Showing posts with label রুকিয়া. Show all posts
Showing posts with label রুকিয়া. Show all posts

Saturday, August 17, 2019

রিবা নিয়ে জানা সিরিজের স্ক্রিপ্ট -৯

        অর্থনীতিতে রিবার প্রভাব

আগের পর্ব পড়ে আমাদের মনে হতে পারে যে মুদ্রা থেকে কোনো ধরণের সুবিধা নিতে আল্লাহ আমাদের কেন নিষেধ করলেন? সুদ জিনিসটাতে ঝামেলা কোথায়?
একটু চিন্তা করলে দেখবো যে আমাদের বেঁচে থাকার জন্য যা কিছু প্রয়োজন-খাবার, পোশাক, চিকিৎসা-সব কিছু যোগাড় করতেই মুদ্রা লাগে। আপনার কাছে যদি মুদ্রা না থাকে তাহলে আপনার যত দক্ষতা বা যোগ্যতাই থাকুক না কেন আমাদের পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব হবে না কারণ আমরা লেনদেন করতে পারবো না
এখন একটা সমাজ যদি সুদভিত্তিক হয়, তাহলে সেই সমাজে যাদের হাতে মুদ্রা আছে তাদের কাছে বাকিরা জিম্মি হয়ে পড়বে। ব্যাপারটা বুঝতে আসুন একটা দৃশ্য কল্পনা করি। আপনি একজন দর্জি এবং খুব ভালো ড্রেস বানাতে পারেন। কিন্তু আপনার সেই দক্ষতা কাজে লাগানোর জন্য আপনার দরকার পুঁজি যা দিয়ে আপনি সেলাই মেশিন কিনবেন। যে আপনাকে সেলাই মেশিন কেনার টাকা ধার দিলো, সে আপনাকে শর্ত জুড়ে দিলো যে আপনি যা ড্রেস বানাবেন সব ঋণদাতার কাছে তার নির্ধারণ করা দামেই বেঁচতে হবে। এখন আপনার কাছে যেহেতু আর কোনো উপায় নেই, তাই আপনি এই শর্তে রাজি হলেন। তাহলে আপনি দেখবেন যে যতই সময় যাক না কেন আপনার অর্থনৈতিক অবস্থা একই রকম রয়ে গেছে। 
এখন ব্যাপারটা যদি এমন হয় যে অতিরিক্ত চার্জ ছাড়া কেউই মুদ্রা ধার দিচ্ছে না বা উপরের কেসটির মত কোনো শর্ত জুড়ে দিচ্ছে তখন সেই সমাজের বেশিরভাগ মানুষের অবস্থা হবে দুর্বিষহ, কারণ তারা ঠিকমত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবে না। আর  অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডই হচ্ছে একটা সমাজের চালিকা শক্তি। এ যেন আমাদের শরীরের মত, যখন রক্ত চলাচল করতে পারে না, তখন প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও অন্যান্য উপাদান শরীরের জরুরী অংশগুলোতে পৌঁছাতে পারে না এবং আমরা নানা রকম রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হই রিবা বা সুদ তাহলে শরীরের রক্ত তথা বিনিময়ের মাধ্যমকে জমাট বাধিয়ে দেয়, এটার অবাধ চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করে  
একটা সমাজে যদি রিবার প্রসার ঘটে তখন মানুষ নিজের অজান্তেই এক শ্রেণীর মানুষের দাস হয়ে যায়। সেই শ্রেণী মানুষের অসহায়তার সুযোগ নিতে কার্পণ্য করে না। এমন জুলুম ও শোষণের দ্বার বন্ধ করতেই ইসলাম কাউকে টাকা ধার দিলে বিনিময়ে অতিরিক্ত চার্জ আদায় করা একদমই নিষিদ্ধ করে দিয়েছে, ধার দিলে দিতে হবে কর্জে হাসানা, অর্থ্যাৎ যতটুকু ধার দেয়া হয়েছে শুধু সেটুকুই ফেরৎ নেয়া যাবে। শুধু তাই না, ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো সুবিধাও নেয়া যাবেনা যেমনটা আমরা উপরে দেখেছি। সহজ শর্তে ঋণ বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব ইসলামে নেই। ঋণ দিলে কোনো শর্তই আরোপ করা যাবে না। 








Wednesday, August 7, 2019

কুরআনে রুকিয়ার আয়াতগুলো আত্মস্থ করা-৮


সূরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াতঃ 

অর্থঃ 
এটা যদি আমাদের মুখস্থ না থাকে, অনুরোধ করবো মুখস্থ করে ফেলতে। অর্থ পড়লেই দেখবো যে কী পরিমাণ সাহস যোগায় এই আয়াতগুলো-
রসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতিতারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনাতারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছিআমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তাতোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে (285) আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করেহে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো নাহে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছ, হে আমাদের প্রভূ! এবং আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাইআমাদের পাপ মোচন করআমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া করতুমিই আমাদের প্রভুসুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কে সাহায্যে কর

মূল ভাবঃ

যদি আমাদেরকে কেউ যাদুটোনা করে (আল্লাহ্মাফ করুক)তাহলে এটার চাইতে সুন্দর দুআ মনে হয় আর হয় না যে আল্লাহ্তুমি আমাকে সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা দিও নাএখন এই দুই আয়াতের ফযীলত নিয়ে একাধিক হাদীস আছে, বিস্তারিত জানা যাবে এখানে

সূরা ইমরানের প্রথম ১০ আয়াতঃ


অর্থঃ

আলিফ লাম মীম (1) আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক (2) তিনি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন সত্যতার সাথে; যা সত্যায়ন করে পূর্ববর্তী কিতাবসমুহের (3) নাযিল করেছেন তাওরত ও ইঞ্জিল, এ কিতাবের পূর্বে, মানুষের হেদায়েতের জন্যে এবং অবতীর্ণ করেছেন মীমাংসানিঃসন্দেহে যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন আযাবআর আল্লাহ হচ্ছেন পরাক্রমশীল, প্রতিশোধ গ্রহণকারী (4) আল্লাহর নিকট আসমান ও যমীনের কোন বিষয়ই গোপন নেই (5) তিনিই সেই আল্লাহ, যিনি তোমাদের আকৃতি গঠন করেন মায়ের গর্ভে, যেমন তিনি চেয়েছেনতিনি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেইতিনি প্রবল পরাক্রমশীল, প্রজ্ঞাময় (6) তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেনতাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশআর অন্যগুলো রূপকসুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোরআর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে নাআর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছিএই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছেআর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না (7) হে আমাদের পালনকর্তা! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্যলংঘনে প্রবৃত্ত করোনা এবং তোমার নিকট থেকে আমাদিগকে অনুগ্রহ দান করতুমিই সব কিছুর দাতা (8) হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি মানুষকে একদিন অবশ্যই একত্রিত করবেঃ এতে কোনই সন্দেহ নেইনিশ্চয় আল্লাহ তাঁর ওয়াদার অন্যথা করেন না (9) যারা কুফুরী করে, তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর সামনে কখনও কাজে আসবে নাআর তারাই হচ্ছে দোযখের ইন্ধন

মূল ভাবঃ 
এগুলো আল্লাহর পরিচয় দানকারী আরো কিছু আয়াত।  আমার অসম্ভব প্রিয় একটা দুআ আছে এখানে। ৮ নং আয়াতটা।আল্লাহ যে আমাদের এটা শিখাচ্ছেন,এটা থেকেই বোঝা যায় যে হিদায়াত স্থায়ী কিছু নয়। এই প্রেক্ষিতে আমার এই আয়াতটা পড়ে মনে হল যে আমরা অনেকেই ‘তাত্ত্বিকভাবে’ জানি যে তাবিজ, যাদুটোনা ইত্যাদি করা শিরক। কিন্তু আল্লাহ্‌ মাফ করুন নিজেদের জীবনে যদি বিশাল কোনো বিপদ আসে এগুলার ফলে, তখন অস্থির হয়ে গিয়ে এগুলার দ্বারস্থ হই। যেমন মনে করুন আপনার একমাত্র সন্তান আইসিইউতে। ডাক্তাররা আশা ছেড়ে দিয়েছেন। আপনাকে কেউ বললো যাদুটোনার কারণে এমন হয়েছে এবং আপনি অমুক জায়গায় গিয়ে অমুক তাবিজ ঝুলালে আপনার সন্তান বেঁচে উঠবে।
কী করবেন আপনি? আপনি কিন্তু জানেন যে পাল্টা যাদুটোনা করা শিরক.........
এইসব সময়েই আমাদের দুআ করা উচিৎ আগের পোস্টের দুআটা...আল্লাহ যেন আমাদেরকে সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা না দেন আর একবার হিদায়াত লাভের পর আমরা যেন সত্য লঙ্গনে প্রবৃত্ত না হই।
এই আয়াতের আরেকটা শিক্ষা হচ্ছে কুরআনের আয়াতকে বিভ্রান্তভাবে ব্যাখ্যা না করা। যারা তাবিজ, যাদুটোনা এগুলোকে ইসলামের মোড়কে সাজিয়ে উপস্থাপন করে, তারা সবসময় আপনাকে অস্পষ্ট কথাবার্তা বলবে। যাদুটোনা যে কুফরি সেটা সূরা বাক্বারার ১০২-০৩ আয়াতে দ্ব্যর্থহীণ ভাষায় বলে দেয়া হয়েছে।
আল্লাহ্‌ আমাদেরকে হিদায়াতের উপর মৃত্যু বরণ করার তৌফিক দান করুন, আমীন।

Tuesday, July 9, 2019

কুরআনে রুকিয়ার আয়াতগুলো আত্মস্থ করা-৭


সূরা বাক্বারার ১৬৩-৬৪ আয়াতঃ

অর্থঃ

আর তোমাদের উপাস্য একইমাত্র উপাস্য তিনি ছাড়া মহা করুণাময় দয়ালু কেউ নেই নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে এবং নদীতে নৌকাসমূহের চলাচলে মানুষের জন্য কল্যাণ রয়েছে আর আল্লাহ তা আলা আকাশ থেকে যে পানি নাযিল করেছেন, তদ্দ্বারা মৃত যমীনকে সজীব করে তুলেছেন এবং তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সবরকম জীব-জন্তু আর আবহাওয়া পরিবর্তনে এবং মেঘমালার যা তাঁরই হুকুমের অধীনে আসমান ও যমীনের মাঝে বিচরণ করে, নিশ্চয়ই সে সমস্ত বিষয়ের মাঝে নিদর্শন রয়েছে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্যে 

মূল ভাবঃ

আমার সীমিত বুদ্ধিতে মনে হচ্ছে এই আয়াতে আবার আল্লাহর পরিচয় দেয়া হচ্ছে। ঊনি যে আসলে সব কিছুর নিয়ন্ত্রক এটা মনে প্রাণে বিশ্বাস ও আত্মস্থ করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আর যখনই আমরা তা না করে তাবিজ কবজের দ্বারস্থ হবো, আমরা শিরকে লিপ্ত হবো, তাই শুরুতেই বলে দেয়া হচ্ছে যে আমাদের ইলাহ শুধু আল্লাহই

সূরা বাক্বারার ২৫৫-৫৬ আয়াতঃ

অর্থঃ

আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এখন যারা গোমরাহকারী ‘তাগুত’দেরকে মানবে না এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল যা ভাংবার নয়। আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন। (২ঃ২৫৫-৫৬)

মূল ভাবঃ

সূরা বাক্বারার ২৫৫ নং আয়াত আয়াতুল ক্বুরসী হিসেবেই সমধিক পরিচিত। আয়াতুল কুরসীর ফযীলতের কথা মনে হয় নতুন করে বলার কিছু নাই। এটা কুরআনের শ্রেষ্ঠতম আয়াত। বিস্তারিত জানা যাবে এখানে 

উস্তাদ নুমান আলী খান এটার ভাষাগত মিরাক্যল তুলে ধরেছেন, যেটা জানা যাবে এখান থেকে

আয়াতুল কুরসীতে অবশ্যই আল্লাহর পরিচয় দেয়া হয়েছে শ্রেষ্ঠতম ভাষাশৈলী দিয়ে। এটাকে নিজে পড়ে, অনুধাবন করে তারপর আমল করলে তবেই ফল পাওয়া যাবে ইনশাল্লাহ। আমরা অনেক সময় স্রেফ বাড়িতে ঝুলায় রাখি বা গাড়িতে ভাবি যে এটার লেখাটা আমাদের রক্ষা করবে। আলিমরা অধিকাংশ সময়েই এগুলোকে নিরুৎসাহিত করেন কারণ কুরআন একারণে নাযিল হয় নি
২৫৫ আয়াতের পরই ২৫৬ আয়াতের বিষইয়বস্তুটা কিন্তু খুব interesting. আল্লাহকে ছাড়া আমরা যখনই অন্য কারো দ্বারস্থ হব বিপদ আপদ থেকে মুক্তির আশায়- তাবিজ কবজ, জ্বীন সাধক, পীর বাবা ইত্যাদি, তখনই আমরা হিদায়াতের পথ থেকে পৃথক হয়ে যাবো ও তাগুদের অনুসারী হয়ে যাবো
আল্লাহ্‌ আমাদেরকে সেই সুদৃঢ় হাতল ধরে থাকার তৌফিক দিন, যেটার কথা এখানে বলা  হয়েছে, আমীন

Thursday, July 4, 2019

কুরআনে রুকিয়ার আয়াতগুলো আত্মস্থ করা-৬


আজকের পর্ব থেকে আমরা চেষ্টা করবো রুকিয়ার আয়াতগুলো নিয়ে একটু কথা বলতে, সেগুলো আত্মস্থ করার মানসে ইনশাল্লাহ।আমার সীমিত বুঝ মতে রুকিয়ার আয়াতগুলো হয় আল্লাহর পরিচয় নিয়ে কথা বলে যাতে আমরা এক আল্লাহর উপরই ভরসা করতে পারি। না হয় জ্বীন জগত সম্পর্কে আমাদের এমন তথ্য জানায় যা জানলে আমরা আর জ্বীন সাধক বা ভণ্ড পীরদের কাছে যাবো না। আমাদের মনে রাখতে হবে যে  ধৈর্য্য এইসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেখা যায় ধৈর্য্যের অভাবেই আমরা তাবিজ কবজের দ্বারস্থ হই।


এখানে বলে রাখা ভালো যে রুকিয়ার আয়াত কোনগুলো সে ব্যাপারে সবসময় আমরা সুনির্দিষ্ট হাদীস পাই না। তাই এই লিস্টটা All conclusive কিছু না।

সূরা ফাতিহাঃ

একদম প্রথমেই আছে সূরা ফাতিহা। এটার মর্যাদা নিয়ে তো বলার কিছু নাই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীরা স্বয়ং এটা দিয়ে রুকিয়া করেছেন। বুখারীর হাদিস থেকে আমরা তা জানতে পারি।

আবূ সাঈদ (রহ.) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একদল সাহাবী কোন এক সফরে যাত্রা করেন। তারা এক আরব গোত্রে পৌঁছে তাদের মেহমান হতে চাইলেন। কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। সে গোত্রের সরদার বিচ্ছু দ্বারা দংশিত হল। লোকেরা তার (আরোগ্যের) জন্য সব ধরনের চেষ্টা করল। কিন্তু কিছুতেই কোন উপকার হল না। তখন তাদের কেউ বলল, এ কাফেলা যারা এখানে অবতরণ করেছে তাদের কাছে তোমরা গেলে ভাল হত। সম্ভবত, তাদের কারো কাছে কিছু থাকতে পারে। ওরা তাদের নিকট গেল এবং বলল, হে যাত্রীদল! আমাদের সরদারকে বিচ্ছু দংশন করেছে, আমরা সব রকমের চেষ্টা করেছি, কিন্তু কিছুতেই উপকার হচ্ছে না। তোমাদের কারো কাছে কিছু আছে কি? তাদের (সাহাবীদের) একজন বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম আমি ঝাড়-ফুঁক করতে পারি। আমরা তোমাদের মেহমানদারী কামনা করেছিলাম, কিন্তু তোমরা আমাদের জন্য মেহমানদারী করনি। কাজেই আমি তোমাদের ঝাড়-ফুঁক করব না, যে পর্যন্ত না তোমরা আমাদের জন্য পারিশ্রমিক নির্ধারণ কর। তখন তারা এক পাল বকরীর শর্তে তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হল। তারপর তিনি গিয়ে الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ “আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন” (সূরা ফাতিহা) পড়ে তার উপর ফুঁ দিতে লাগলেন। ফলে সে (এমনভাবে নিরাময় হল) যেন বন্ধন হতে মুক্ত হল এবং সে এমনভাবে চলতে ফিরতে লাগল যেন তার কোন কষ্টই ছিল না। (বর্ণনাকারী বলেন,) তারপর তারা তাদের স্বীকৃত পারিশ্রমিক পুরোপুরি দিয়ে দিল। সাহাবীদের কেউ কেউ বলেন, এগুলো বণ্টন কর। কিন্তু যিনি ঝাড়-ফুঁক করেছিলেন তিনি বললেন এটা করব না, যে পর্যন্ত না আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট গিয়ে তাঁকে এই ঘটনা জানাই এবং লক্ষ্য করি তিনি আমাদের কী নির্দেশ দেন। তারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে ঘটনা বর্ণনা করলেন। তিনি [নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] বলেন, তুমি কিভাবে জানলে যে, সূরা ফাতিহা একটি দু‘আ? তারপর বলেন, তোমরা ঠিকই করেছ। বণ্টন কর এবং তোমাদের সাথে আমার জন্যও একটা অংশ রাখ। এ বলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসলেন। (বুখারী পর্ব ৩৭ অধ্যায় ১৬ হাদীস নং ২২৭৬; মুসলিম ৩৯/২৩, হাঃ ২২০১)

সূরা বাক্বারাঃ

রুকিয়ার আয়াতের লিস্টে সূরা বাক্বারার অনেকগুলো আয়াত পাওয়া যায়। পুরা সূরা বাক্বারার ফযীলাত নিয়ে নিচের হাদীস আছেঃ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের ঘরগুলোকে কবরস্থানে পরিণত করো না। (এগুলোতে কুরআন তিলাওয়াত করো) কারণ যেসব ঘরে সূরা আল বাকারাহ্ তিলাওয়াত করা হয় সে ঘর হতে শয়তান ভেগে যায়। (মুসলিম ৭৮০)

সূরা বাক্বারার ১-৫ আয়াত

অর্থঃ

আলিফ লাম মীম। (1) এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য, (2) যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে (3) এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের উপর যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে(4) তারাই নিজেদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সুপথ প্রাপ্ত, আর তারাই যথার্থ সফলকাম। (5)

মূল ভাবঃ

আমার কাছে মনে হয়েছে (ভুল হলে আল্লাহ মাফ করুন) এখানে গায়েবে বিশ্বাসের কথা বলা হয়েছে যেটার একটা অংশ হচ্ছে জ্বীন জগতে বিশ্বাস।

সূরা বাক্বারার ১০২-১০৩ নং আয়াতঃ
এই আয়াতদ্বয় নিয়ে আগেই বিস্তারিত আলোচনা করেছি। 

রিবা নিয়ে জানা সিরিজের স্ক্রিপ্ট -১১

রিবার নানা রূপ আজকের পর্বে আমরা রিবার নানা রূপের সাথে পরিচিত হব যেন দৈনন্দিন জীবনে আমরা সেগুলো থেকে বেঁচে থাকতে পারি-   টাকা ধার নেয়ার...