহ পুরা কুরআন জুড়ে আল্লাহর এসব সৃষ্টি নৈপুণ্যের দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। এগুলা নিয়ে যদি চিন্তা করি আমরা, আল্লাহর ক্ষমতার ব্যাপারে সম্যক ধারণা পাব, আর তাহলেই জান্নাত/ জাহান্নাম কোনোটার বর্ণনাই আমাদের কাছে অবিশ্বাস্য লাগবে না বুঝলি?

শীলা: উফ আপু! তুমি এত্ত সুন্দর করে সব কিছু বুঝাও কিভাবে! সত্যিই তো, আমাদের চারপাশে কত অবিশ্বাস্য ঘটনাই ঘটছে!এখন থেকে আমার মাঝে আর কখনো সংশয় আসবে না ইনশাল্লাহ!

নীরা: ইনশাল্লাহ!

পাপের বিজ্ঞাপন



ফেসবুকের হোম পেইজ এ একবার চোখ বুলাতেই একটা নিউজে চোখ আটকে গেল সুমির। এ কী! নীলার প্রোফাইলে সবাই Rest in Peace লিখছে কেন? 

তাড়াতাড়ি করে মিতুকে ফোন দিল ও।

সুমিঃ এই নীলার কী হয়েছে রে?
মিতুঃ তুই জানিস না? 
সুমিঃ নাতো, কী জানব?
মিতুঃ ও তো লাইফ সাপোর্টে ছিল তিন দিন, গতকাল রাতে মারা গেছে।
সুমিঃ ইন্নানিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিঊন।কিভাবে? কী হয়েছিল? 
মিতুঃ কিছুই নারে! সামান্য ডেঙ্গু। কিন্তু ব্রেনে ভাইরাল আক্রমণ করেছিল, ভর্তি হওয়ার দিন রাতেই একদম হঠাৎ কোমায় চলে যায়।
সুমিঃ এত কিছু ঘটে গেছে, কিচ্ছু জানি না আমি! 
মিতুঃ কেউই জানে নারে! আমিও গতকাল শুনেছি যে কোমায়, তার কিছুক্ষণ পরেই শুনি যে নাই ও। বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল মিতু।
সুমিরও গলা রুদ্ধ হয়ে এল।

ওরা একসাথে স্কুলে পড়েছে ১০ বছর। সুমি ইসলামে আসার পর সুস্পষ্টভাবে এড়িয়ে চলত নীলা, অনেকদিন তাই যোগাযোগ ছিল না।

নীলার ফেসবুক প্রোফাইলে যেতেই ভয়ে কেঁপে উঠল সুমির সারা শরীর। জ্বলজ্বল করছে ওর হাসি মাখা ছবি। দুর্দান্ত সুন্দরী ছিল, একেকটা ছবি একেক স্টাইলের। শখানেক লাইক, হট, সেক্সি ইত্যাদি নানা বিশেষণে বিশেষিত। About এ বড়বড় করে লেখা In a relationship with...........বয়ফ্রেণ্ডের সাথে এমন সব ভঙ্গিতে ছবি দিয়ে ভর্তি যে তাকানো যায় না! ওর ছবি হোমপেইজ থেকে হাইড করে রাখতে হয়েছিল এইজন্য!

ও আল্লাহ! এইগুলা সব যে এখন ওর বিরুদ্ধে সাক্ষী হবে! ওর কানের কাছে ভেসে উঠল কদিন আগেই পড়া একটা হাদীস-
“আমার সমগ্র উম্মাহ্‌ নিরাপদ, কেবল তারা ব্যতীত যারা কিনা তাদের পাপ নিয়ে দম্ভ করে বেড়ায়। তাদের কেউ যখন কোন কুকর্ম করে রাতে ঘুমাতে যায় এবং আল্লাহ্ তার পাপ গোপন রাখেন, সকালে ঘুম থেকে উঠার পর সে বলতে থাকে, “এই শোন, আমি না কাল রাতে এই এই (কুকর্ম) করেছি”।  সে যখন ঘুমাতে যাই, আল্লাহ্ তার পাপ গোপন রাখেন, আর সকালে ঘুম থেকে উঠেই আল্লাহ্ যা গোপন রেখেছিলেন তা সে লোকজনের কাছে প্রকাশ করে বেড়ায়”। [সহীহ আল বুখারী]

আল্লাহ! ফেসবুক যে এখন আমাদের পাপের
 বিজ্ঞাপন দেয়ার জায়গা হয়ে গেছে। যত মানুষ এখন ওর প্রোফাইলে যাবে ওর পাপের সাক্ষী যে আরো বাড়বে.........

হতবিহবল সুমির মাথায় হঠাৎ একটা বুদ্ধি আসল। ওর পরিচিত শখানেক বোনদের একটা ফেসবুক গ্রুপ আছে। ও ওদের বলল যে সবাই যেন নীলার ফেসবুক প্রোফাইলটার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করে। গণহারে এতজন রিপোর্ট করতে থাকলে হয়ত ব্লক হয়ে যাবে ওর প্রোফাইলটা।

জীবনকে পূর্ণ মাত্রায় উপভোগে ব্যস্ত ওর এই ছোট্টবেলার বন্ধুটার জন্য এটা করা সুমির কাছে দায়িত্ব মনে হল.........আল্লাহর অশেষ রহমতে দু-একদিনের মাঝেই প্রোফাইলটা ব্লক করিয়ে দিতে পারল!

সেইসাথে ছোট্টবেলার বন্ধুটার জন্য খুব করে দুআ করতে থাকলো। ও তো আমাদের আর সবার মতই মৃত্যুকে খুব দূরের কিছু ভেবেছিলো। ও এই যে ফেসবুকে এসব ছবি দিয়ে বেড়াতো, এতে আমাদের দায়ও কি এড়ানো যায়, যারা লাইক দিয়েছে, কমেন্ট দিয়ে প্রশংসা করেছে-ভাবছিলো সুমি। প্রশংসা পেতে কার না ভালো লাগে! একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কুরআন খুলে সূরা নূর বের করলো সুমি। উল্টাতে উল্টাতে চোখে পড়লো নিচের আয়াতটা-

“যারা পছন্দ করে যে,ঈমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার লাভ করুক,নিঃসন্দেহে ইহাকাল ও পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। [সূরা আন-নূর; ২৪:১৯]

এটাকেই খুঁজতেছিলো ও। তারপর খুঁজে বের করলো সূরা যুমারের আয়াতটা যেটা একদম মন প্রশান্ত করে দেয়-

হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি অতি ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু। (৩৯ঃ৫৩)

মনে মনে আরো একবার তাওবা করলো নিজের অতীতের গুনাহগুলোর জন্য, দুআ করলো সবার জন্য যাতে আল্লাহ আর কাউকে এভাবে অপ্রস্তুত অবস্থায় তাঁর কাছে ফিরিয়ে না নিয়ে যান, আমীন।



বিপদের ছদ্মবেশে রহমত


এ কদিন কাঁদতে কাঁদতে দু চোখ ফুলিয়ে ফেলেছিল রিমা।রাতের বেলা কেঁপে কেঁপে উঠত ঘুমের মাঝে। আম্মু তুমি যেও না, যেও না বলে হাহাকার করে উঠত। ওদের বাসায় এখন রাজ্যের লোক, রাজ্যের কথা, তাই ওকে গত চার পাঁচদিন ধরে রাতে নিজের কাছে এনে রেখেছিল তুলি। এতদিন পর গতকাল সারা রাত ঘুমিয়েছে শান্ত হয়ে, চরম ক্লান্তি নিয়ে।এখন আবার দুপুরে ঘুমাচ্ছে। আন্টি একদম হঠাৎ করে মারা গেলেন গত বৃহস্পতিবার। একটা সপ্তাহ, স্রেফ একটা সপ্তাহে জীবনটা আমূল বদলে গেলো রিমার।

জানালার শিক ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে আন্টির কথা ভাবছিল তুলি। আর মায়ের সাথে রিমার চরম আহ্লাদের দৃশ্যগুলো। তিন ভাইয়ের পর একটাই মেয়ে, যাকে বলে আদরের এক্কেবারে চূড়ান্ত। 

তুলিপু!

রিমা না ঘুমাচ্ছে! ওর আচমকা ডাকে ভাবনায় ছেদ পড়ল তুলির।

তুলি: জ্বী আপু!

মা: আপু তুমিতো ইসলাম নিয়ে অনেক পড়াশোনা করো। আল্লাহকে অনেক ডাকো। তুমি আমাকে বলতে পারবা আল্লাহ কেন আমার মাকে এভাবে নিয়ে গেল?

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল তুলি প্রশ্নটা শুনে। সেই চিরায়ত প্রশ্ন! ছোটবেলা থেকে আমাদের কখনো জীবনের উদ্দেশ্য শিখানো হয় না, মৃত্যুর পরের জীবনের কথা বলা হয়না। তাই এমন বিপদে পড়লে আমাদের মনে এমন প্রশ্ন আসাটাই যে স্বাভাবিক।

তুলি: আমরা যেখান থেকে এসেছি আমরাতো সেখানেই ফিরে যাবো, তাই না আপু? তুমি স্কুল থেকে বাসায় ফিরে আসো কেন? এটা তোমার আসল বাসস্থান বলে, তাই না? এখানেও ব্যাপারটা সেরকরম। আর একটা কথা সবসময় মনে রাখবা, আল্লাহ আমাদের সবচেয়ে ভালবাসেন। তাই ঊনি আমাদের জন্য তাই করেন যা আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো!

রিমা: আম্মু চলে যাওয়াটা আমার জন্য ভাল! আপু সবাই যে বলছে শমরিতায় না রেখে অ্যাপোলো বা স্কয়ারে ভর্তি করলে আম্মু বেঁচে যেত কথাটা কি ঠিক?

তুলি: একদমই ভুল। বলা যায় ভয়ংকর রকমের ভুল। যা হয়ে গেছে তা আমাদের ক্বদর বা ভাগ্যের অংশ।যদি তুমি ভিতর থেকে আসলেই এটা বিশ্বাস কর যে হাসপাতাল চেঞ্জ করলে আন্টি বেঁচে যেত, তবে তা আমাদের ঈমানকে নষ্ট করে দিতে পারে।

রিমা: সত্যি আপু? আপু, এই ক্বদরে বিশ্বাসের ব্যাপারটা একদম ঘোলাটে লাগে আমার কাছে। আমি এ ব্যাপারে জানতে চাই। আমি তোমার মত সব বিপদ আপদে শান্ত থাকতে চাই।

তুলি: অবশ্যই জানবা আপু। তুমি আল্লাহ্‌র দ্বীন সম্পর্কে জানতে চাইলে কোনো কিছুই বাঁধা হয়ে থাকবে না আপু! তুমি বাসায় বসেই অনলাইনে করতে পারো, শুধু খেয়াল রাখতে হবে উৎসটা যেন ঠিক থাকে। তাই অলরেডি পড়াশোনা করেছে এমন কারো গাইড লাইন অনুযায়ী করা উচিৎ। 

রিমা: আমাকে তুমি গাইড করবো আপু! আমি নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চাই এখন, গঠনমূলক কোনো কাজে। মানুষের নানা ধরণের কথা আমাকে পাগল করে দিচ্ছে।

মনে মনে আলহামদুলিল্লাহ পড়ল তুলি।আল্লাহর কাছে কোটি কোটি শোকর। নিশ্চয়ই সকল বিপদ আপদ, যা আমাদের আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে আসে তা আদতে বিপদ নয়, রহমত! 

Thursday, July 18, 2019

বাপের সম্পত্তি!


ফারাহঃ ভাবী এটা কি আপনাদের নিজের বাসা?

শর্মীঃ না ভাবী। ভাড়া।এত তাড়াতাড়ি নিজের ফ্ল্যাট কিভাবে হবে!

ফারাহঃ না আমাদের এইটা নিজেদের তো, তাই জিগ্যেস করলাম। আপনার ভাই এই ফ্ল্যাটটা আমার নামে করসে। ইন ফ্যাক্ট আমাদের যা যা সম্পত্তি সবই ও আমার নামে করে। আমাদের দুই মেয়ে তো, তাই কোনো রিস্ক নিতে চায় না। আমার ভাসুরের সাথে আমাদের বনিবনা হয় না। এত কষ্টে করা সম্পত্তি সব কথা নাই বার্তা নাই ঊনার ছেলেরা পাবে এটাতো আর হতে দেয়া যায় না তাই না?

শর্মীঃ মানে? ঠিক বুঝলাম না ভাবী। সব সম্পত্তি আপনার ভাসুরের ছেলেরা পাবে কেন?

ফারাহঃ ওমা! আপনি জানেন না? মেয়েরা তো বাপের সম্পত্তি পায় না, সব ভাইয়ের ছেলেরা নিয়ে যায়!

শর্মীঃ বাপেরটা পায় না, মায়েরটা পায়? আপনার নামে করলে কি ফায়দা?

ফারাহঃ এত কিছু বুঝিনা বাপু! মেয়েদের বাবা যা ভালো বুঝতেসে, করতেসে।

[
একটা দীর্ঘশ্বাস অনেক কষ্টে গোপন করল শর্মী। এই ফারাহ ভাবী ঊনার নতুন প্রতিবেশী। নিয়মিত পাঁচবেলা নামায পড়েন, সুন্দর করে পর্দাও করেন। শর্মী অনলাইন ইউনিভার্সিটিতে পড়ছে জানতে পেরে প্রায়ই এটা ওটা জানতেও চান ওর কাছে। এমন তাকওয়া সম্পন্ন মহিলাও কি ভয়াবহ ভুল ধারণা নিয়ে বসে আছেন- চিন্তা করে মনটা এমন খারাপ হল ওর!] একটু চুপ থেকে বলল---

ভাবী, একটা কথা বলি, কিছু মনে কইরেন না।আল্লাহ্‌র দ্বীনের ব্যাপারে আমাদেরকেতো জানতেই হবে তাই না?ওর আব্বা যা বুঝে......এভাবে এড়িয়ে গেলে কি হবে বলেন? আপনার দুই মেয়ে তাদের বাবার সম্পদের ৩ ভাগের ২ ভাগই পাবে। আপনি পাবেন ১/৮ অংশ। আর বাকিটা একেক পরিস্থিতিতে একেক জন পেতে পারে। ভাইয়ের ছেলেরাই পাবে এমন কোনো hard and fast rule নাই। আমরা উত্তরাধিকার আইনের বিস্তারিত পড়েছি। খুব সোজা ভাবী, বিশ্বাস করেন! কয়েকটা মূলনীতি মনে রাখলেই হয়, আর কিচ্ছু না। এভাবে কি আল্লাহকে ফাঁকি দেয়া যায় বলেন? 


অজুহাত

কালকে সকালে কী করছিস রে?

একটু কাজ আছে, কেন রে?

কী কাজ? কোথাও ঘুরতে যেতে ইচ্ছা করছে খুব।যাবি?

আমি একটা ইসলাম ক্লাসে যাবো। তুই যাবি আমার সাথে? সূরা ফাতিহার তাফসীর হবে। আসার সময় আমরা খেতে পারি একসাথে কোথাও। আমাদের বয়সী অনেকেই আসবে, পরিচয় হয়ে ভালো লাগবে তোর।

নারে, আমি এধরণের ক্লাসে যাওয়াটা একটু এড়িয়ে যেতে চাই।

কেন? খুব অবাক হয়ে গেল নিপা কথাটা শুনে। কারণ তন্বী যথেষ্ট প্র্যাক্টিসিং একটা মেয়ে। নিয়মিত নামায পড়ে।

বেশী কিছু জানতে চাই না, বেশী জানলেই তো বেশী হিসাব দিতে হবে, তাই না? যত কম জানবো ততই ভালো,হিসাব সহজ হবে।

এইটা তুই কী বললি?

কেন? হি হি  করে হাসতে লাগলো তন্বী। ভালো বুদ্ধি না?

তোর কি ধারণা যে আল্লাহ অন্তরের অবস্থা জানেন না?

মানে কি? এটার সাথে আমার ফাঁকিবাজি বুদ্ধির কী সম্পর্ক হল?

মানে এই যে তুই ইচ্ছা করে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করছিস না, এটা কি আল্লাহ জানেন না? অজ্ঞতা একটা অজুহাত বটে, কিন্তু সেটাতো শুধু তাদের জন্য যাদের জ্ঞান অর্জনের কোনো সুযোগ ছিল না। তোর আমার মত এদের জন্য তো না, তাই না?

হুম। এটা অবশ্য ঠিক বলেছিস। এভাবে ভেবে দেখি নি। আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে যাবো তোর সাথে কালকে।কখন বের হবি?

১০টার দিকে ইনশাল্লাহ।  

Wednesday, July 17, 2019

একদম ব্যাসিক!


যেটা জানো না, সেটা নিয়ে কথা বলবা না......আমি ওদের কোর্সের গ্র্যাজুয়েট, জানো তুমি? ২দিন ধরে কোথায় না কোথায় ইসলাম শিখেছো, এখন মাতব্বরি করতে এসেছো.........

দিনা চুপচাপ ওদের বাড়িওয়ালী আন্টির বকা শুনলো।স্মিত হেসে চুপ করে থাকলো, আর কথা বাড়ালো না দিনা।

দিনার চুপ থাকাকে বিজয়ের চিহ্ন ধরে সোৎসাহে ঊনি বলতে লাগলেন.........মেডিটেশন করে অবশ্যই অলৌকিক ক্ষমতা লাভ করা যায়, তা না হলে ওরা চিনে না জানে না এমন মানুষের বর্ণনা কিভাবে দেয়? হুহ! ফালতু কথা বলো খালি...

আন্টি, এটার ব্যাখ্যা খুব সহজ। এটা করা হয় জ্বিনদের সাহায্যে। আমাদের প্রত্যেকের সাথেই একজন ক্বারীন বা জ্বিন থাকে, আর জ্বিনরা অত্যন্ত দ্রুত বেগে চলাচল করতে পারে, আমাদের জগতটা, আর ওদের জগততো পুরা আলাদা। ধরেন আপনি মেডিটেশন করতে বসেছেন, কিছুক্ষণ আপনার সামনে একজন মানুষের রুপ ধরে এসে ওই লোকের বর্ণনা দিতে শুরু করবে, আপনিও হুবহু বলতে থাকবেন। ব্যাপারটার মেকানিজম হচ্ছে এসব যারা করে, তাদের সাথে জ্বীনদের সরাসরি যোগাযোগ থাকে, যেটা কী না ইসলামের দৃষ্টিতে পুরা কুফর। ওদেরকে জ্বীনরা সাহায্য করে নানাভাবে। যে লোকের বর্ণনা দেয়া প্রয়োজন, সেটার ক্বারীন এসে সব তথ্য আরেক জ্বীনকে দেয়, সে মানুষের রুপ ধরে এসে বলতে থাকে, বা ওই লোকের ক্বারীনই তাঁর রুপ ধরে আসে, সিম্পল!

শুনে কিছুক্ষণ থ হয়ে থাকলেন আন্টি। কী বলো তুমি এগুলা? এসব গাঁজাখুরি কথা তুমি কোথা থেকে শুনেছো?

এগুলা কুরআন হাদীস থেকে অর্জিত জ্ঞান আন্টি, আপনি চাইলে আমি আপনাকে বই দিতে পারি, The world of jinn and devils.........আপনি নিজে পড়ে দেখতে পারেন, করবেন সেটা?

হঠাৎ কেমন যেন নরম হয়ে গেল আন্টির কন্ঠটা......করবো মা। দিও তুমি আমাকে। 

একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল দিনা। মেডিটেশনের সাথে জড়িত বিষয়গুলাতে শিরক এত সূক্ষ্মভাবে জড়িত যে আক্বীদার গভীর জ্ঞান না থাকলে বোঝা আসলে দুষ্কর। ইসলাম নিয়ে স্ট্রাকচারডভাবে না পড়লে জীবনেও এই অন্তর্দৃষ্টি জন্মাতো না দিনার। অথচ এই জ্ঞানগুলো কত ব্যাসিক! 

রিবা নিয়ে জানা সিরিজের স্ক্রিপ্ট -১১

রিবার নানা রূপ আজকের পর্বে আমরা রিবার নানা রূপের সাথে পরিচিত হব যেন দৈনন্দিন জীবনে আমরা সেগুলো থেকে বেঁচে থাকতে পারি-   টাকা ধার নেয়ার...