Showing posts with label হৃদয়ের কথা. Show all posts
Showing posts with label হৃদয়ের কথা. Show all posts

Thursday, September 26, 2019

‘আলোকিত মানুষের’ চোখে শাড়ি

শর্মীঃ এই আজকের প্রথম আলোতে আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের ‘শাড়ি’ নামের লেখাটা পড়েছিস?
স্নিগ্ধাঃ হুম দেখলাম। এমনিতে পড়া হত না হয়তো কিন্তু যে হারে ফেসবুকে মানুষজন কথা বলতেসে এটা নিয়ে, কৌতূহল বশত চোখ বুলালাম একবার। এভাবে উলটা মানুষ আরো মার্কেটিং করতেসে লেখাটার।
শর্মীঃ তোর কি বক্তব্য লেখাটা নিয়ে?
স্নিগ্ধাঃ মানুষজন এভাবে রিঅ্যাক্ট করতেসে কেন আমার কাছে ক্লিয়ার না আসলে। লেখাটার ভাষা খুবই বাজে হলেও শাড়ি নিয়ে যা বলসে তার মূল থিম তো ঠিকই আছে। এটা একটু উলটা পালটা ভাবে পরলেই ছেলেদের বিশেষ আকাংখা জাগ্রত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল আর লেখাটার লেখকের চিন্তা ভাবনা যে এমন তা তো জানাই কথা। তোরা আসলে অনেক ছোট, ঊনার আগের বিটিভিতে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা বা এসব দেখিস নাই তো, তাই একটা ফেরেশতা টাইপের ইমেজ বানায় রাখসিস। ঊনারা মেয়েদেরকে এভাবেই দেখতে চান তাই শাড়িকে শালীন পোশাক বলসেন। ঊনারা মেয়েদেরকে শালীনতার একটা অদ্ভুত কনসেপ্ট শিখাতে চান যাতে দুই কূলই রক্ষা হয়-মানে ঊনাদের দৃষ্টি সুখও হয় আবার সংস্কৃতিমনা বাঙ্গালী নারীর সৌন্দর্য শাড়ি এইসব হাবিজাবি কথাও বলা যায়। তবে ঊনার এই একটা লেখা দিয়ে ঊনার অন্য কাজ মানে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের এইসব, ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী, সেগুলাকে ছোট করে দেখার পক্ষপাতী না আমি। ব্যক্তি মানুষ আর তার কাজকে আলাদা করে দেখা শিখতে হবে আমাদের।
শর্মীঃ আমি তোর সাথে কিছুটা একমত। আমি আসলে খুব অবাক হইসি লেখাটা পড়ে। আমার কাছে মনে হইসে এই বুড়া বয়সে এসে ঊনি ঊনার আসল চেহারাটা উন্মোচন করে দেয়ার ভুলটা কেন করলেন বুঝলাম না। আমি নিজে তো সেই কবে থেকেই বিশ্ব সাহিত্ব কেন্দ্রের নিয়মিত সদস্য। পড়ে পরীক্ষাও দিতাম। কখনো কুরআনের অনুবাদ বা ইসলামিক কোনো বই দেখি নি। ইসলামের প্রতি আমাদের এই সো কল্ড সুশীল সমাজের যে একটা সূক্ষ্ম বিতৃষ্ণা আছে এবং সেটা যে ঊনারা খুব সাফল্যের সাথে আমাদের প্রজন্মের মাঝে ঢুকিয়ে দিতে পেরেছেন এটা বুঝতে আমার অনেক সময় লেগেছে কিন্তু। নিজে বুঝলেও মানুষকে কিভাবে বুঝাবো তা বুঝে উঠতে পারতাম না। এখন ঊনি নিজেই সেই কাজটা করে দিলেন।
স্নিগ্ধাঃ আমি বুঝলাম না যে ঊনার এই লেখার সাথে ঊনার ইসলাম বিদ্বেষ এইসব হাবিজাবি কথা কোথা থেকে আসতেসে? তোদের হুজুরদের এইটা একটা সমস্যা কিন্তু! সব কিছুতেই ইসলামকে টেনে আনিস আর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাস। ভাল্লাগে না যত্তসব।
শর্মীঃ শোন, তোকে আমি বুঝায় বলি ব্যাপারটা। আমরা যখন মেয়েদের পর্দা করার দুনিয়াবী উপকার নিয়ে কথা বলি, তখন বলি যে এতে মেয়েদের Sexual objectification টা হয় না, মানে মেয়েদেরকে স্রেফ ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখার রাস্তাটা বন্ধ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে একটা Underlying assumption হচ্ছে ছেলেদের এটা একটা স্বাভাবিক প্রবণতা- মেয়েদেরকে এভাবে কামনার দৃষ্টিতে দেখা। আল্লাহর ভয়ে দৃষ্টি সংযত যদি নাও করে তাতেও যেন আর এক দিক থেকে একটা রক্ষা কবজ থাকে, I mean, তাকালেও খুব বেশী কিছু যেন দেখা না যায়। এই যুক্তি যদি দেখানো হইতো তখন সুশীল ছেলেরা এবং ছেলেদেরকে খুব আপন ভাবা মেয়েরা হইহই করে উঠতো। আজকালকার ছেলেদের জন্য নারী অধিকার নিয়ে কথা বলা এক ধরণের স্মার্টনেস, জাতে উঠার ক্রাইটেরিয়া হয়ে গেছে। তাই তুই ছেলেদের দেখবি যে বলতে যে আমরা কি পশু নাকি যে মেয়ে দেখলেই উলটাপালটা চিন্তা আসবে? শিক্ষিত, সম্ভ্রান্ত ছেলেরা মেয়েদেরকে সম্মান করে সেটা তারা যেমন পোশাকই পরুক না কেন, এভাবে ছেলেদের Civic sense কে অপমান করা হয় ব্লা ব্লা রাজ্যের কথা শুনবি। এখন এই লেখা থেকে বুঝা যাচ্ছে যে বই পড়ে আলোকিত মানুষরাও মেয়েদেরকে এভাবেই দেখে যেভাবে এতদিন হুজুররা claim করে এসেছে। তারা খুব দুঃখিত যে আজকালকার মেয়েরা ওত বেশী শাড়ী পরে না, ঊনাদেরও মেয়েদের শরীরের উঁচু নিচু ভাঁজগুলো দু চোখ ভরে দেখা হয় না।
স্নিগ্ধাঃ ওই, লেখাটা থেকে এমনে শব্দ তুলে ধরিস না তো, খুবই বাজে লাগতেসে কানে। খুব ভালগার লাগসে আমার কাছে লেখাটা।
শর্মীঃ তবে এই লেখাটা পড়ে আমার কাছে আরো একটা জিনিস হঠাৎ মনে হইসে।আল্লাহ কেন মানুষের ছবি আঁকতে নিষেধ করসেন এইটার যৌক্তিক ব্যাখ্যা এতদিন আমার কাছে কিছু ছিলো না। ভাস্কর্যের ব্যাপারটা বেশ ক্লিয়ার যে এতে মূর্তি পূজার দুয়ার উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে। কিন্তু এইবার এই লেখাটার সাথে যেসব চিত্রকর্ম দেয়া হইসে সেটা দেখে আমার মনে হইসে যে ছেলেদের ছবি আঁকতে দিলে ওরা ঘুরে ফিরে মেয়েদের ছবিই আঁকবে আর সেখানে মেয়েদের বাজেভাবেই উপস্থাপন করবে। আমার কাছে তো লেখাটার সাথের ছবি গুলাও রীতিমত অশ্লীল লাগছে। তখন আমার মনে পড়লো যে ফেসবুকে একটা গ্রুপে আমি গল্প পড়তাম মাঝে মাঝে। সেখানেও মানুষ তাদের চিত্রকর্ম পোস্ট করতো, ক্যান জানি সব এই বুকের আঁচল খোলা নয়তো বাঁকা হয়ে দাঁড়ানো নয়তো আলু থালু বেশের মেয়েই হইতো।
স্নিগ্ধাঃ হুম এইটা ভালো পয়েন্ট বলছিস। ছবিগুলা আমারো চোখে লাগসে। মানুষকে স্বাধীনতা দিলে যেসব ব্যাপারে মানুষ সীমা মেনে চলতে পারবে না, সেগুলোতেই নিষেধ করা হইসে মে বি
শর্মীঃ এক্স্যাক্টলি। আর একটা জিনিসের ছবি আঁকার জন্য কল্পনা তো লাগেই সাথে একবার হলেও সেটার দিকে গভীর দৃষ্টি নিয়ে তাকাতে হয়। প্র্যাক্টিসিং মুসলিম কারো এমন আলু থালু বেশে নন-মাহরাম মেয়ের দিকে তাকানোর সুযোগ নাই তো। আর নিজের মাহরাম মেয়ের ছবিতো কেউ এঁকে প্রদর্শন করতে চাবে না।
স্নিগ্ধাঃ হুম। তবে প্রকৃতির ছবি আঁকার ব্যাপারে তোর চিন্তাটা কী?
শর্মীঃ ওই যে, যার ছবি আঁকবে তার দিকে বারবার নিবিষ্ট মন নিয়ে তাকাতে হবে, চিন্তা করতে হবে.........আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করা, ভ্রমণ করা, দেখা এগুলোতো কুরআনে খুবই উৎসাহিত করা হয়েছে। মানুষ পরকালের অস্তিত্ব এমনিতেই বুঝার কথা এইসব সৃষ্টি বৈচিত্র্য নিয়ে গবেষোনা করলে।
স্নিগ্ধাঃ হুম বুঝলাম। তোর কথাটা ভালোই যুক্তিযুক্ত লাগছে আমার কাছে। ওই ফোন রাখি রে এখন, আম্মার ইন্সুলিন নেয়ার সময় হয়ে গেছে।
শর্মীঃ হ্যাঁ, যা। আমিও পড়তে বসবো এখন ইনশাল্লাহ। ভালো থাকিস, আল্লাহ হাফেয।

শেষ যাত্রার শুরুতে.........

কেস স্টাডি ১ঃ
মৃত্যুটা হয়েছিলো একটা গাড়ি অ্যাক্সিডেন্টে।মৃতের সারা শরীরে অসংখ্য কাঁচ ঢুকে গিয়েছিলো। শয়ে শয়ে, নাকি হাজারে হাজারে? গোসল করানোর জন্য তার গায়ে হাত দেয়া যাচ্ছিলো না। কী করণীয়? অনেক চিন্তার পর একটা বুদ্ধি বের হলো। কিভাবে মনে নেই কিন্তু আলগোছে লাশটাকে আধ শোয়া করে পানির পাইপ দিয়ে তীব্র বেগে বিপরীত দিক থেকে পানি বর্ষণ করা হতে লাগলো। কিছুটা গাছে পানি দেয়ার মত করে। বেশ দূর থেকে আর খেয়াল করা হলো সামনে যেন কেউ না থাকে। সেই পানির তোরে অজস্র কাঁচ বেড়িয়ে এলো শরীর থেকে। এভাবে বেশ কয়েক বার করার পর অবস্থা অন্তত এটুক দাঁড়ালো যে গায়ে হাত দেয়া যাচ্ছে, কোনো রকমে গোসল সেরে কাফনের কাপড় পরিয়ে দেয়া হল।
কেস স্টাডি ২ঃ
মেয়েটা হাল ফ্যাশনের টাইট জিন্স আর টপস পরে বের হয়েছিলো বাসা থেকে। এবার একটু বেশীই আঁটসাঁট কেনা হয়ে গেছে কী? নাহ, যত লেগে থাকে গায়ের সাথে, বডি শেপটা ভালো বুঝা যায়, সুন্দরও লাগে- রিকশায় বসে ভাবছিলো মেয়েটি। কিন্তু বাধ সাধলো বিপরীত দিক থেকে তীব্র বেগে ছুটে আসা একটা বাস। রিকশা থেকে ছিটকে পরলো। গোসল করানোর সময় দেখা গেলো এত সাধের জিন্সটা এমনভাবে গায়ের সাথে এটে বসেছে যে কিছুতেই লাশের গা থেকে খোলা যাচ্ছে না। কী করণীয় তবে? বহু কষ্টে পায়ের গোড়ালি থেকে কাচি দিয়ে কাটা শুরু করা হল। শরীরের মাংস যেন কেটে না যায় এইভাবে, অতি সাবধানে জিন্সটা গা থেকে খোলা হল, গোসল দেয়া হল।
কেস স্টাডি ৩ঃ
‘আমার খুব ভয় লাগছে রে’- ডাক্তারের কাছে যেতে যেতে বোনকে ফিসফিস করে বলেছিলো মেয়েটি। যদি এবারো মেয়ে হয়, তোর দুলাভাই বলেছে যেন তার বাড়ির চৌকাঠ না মারাই।
আহ আপা, এত ভাবিস না তো, রিযিক্বের মালিক আল্লাহ। যেতে হবে না তোর ওই বাসায় তিন নাম্ব্বার মেয়েকে নিয়ে।
সাত পাঁচ এত না ভেবেই বড় বোনকে স্বান্তনা দিয়েছিলো। কিন্তু সে কি বুঝেছিলো কী বলেছিলো বোনকে?
আলট্রা সনোগ্রামে দেখা গেলো এবারো মেয়ে। বাড়ি ফিরে স্বামীকে কী বলবে এটা ভাবতে ভাবতেই ডাক্তারের চেম্বারে সিড়ি দিয়ে হোঁচট খেয়ে পরল মেয়েটি। কয়েক স্টেপ গরিয়ে যখন নিচে পরল, তখন সব শেষ। আপাদমস্তক বোরখাতে আবৃত, সুন্দরভাবে তার রাবের কাছে চলে গেলো মেয়েটি, সাথে গর্ভের মেয়েটাও। আর একজন মেয়ে জন্ম দেয়ার ‘বিশাল’ অপরাধের শাস্তি পেতে হল না আর। মেয়েটিকে গোসল করানোর অভিজ্ঞতা হয়েছিলো যার, তিনি বলেছিলেন এত সহজ আর সুন্দর ভাবে খুব কম গোসলই সম্পন্ন হয়েছে। হাল্কা একটা হাসি মুখে লেগেছিলো যেন ঠোঁটে। অপমানজনকভাবে কোনো বাড়িতে ফিরতে হয় নি, ফিরে গেছেন সম্মানজনক এক বাড়িতে।
কেস স্টাডি ৪ঃ
ঊনার পরিচিত কেউ নেই? আত্মীয় স্বজন?
নাহ, এই নার্সিং হোমে ফেলে গেছে দিন দশেক আগে, ভুয়া ফোন নম্বর আর ঠিকানা দেয়া। গত ৪-৫ ঘণ্টা ধরে পায়ুপথ দিয়ে বর্জ্য পদার্থ বের হচ্ছে তো হচ্ছেই। এমনিতে গোসল করাতে গিয়ে মৃতের শরীর থেকে রক্ত, জমে থাকা মল মুত্র বের হওয়া কিছুটা কমন অভিজ্ঞতা। কিন্তু এহেন ঘটনার সম্মুখীন হন নাই কখনো। বিরামহীনভাবে বের হয়ে চলেছে। আর ধৈর্য্য ধরে রাখা সম্ভব হল না.........মোটামুটিভাবে গোসল শেষ করিয়ে এক গাদা তুলার গাড্ডি চেপে ধরা হল ওই রাস্তায়। এভাবেই কাফনের কাপড় পরিয়ে ফেলা হল.........
উপরের ঘটনাগুলো ২০১০-১১ সাল নাগাদ একটা লাশ ধোয়ানোর ক্লাস করতে গিয়ে ইন্সট্রাক্টরের মুখে শোনা। বিস্তারিত এখন অনেকটাই মনে নেই, তাই কিছুটা কল্পনার আশ্রয় নেয়া হয়েছে, তবে মূল থিম ঠিক আছে। যিনি ক্লাস নিয়েছিলেন, এই জীবনে বহু লাশ ধুইয়েছেন তিনি। হয়েছেন বহু অভিজ্ঞতার সাক্ষী। আমাদের সারা জীবনের যা আমল, অনেক সময়েই তার উপর নির্ভর করে এই শেষ যাত্রার শুরুটা কেমন হবে। কারো কারো গোসল করাতে গিয়ে বীভৎস সব অভিজ্ঞতা হয়, কারো কারো ক্ষেত্রে খুব সহজে, সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়ে যায় সব কিছু। পরিচয় প্রকাশ না করে এই অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করেছিলেন যেন আমরা শিক্ষা নিতে পারি।
ওই ক্লাস করার পর বেশ কিছুদিন রাতে ঘুমাতে পারতাম না। দুআ করতাম একটা সুন্দর মৃত্যুর জন্য। তারপর কত সময় কেটে গেছে। শয়তান ভুলিয়ে দিয়েছে ওই তীব্র আবেগ।
আবারো হয়তো দুআর লিস্টে যোগ হয়েছে হালাল ইনকাম, পড়াশোনা, সন্তান, সবার সুস্থ থাকা-----------সবই গ্রহনযোগ্য দুআ অবশ্যই কিন্তু একটু বেশীই বুঝি দুনিয়া কেন্দ্রিক হয়ে গিয়েছিলাম?
জানি না।
গতকাল আমার নানী শাশুড়ি আমাদের রাবের কাছে ফিরে গেছেন। আমার দেখা অসাধারণ একজন মহিলা। অসামান্য সুন্দরী ঊনার চেহারা মনে করলেই আমার চোখে ভেসে উঠে একটা দৃশ্য---------আশেপাশের মহিলারা হয়তো সাংসারিক নানা আলাপচারিতায় মগ্ন, ঊনি একটু দূরে বসে তাফসীর পড়ছেন। আমাদের বিয়েতে তাফসীর ইবনে কাসীরের পুরো সেটটা গিফট দেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন একজন আত্মীয়কে। ঊনার বক্তব্য ছিলো এইটা আমাদের সবার পড়া দরকার, এই সুযোগে কেনা হয়ে যাবে, সবাই মিলে মিশে পড়া যাবে।
শেষ যেবার দেশে যাই, ঊনার সাথে কয়েক রাত কাটানোর সৌভাগ্য হয়েছিলো। মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে দেখতাম বিছানা খালি, তাহাজ্জুদের জন্য উঠে গেছেন। আমি ঊনার অনেক আদর পেয়েছি, ভালবাসতে পারার অসামান্য যে ক্ষমতা আল্লাহ ঊনাকে দিয়েছিলেন, তার বদৌলতে। শেষ কদিন খুব কষ্ট পেয়েছেন-----------ক্যান্সারে ভুগছিলেন। ঊনার কষ্টের দিনগুলো আবার আমার মাঝে ওই দুআটা ফিরিয়ে এনেছে- একটা সুন্দর মৃত্যুর দুআ।
যখন আমি আমার রাবের প্রতি সন্তুষ্ট এবং আমার রাব, আম্মা, মেয়ের বাবা, আমার চারপাশের মানুষগুলো আমার উপর সন্তুষ্ট, এই অবস্থায় যেন আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে পারি। এই যে নানু চলে গেলেন, ঊনার চারপাশের মানুষগুলো শুধুই স্মরণ করছেন ঊনার ওয়াক্তের শুরুতে নামায পরার, তাহাজ্জুদ পরার, গীবত না করার, কুরআন বুঝে পড়ার, পর্দা করে চলার অভ্যাসগুলো। আল্লাহ আমাদেরও এমন মৃত্যু দেয়ার তৌফিক দিন, নানুকে জান্নাতুল ফিরদাউস দিন, আমাদের, আমাদের সন্তানদের ঊনার জন্য সাদক্বায়ে জারিয়ে হিসেবে ক্ববুল করুন।
*উত্তম মৃত্যুর জন্যে দোয়া* 🌹
‎*اللهم إني أسألك حسن الخاتمة .. *
উচ্চারণ:- আল্লহুম্মা ইন্নি আসআলুকা হুসনাল খ-তিমাহ।
অর্থ:- *হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উত্তম মৃত্যু চাই!*
২) *মৃত্যুর আগে খাঁটি তাওবা করার জন্য দোয়া*🌹
‎اللهم أرزقني توبة
‎ نصوحة قبل الموت
উচ্চারণ:-আল্লাহুম্মারযুক্বনি তওবাতান্নাসু-হাহ, ক্ববলাল মাউত।
অর্থ:- *হে আল্লাহ! আপনি আমাকে রিযিক হিসেবে দিন মৃত্যুর পূর্বে খাটি দিলে তওবা করার।*
৩) *দীনের উপরে অটল থাকার জন্য দোয়া* 🌹
‎.. اللهم يا مقلب القلوب ثبت قلبي على دينك ..
উচ্চারণ:-আল্লাহুম্মা ইয়া! মুক্বাল্লিবাল ক্বুলুব, ছাব্বিত ক্বলবী আ'লা দ্বীনিক।
অর্থ:- *হে আল্লাহ ! হে হৃদয়ের পরিবর্তন কারী ! আপনি আমার হৃদয়-কে আপনার দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন!*

Wednesday, August 7, 2019

মুখের ভাষা



ফেসবুকে কয়েকটা পোস্ট দেখে মনটাই খারাপ হয়ে গেল আনিকার। ওর ফ্রেণ্ডলিস্টে সব মতাদর্শের মানুষই আছে, তাই এমন পোস্ট চাইলেও চোখ এড়ায় না......

একজন ফ্রেণ্ড তার চিন্তা ভাবনার সাথে মেলে না এমন একজন স্কলারের ঢালাও নিন্দা করে একটা লেখা শেয়ার করেছে যেখানে সমানে ঊনাকে পথভ্রষ্ট, গোমরাহ এগুলো বলা হচ্ছে......সাথে এটাও দাবী করা হচ্ছে যে ঊনার এহেন আক্বীদার জন্য ঊনি আর মুসলিম থাকতে পারেন না, তাই যারা তাঁর আদর্শকে অনুসরণ করে তারাও উচ্ছ্বনে গেছে ইত্যাদি...ওই পোস্টে এসে একজন বিরোধিতা করেছে, ব্যাস শুরু হয়ে গেছে কী বোর্ডের খোঁচা দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি।  ২-১টা কমেন্ট পড়ে আর সহ্য করতে পারলো না ও। উঠে গেল...।।

জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে একটু আনমনা হয়ে গেল আনিকা......ও যদি ওর ইসলামে আসার আগে এসব তথাকথিত প্র্যাক্টিসিং মুসলিমদের সাথে মিশতো, যাদের মুখের ভাষা এরকম, তাহলে জীবনে কী আসতো ও আর ইসলামে ?

Etiquette of seeking knowledge কোর্সটাতে সেদিনই পড়ছিল যে কোনো স্কলারকে ভুলের ঊর্ধ্বে মনে করা এক ধরণের এক্সট্রিমিজম। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাতীত আর কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে ছিলেন না। ঠিক সেভাবে কোনো স্কলারের যদি কোনো ভুল জানিও আমরা, তবে তাঁর আর সব কাজকে বাদ দিয়ে দেয়াও আরেকধরণের এক্সট্রিমিজম। আমাদের উচিৎ মধ্যপন্থা অবলম্বন করা......ঊনি বেশ কিছু স্বনামধন্য স্কলারের বড় কিছু ভুলের উদাহরণও দিলেন যেন আমরা স্কলারদের ফেরেশতার পর্যায়ে না উঠিয়ে ফেলি। আমরা যেন ভুলে না যাই যে ইসলামে কোনো পুরোহিত তন্ত্র নেই......অবশ্যই স্কলাররা সম্মানিত, তাদেরকে আমরা অন্ধভাবে বিশ্বাস করি না, আবার তাদের একটু ভুল পেলে ধুয়েও ফেলি না...মধ্যপন্থা......মধ্যপন্থা শিখতে হবে আমাদের!

প্রায়োরিটি


আল্লাহ কেন কুরআনকে আরবী ভাষায় পাঠাতে গেলেন? এত কঠিন! তার উপর উচ্চারণের কত নিয়ম কানুন!

কিছুদিন হল বাসায় একজন তাজউইড এর শিক্ষিকা রেখে সহীহভাবে কুরআনের উচ্চারণটা শিখছে নিপা। ও পড়ছে, এমন সময়ে কয়েকদিন ওর বাসায় এসেছে শৈলী, তাতেই ওর মনে এই প্রশ্নের উদয় হয়েছে।
কথা শুনে স্মিত হাসি দিল নিপা।কিছু বললো না।

কিন্তু শৈলী তো আর ছেড়ে কথা বলার পাত্রী না, তাই আবারো বললো, ‘তোর কাছে এই ব্যাপারটা বিরক্তিকর লাগে না? কঠিন লাগে না?

নিজের অজান্তেই শৈলীর পড়ার টেবিলের দিকে চোখ চলে গেল নিপার। টেবিল ভর্তি IELTS আর GRE র বই দিয়ে ভরা।

আচ্ছা এই যে তুই গত ছয় মাস ধরে GRE আর IELTS এর জন্য পড়ছিস, তোর এই ব্যাপারটা বিরক্ত লাগে না?কঠিন লাগে না?

লাগে না আবার! জানটা কয়লা হয়ে গেল রে! কিন্তু কোনো উপায়ও যে নেই! IELTS ছাড়া বাইরে পড়তে যাওয়ার তো কোনো সুযোগই নেই!

হুম।

দ্যাখ, ‘বাইরে পড়তে যাওয়াটা’ তোর কাছে যথেষ্ট ভালো একটা incentive মনে হচ্ছে এতদিন ধরে এগুলা পড়ার জন্য, তাই না?

কুরআন সহীহ উচ্চারণে তিলাওয়াত করার এবং আরবী জানার উপকারিতা তুই যদি জানতি বা বলা যায় বিশ্বাস করতি, তাহলে জান প্রাণ দিয়ে খেটে এগুলা শিখতে চাইতি। আমরা আখিরাতের উপরে দুনিয়ার সাফল্যকে এখন অগ্রাধিকার দেই বলে এগুলোর পিছনে সময়, শ্রম ব্যয় করতে চাই না।
কথাটা শুনে একটু ম্রিয়মান হয়ে গেল শৈলী। কথাটা তুই খুব একটা ভুল বলিসনি বোধ হয়......
*******************************************
আমরা সবাই দাবী করি যে আমরা পরকালে বিশ্বাস করি। আমাদের জীবনের ‘প্রায়োরিটি’ ঠিক করার সময় সেটা কি প্রকাশ পায়?


ভিন্ন নামের দুই বোনের উপাখ্যান


আপুর লেখা ‘মুবাশ্বেরা উপাখ্যান’ পড়লাম। পড়ে মনের গভীর থেকে আবারো আলহামদুলিল্লাহ পড়লাম যে ফেসবুক আমার অ্যাকাউন্ট দিসে বন্ধ কইরা। নাইলে সে যতই ‘কাহিনী মে টুইস্ট’ বলুক আমি দিব্য চোখে দেখতে পাচ্ছিলাম যে সেই ছোটবেলার ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটতো!আমার ফেসবুক থাকলে মানুষ জন আমাকে মেসেজ পাঠাতো যে তোমার তথাকথিত জনপ্রিয়তার রহস্য তাহলে এই! আপু এতদিন লিখতো না বলে You were the king in the jungle of blinds! সোজা বাংলায় ফাঁকা মাঠে গোল দিচ্ছিলা!আপুর লেখা কী ঝরঝরে মাশাআল্লাহ, তোমার মত ‘প্রবন্ধ টাইপ’ না

তুলনা তুলনা তুলনা!

ছোট বেলা থেকেই দেখে আসছি এই তুলনা। দুই বোনের মাঝে কে বেশী সুন্দর, কে বেশী মেধাবী, কে বেশী কাজ কর্মে পটু এই তুলনা আমাদের চারপাশের মানুষরা হরহামেশাই করতো।বিয়ের পর সেটা গড়ালো স্বামী, শ্বশুরবাড়ি এসব পর্যন্ত। আমাদের সম্পর্কের মূল Strength মনে হয় এটাই ছিলো যে আলহামদুলিল্লাহ এই তুলনার বিষবাষ্প যেন আমাদের সম্পর্ককে কলুষিত করতে না পারে সেজন্য আমরা সচেতন ছিলাম।কিন্তু তাতেও আবার ঝামেলা! তখন আমাদের দুই বোনের মাঝে সম্পর্ক হল মানুষের মাথা ব্যথা, হিংসার কারণ! কী জ্বালা!

যাই হোক, একই নামের দুই বোনের উপাখ্যান তো আপনারা শুনেছেন, আজ আপনাদের শুনাবো আর এক জোড়া বোনের কাহিনী। আজ থেকে ১০-১৫ বছর পর এরা যদি লেখালেখি শুরু করে তাহলে পাঠকরা বুঝতেও পারবেন না যে এরা দুই বোন! কারণ এদের নামে কোনো মিল নেই। একজনের নাম বিনতে ইয়াসির, আর একজনের নাম বিনতে সাবিত

কিন্তু ওই যে কথায় আছে না যে ‘বৃক্ষ তোমার নাম কী ফলে পরিচয়?’ সেরকম এদের কাণ্ড কারখানা দেখে বুঝলাম যে ‘বোন তোমরা প্রমাণ কী স্বভাবে পরিচয়!’

বিনতে ইয়াসির দেখতে কার মত এটা একটা রহস্য হলেও বিনতে সাবিতের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই -_- । সে যদি হারায় যায়, কোনো সমস্যা নাই, রাস্তার মানুষ যদি তার বাবাকে দেখে থাকে তাইলে এসে দিয়ে যাবে বাসায়, কারণ ঊনাকে দেখেই বোঝা যায় ঊনি কার মেয়ে

তাই শুরুতে ভেবেছিলাম দুই বোনের মাঝে কোনো মিল নাই। স্বভাবেও তেমন ছিলো না। আমি ভাবলাম সামীনকে তো দু বছর পর্যন্ত বড় করতে হেল্প করসি , এবার একটা ‘অন্যরকম বাবু’ পালার অভিজ্ঞতা হবে ইনশাল্লাহ।

কিন্তু কিসের কী! যত দিন যাচ্ছে, মেয়েটা আমার ডুপ্লিকেট সামীন হয়ে যাচ্ছে!! খাওয়া শেষ হইলে উলটা দিক ফিরে একটা ঘুরান দেয়,এক মুহুর্ত স্থির থাকে না, খাওয়ার সময়ে একইভাবে হাত পা নাড়াইতেই থাকে, খিদা লাগলে বাম কানটা ঝাড়া দিতে থাকে .........স্বভাবে এত এত মিল যে আমি অবাক হয়ে যাই!মনে হয় আমি যেন ফিরে গেছি ৮ বছর আগের জীবনে!

পার্থক্য কী নাই?

হুম আছে! কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে সেই পার্থক্যটা ‘Mirror image’ আমাদের দুই বোনের স্বভাবের! কারণ দুই বোন তাদের যার যার খালার মত হইসে আলহামদুলিল্লাহ!

আপু ছিলো আমাদের ৩ ভাইবোনের মাঝে সবচেয়ে লক্ষী বাচ্চা। আম্মা ব্যাপারটাকে আজো দেখেন ‘আল্লাহ কাউকে সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা দেন না’ এই হিসেবে। আম্মার ভাষায় আমি আর ভাইয়া এত জ্বালাইসি,এত জ্বালাইসি যে আপু যদি এমন শান্ত শিষ্ট লেজ বিশিষ্ট না হইতো তাহলে আম্মার গন্তব্য হইতো হেমায়েতপুরে।

নিজের এমন বর্ণাঢ্য অতীত কাহিনী শুনলে কে না চাইবে যে তার বাবু খালার মত হোক? আমিও তাই রামাদ্বানে আকুল হয়ে দুআ করসি। এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে আল্লাহ ক্ববুল করসেন। ইলমা তাই অনেক ব্যাপারেই সামীনের চেয়ে ভালো! টিকা দেয়ার সময় হাউমাউ করে কাঁদে না, পড়ে গিয়ে ব্যথা পেলে নিজেই সামলায় নেয়, চিৎকার করে বাড়ি মাথায় তোলে না ইত্যাদি।

ব্যাস এইখানে করে ফেলসি ঝামেলা। বয়ে নিয়ে আসা বাংগালী স্বভাব বসত সামীনকে বলসি যে ইলমু সোনা তো তোর চেয়ে ভালো। তুই যে হাড় জ্বালানী ছিলি।

৯ বছরের ছোট বোনের সাথে এহেন তুলনা বড় জনের কাছে অনেক অপমানজনক ঠেকেছে। ঊনি রাগ করে বলেছেন ছোট আপুকে আর দেখবে না ভিডিও কলে।

তারপর কান ধরেছি। আর করবো না তুলনা ইনশাল্লাহ। এই দুই বোনের এখনো দেখা হয় নি, এরা দুই ভিন্ন দেশের নাগরিক, এদের নাম আলাদা, ভাষা, বেড়ে ওঠা সবই হবে আলাদা............তারপরও ভিডিও কলের মাধ্যমে যে তীব্র বন্ধন গড়ে উঠেছে তা যেন অটুট থাকে।

মিলের উৎস তাহলে কী? এদের দুই বোনেরই শরীরে বইছে Mubasshera Sisters এর রক্ত। দেশ, ভাষা সব কিছুর সীমানা পেড়িয়ে  বড় হবার পরও এই দুই বোন কি বয়ে বেড়াবে জিন নামক আল্লাহর এক অদ্ভুত নিদর্শন? বড় হয়ে এদের স্বভাব দেখে কি মানুষ বলবে যে আচ্ছা তোমরা কি দুই বোন?
আল্লাহই জানেন। সেটা দেখার জন্য আমরা দুই মুবাশ্বেরা কিংবা একজন হয়তো বেঁচে থাকবো না কিন্তু এভাবেই তো আসলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মানুষের চিহ্ন রয়ে যায়। ঠিক যেভাবে আমরা দুই বোন আমাদের লেখার স্বভাবের মাঝে বয়ে চলেছি আমাদের আব্বা আর ফুপুদের ধাঁচ!

এগুলো সবই আমার কাছে মহান রাবের এক অসামান্য নিদর্শন। এভাবেই মানুষ বেঁচে থাকে মৃত্যুর পরও। তবে সেই বেঁচে থাকাটা যেন আমাদের আমল নামার জন্য ইতিবাচক কিছু হয় এটাই চাওয়া। তাই ভিন্ন নামের দুই বোন যেন Mubasshera Sisters এর জন্য সাদক্বায়ে জারিয়ে হয় এই দুআ করতে ভুলবেন না যেন!


কান নিয়েছে চিলে

আপা, ও আপা!
রহিমা বুয়া বার তিনেক ডাকার পর হুঁশ ফিরলো ডঃ ফিরোজার। মগ্ন হয়ে একটা রিসার্চ আর্টিকেল পড়ছিলেন। খুবই ইন্টারেস্টিং আর্টিকেলটা। ঢাকা বিশ্যবিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ডঃ ফিরোজা। দেশ বিদেশের বিখ্যাত জার্নালে তার পেপার নিয়মিত পাবলিশ হয়। তবে তিনি বিশ্বাস করেন এর অনেকটুকু অবদান রহিমা বুয়ার। সে আছে বলেই বিশাল একটা সময় রিসার্চের পিছনে দিতে পারেন তিনি। নিজের মত করে গুছিয়ে কাজ করে সে, খুব কমই তার কাজের খবরদারী করতে হয়। আজকের দিনে ঢাকা শহরে তার মত কাজের বুয়া থাকা আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার শামিল। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হল ফিরোজা যখন পড়াশোনার কাজ করেন তখন সেটা বুঝতে পারে রহিমা বুয়া, পারতপক্ষে ডিস্টার্ব করে না তাকে। তাই হঠাৎ তার এই ডাকে বেশ অবাকই হলেন তিনি।
কী ব্যাপার বুয়া?
একটা কথা জিগানোর জন্য আইছি।
বলো!
আমাগো বস্তিতে সবাই কইতেসে, আসছে জুম্মাবারে বাসার বেসিন দিয়া হগগলে এক লগে ব্লিচিং পাউডার ঢাইলা দিলে বলে সব ডেঙ্গু মশা যাইবো গা! যারা নানান বাড়িত কাম করে, তারা করবো এই কাম বলাবলি করতাসিলো। হুইনা আমার কেমুন য্যান লাগলো। টুনির বাপ গত জুম্মায় মসজিদ থন হুইন্যা আইসে যে ইমাম সাব কইসে চট কইরা সব কথা য্যান আমরা বিশ্বাস না করি। আল্লাহর মানা আসে। এই ছেলেধরা আইসা বাচ্চা লইয়া যাইবো এইটাও নাকি ভুয়া কথা। তাই ভাবলাম আপনারে জিগাই! এই কথাটা কি ঠিক আপা?
এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে গেলো রহিমা বুয়া আর কথাগুলো শুনে থ হয়ে রইলেন ফিরোজা। ব্লিচিং পাউডার দিলে এডিস মশা মরবে কিভাবে এটার লার্ভা তো থাকে পরিষ্কার স্বচ্ছ পানিতে! এভাবে বেসিন দিয়ে সবাই ব্লিচিং পাউডার ঢেলে দিলেতো সেটা ড্রেন দিয়ে ওয়াসার পানির লাইনের সাথে মিশে যেতে পারে, নদী নালা গুলোর মাঝে গিয়ে পড়লে মাছ, জলজ নানা প্রাণীর মারাত্মক সর্বনাশ হতে পারে। এটাতো চরম আত্মঘাতী একটা কাজ হতে যাচ্ছে। কে রটাচ্ছে এসব গুজব! তাদের উদ্দেশ্যই বা কী!
রহিমা বুয়াকে এত বিস্তারিত না বলে খালি বললেন ভুলেও এই কাজ করবে না। একদম ভুল কাজ এটা। ডেঙ্গু মশা জন্মায় পরিষ্কার পানিতে, হারপিক দিয়ে এটা মরে না, বরং এভাবে আমাদের খাওয়ার পানিতে হারপিক মিশে যেতে পারে।
তার আঁতকে ওঠা চেহারা আর এই ব্যাখ্যা শুনেই কনভিন্সড রহিমা বুয়া। জানালো এখুনি গিয়ে বস্তির অন্যান্য মানুষদের এটা জানিয়ে দিবে সে।
রহিমা বুয়া চলে যাওয়ার পরও চরম অস্বস্তিটা যাচ্ছিলো না ডঃ ফিরোজার। হাতে মোবাইল তুলে নিলেন। দুদিন পর একটা কনফারেন্সে ফুল পেপার সাবমিশনের ডেডলাইন আছে বিধায় অনলাইন জগত থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন। বড্ড সময় নষ্ট হয় একবার ফেসবুক বা হোয়াটস অ্যাপে ঢুকলে। তবে এটার সমস্যা হচ্ছে একদমই কিছু জানাও যায় না তাছাড়া। তাই ভাবলেন একটু জানা দরকার কী ঘটছে বাইরের দুনিয়ায়। ফিরোজা বেশ কিছু হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের মেম্বার , কিন্তু অনেক মেসেজ আসে দেখে নোটিফিকেশন অফ করে রেখেছেন। সেগুলো চেক করতে গিয়ে বিস্ময়ে থ হয়ে গেলেন-সবগুলো গ্রুপেই দেখি এই আহ্বান ওয়ালা মেসেজ এসেছে! আসছে জুম্মাবারে সবাই একসাথে.........
কিছুক্ষণ অবাক হয়ে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে রইলেন ফিরোজা। আসলেই কী এই মেসেজগুলো তার ডাক্তার, স্কুলের শিক্ষিকা ফ্রেণ্ডদের দ্বারা ফরওয়ার্ডেড হয়েছে? এদেরকে কি আদৌ শিক্ষিত বলা যায়?
একটা বিশা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন ফিরোজা। সেই পুরান কথাটাই আবার যেন নতুন করে উপলব্ধি করলেন- আল্লাহর কিতাবের জ্ঞান মানুষকে এমন একটা ‘সেন্স’ দেয় যেটা দুনিয়ার হাজারটা ডিগ্রী দিতে পারে না। ইমাম সাহেব বলেছেন যে রহিমা বুয়ার যে আক্কেল আছে সেটা তার তথাকথিত শিক্ষিত ফ্রেণ্ডদের নাই। মনে পড়লো সূরা হুজুরাতের আয়াতটা-
মুমিনগণ! যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও। (৪৯:৬)
কী গভীর একটা কথা। আমরা একবার যদি মেনে চলতাম তাহলে এভাবে কি যাচাই না করে স্রেফ শেয়ার অপশনে ক্লিক করে দিতাম? ডঃ ফিরোজার আরো মনে পড়লো-

অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে (১৬:৪৩)

যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার পিছনে পড়ো না। নিশ্চয় কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে। (১৭:৩৬)

এ বিষয়ে হাদীসও আছে-

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কোন লোকের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে (সত্যতা যাচাই না করে) তা-ই বলে বেড়ায়। (মুসলিমঃ৫)
আসলে অনলাইন দুনিয়াটাই বোধহয় এমন। খুব সহজে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় এই ব্যাপারটার একটা উন্মাদনা আছে মনে হয়। তাই চিন্তা ভাবনা না করেই ক্লিক করতে থাকি আমরা। কিন্তু যার দ্বীনের বুঝ আছে সেতো বুঝবে যে প্রতিটা ক্লিকের জন্যই সে দায়িত্বশীল। এসব কাজে সময় ব্যয় করি বলেই অনেক সুন্নাতী আমল করি না যা হয়তো আসলেই আমাদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। সহীহ হাদীস থেকে আমরা একটা দুআ জানতে পারি যেটা সকাল বিকাল তিনবার যদি আমরা নিয়ম করে পড়ি তাহলে ডেংগু মশা সহ যাবতীয় ক্ষতিকর প্রাণী থেকে মুক্ত থাকতে পারবো ইনশাল্লাহ। হাদীসটা হচ্ছে
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন “যে ব্যক্তি সকালে তিনবার ও সন্ধ্যায় তিন বার এই দুআ পড়বে, কোনো কিছুই ঐ ব্যক্তির ক্ষতি করতে পারবেনা”।
بِسْمِ اللهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ العَلِيمُ
আরবী উচ্চারণঃ বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা ইয়াদুররু মা আ’সমিহী শাই’উন ফিল আরদি, ওয়ালা ফিস সামা-য়ী, ওয়াহুয়াস সামীউ’ল আ’লীম। (৩ বার)।
বাংলা অর্থঃ আমি সেই আল্লাহর নামে শুরু করছি, যার নামে শুরু করলে আসমান ও যমীনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারেনা। প্রকৃতপক্ষে তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী। (৩ বার)।
আবু দাউদ, তিরমিযী ৩৩৮৮, ইবনে মাজাহ ৩৮৬৯, মুসনাদে আহমাদ ৪৪৮, ৫২৯, হিসনুল মুসলিমঃ পৃষ্ঠা ১৩৮, শেখ আলবানীর মতে হাদীসটি হাসান।
ডঃ ফিরোজা এটা সবসময় আমল করার চেষ্টা করেন, ছেলেমেয়েদের শিখিয়েছেন, সাথে নিচের কাজটাও করেন নিয়মিত। বাসায় ঢুকে, ভার্সিটি যেয়ে নিচের দুআটা পড়েন-
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন স্থানে অবতরণ করে বলে, ‘আউযুবি কালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মা-তি মিন শার্‌রি মা খালাক্ব’ (অর্থাৎ, আমি আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ বাক্য দ্বারা তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় কামনা করছি)। কোন কিছুই তাঁর ক্ষতি করতে পারবে না, এ স্থান ত্যাগ না করা পর্যন্ত।” (মুসলিম ২৭০৮)
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সিদ্ধান্ত নিলেন ডঃ ফিরোজা-আরো বেশী সময় দাওয়াতী কাজে ব্যয় করতে হবে। অবশ্যই যে রিসার্চগুলো তিনি করেন, সেগুলোকে ইবাদাত মনে করেন বলেই করেন কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মাঝে তার একটা অন্যরকম গ্রহণযোগ্যতা আছে তিনি টের পান। সেটা কাজে লাগিয়ে আরো বেশী অফলাইনের দুনিয়ায় ব্যস্ত হতে হবে ইনশাল্লাহ। তার আগে নিজে থেকেই ফোন করলেন সুমনকে, তার ভাগিনা, একটা শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক, নিজেই ফোন করে বললেন যে তার রেফারেন্স দিয়ে যেন ছাপিয়ে দেয় যে এটা একটা ভুয়া নিউজ।
আমরা সবাই যদি নিজের দায়িত্বগুলো এভাবে পালন করি তাহলে এই ‘কান নিয়েছে চিলে’ টাইপ গুজবগুলো আমাদের জন্য সর্বনাশ ডেকে আনবে না ইনশাল্লাহ।

নিয়্যতের বিশুদ্ধতা


আনিকার বাসায় স্নিগ্ধাকে দেখে একদম চমকে গিয়েছিল স্বর্ণা। না চমকে উপায় নেই অবশ্য, পুরোদস্তুর বোরকায় ঢাকা ওকে দেখে বোঝার উপায় নেই এই সেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্নিগ্ধা...জিন্স আর টিশার্ট ছিল যার প্রতিদিনের পোশাক। কত চেষ্টা করেছে ইসলামের সৌন্দর্য্য বোঝাতে, একটুও পারে নি। তারপর একসময় হাল ছেড়ে দিয়েছিল। সেই স্নিগ্ধা! স্নিগ্ধাও স্বর্ণাকে দেখে জড়িয়ে ধরল দু হাত ধরে......পাক্কা ৫ বছর পর দেখা......

বাসায় ফিরেও একটু আনমনা ছিল স্বর্ণা।কিছুই ভালো লাগছে না......আম্মা ভাপা পিঠা বানিয়েছিলেন, এতদিন দেশের বাইরে থাকার পর আম্মার হাতের পিঠা! তবু কেন কিছু ভালো লাগছে না?

স্নিগ্ধার কথাগুলো মাথায় ঘুরছিল। আনিকার ভূয়সী প্রশংসা করছিল। কিভাবে ওর মাধ্যমে ইসলাম প্র্যাক্টিসের প্রতি আগ্রহ জন্মেছে, কিভাবে আনিকা ওকে ধরে ধরে কুরআন শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করা শিখিয়েছে......

বারান্দায় বসে থাকতে থাকতে হঠাৎ একটা চিন্তা উঁকি দিল স্বর্ণার মাথায়। তবে কি স্নিগ্ধার মুখে আনিকার এত প্রশংসা শুনে মনে খারাপ লাগছিলো ওর? অথচ আনিকাও তো ওর ইসলাম ক্লাসের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী! তবে কি স্নিগ্ধা আনিকার প্রভাবে বদলে যাওয়াতে মন থেকে খুশী হতে পারে নি ও?

কিন্তু তা তো না......ও তো একসময় নিয়মিত দুআ করতো স্নিগ্ধার জন্য......

তবে কি স্বর্ণা চাইতো ওর মাধ্যমে একজন ইসলামে আসুক, ও কি আত্মতৃপ্তিতে ভুগতে চাইতো? নাকি চাইতো ওর কাছের বন্ধু ইসলামের ছায়াতলে আসুক সেটা যেভাবেই হোক?

মাগরিবের নামাযের আযান শুনে উঠে পড়লো বারান্দা থেকে। এখুনি আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে হবে, আর দুআ করতে হবে নিজের নিয়্যতের শুদ্ধতার জন্য। নিজেকেই নিজে মনে করিয়ে দিলো স্বর্ণা.........আমি চাই আমার চারপাশের মানুষেরা ইসলামকে বুঝুক, পালন করুক কারণ আমি তাদের ভালোবাসি......সেটা যার মাধ্যমেই হোক, আমি খুশী। আমার মাধ্যমে কেউ ইসলামে এসেছে এই আত্মতৃপ্তিতে ভুগতে চাই যদি তবে সেটা রিয়া হয়ে যাবে যে !

Wednesday, July 24, 2019

কয়েক স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা


জানেন আপু আমার না মেডিসিন নিয়ে পড়তে ইংল্যাণ্ডে যাওয়ার কথা ছিল, সেই আমি ended up going to Bangkok for treatment, সেখানে থাকতে হল প্রায় ৭-৮ মাস......খুব বিতিকিচ্ছিরি অসুখ, গলায় সিস্ট হইসিলো, কথা বলতে পারি নাই ৩ মাস! ডাক্তাররা একবার সাস্পেক্ট করছিলো যে ক্যান্সার হয়ে গেছে মনে হয়। আলহামদুলিল্লাহ যে হয় নাই। এরপর থেকেই আমি সিদ্ধান্ত নেই প্র্যাক্টিসিং মুসলিম হবার ব্যাপারে!

হুম। তাহলে তো বলা যায় তুমি বোনাস লাইফের উপর চলছো। এতদিনে তোমার আখিরাত মানে কবরের জীবন শুরু হয়ে যেতে পারতো, কী বলো?

তাতো বটেই আপু! কিন্তু ভার্সিটি গেলেই আমার এইসব সচেতনতা সব উধাও হয়ে যায়। ইসলাম প্র্যাকটিস করা মানেই প্রচণ্ড একা হয়ে যাওয়া আপু, সেটা আমি খুব ভয় পাই.........পরিত্যক্ত হবার ভয়!

এটা কিন্তু স্বাভাবিক জানো?

স্বাভাবিক?

হুম। আমাদের একটা মেজর সমস্যা হচ্ছে যে আমরা যে একজন ভয়ংকর শত্রু পরিবেষ্টিত হয়ে থাকি, সেটা আমাদের মনে থাকে না......

শত্রু? ফিক করে হেসে ফেলল রাত্রি

সত্যিরে আপু! সেই শত্রুর নাম শয়তান। আল্লাহ কুরআনে বারবার ওকে প্রকাশ্য শত্রু বলছেন। এই জীবনটা হচ্ছে শয়তানের সাথে একটা constant battle. এইভাবে যদি দেখা যায় সব কিছু, তাহলে অনেকটাই সহজ হয়। আজ যদি তুমি ভাবো যে তুমি শত্রু পরিবেষ্টিত হয়ে আছেো, তাহলে তোমার অ্যাটিটিউড কী নরমাল থাকবে?

এইটা কিন্তু আপু ভালো কথা বলসো। এমনে ভাবি নাই। এভাবে দেখলে বুস্ট আপ থাকা যায় সবসময়।

এক্স্যাটলি। আমাদের ইসলামী পড়াশোনায় এটা একটা মিসিং লিংক মনে হয় আমার কাছে। প্রতিটা সময় যখন আমাদের দুনিয়ার প্রতি মোহ জন্মায় আমরা যদি সেটাকে শয়তানের ফাঁদ হিসেবে দেখতে পারি, তাহলে সহজে প্রতারিত হই না......

হুম......খুশী মনে মাথা নাড়লো রাত্রি......এখন থেকে নিজেকে কয়েক স্তর বিশিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে মুড়ে রাখতে হবে দুআ, যিকির আর righteous company দিয়ে ইনশাল্লাহ।

নিষিদ্ধ প্রশ্ন


শীলা: আপু, তোমাকে একটা কথা জিগ্যেস করি?

নীরা: অবশ্যই! এত ভূমিকা করছিস কেনো হঠাৎ?

শীলা: আগে বলো রাগ করবা না! ইয়ে মানে প্রশ্নটা একটু ভয়ংকর টাইপ। ছোটবেলায় আম্মুকে বলছিলাম, আম্মু ঠাস করে চড় লাগায় দিসিল আর তওবা করতে বলছিল!কিন্তু আমার মাথা থেকে না প্রশ্নটা যায় নাই!

কথাটার মাঝে এমন একটা সরলতা ছিল যে শুনে ফিক করে হেসে দিল নীরা।

নীরা: আচ্ছা বাবা শুনে চড় লাগাব না, রাগও করব না।

কথাটা শুনে একটু আশ্বস্ত হয়ে শীলা বলল ইয়ে মানে আপু তুমি বলার পর থেকে আমি আবার কুরআন অর্থসহ পড়া শুরু করছি। কিন্তু যখনই জাহান্নামের বর্ণনা পড়ি, আমার কাছে শাস্তিগুলা না কেমন যেন অবাস্তব লাগে, ঠিক বিশ্বাস হতে চায় না! এমন কি আসলেই হবে আপু? 

কথাটা শুনে একটু থম ধরে থাকল নীরা। IOU তে ভর্তি হবার আগে ঠিক এইরকমভাবেই বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলাচলে যে ও নিজেও ভুগতো, তা আর বছর আটেকের ছোট এই কাজিনটাকে খুলে বলল না ও। IOU তে Dawah কোর্সে পড়া টিপসটাই ব্যবহার করল.........

নীরা: এই যে এখানে পানির বোতলটা দেখতেসিস, এখান থেকে এক ফোঁটা পানি দিয়ে যদি আমি আস্ত একটা মানুষ বানায় ফেলি তাইলে কেমন হবে ব্যাপারটা?কিংবা যদি এখন এই ছাঁদ দিয়ে অঝোরে পানি পড়তে থাকে?

শীলা: এক ফোঁটা পানি থেকে মানুষ হবে কেমনে? আর মাত্র নতুন বানানো এই বাড়িটার ছাদে তো কোনো ফাটল নাই, সেখান থেকে পানিই বা পড়বে কেমনে আপু? কীসব অবিশ্বাস্য কথাই যে বলো!

নীরা: আপুরে, অথচ চিন্তা করে দ্যাখ যে এমন অবিশ্বাস্য ব্যাপারই তো হরহামেশা ঘটছে, তাই না? আকাশ থেকে রেগুলার পানি পড়ছে, কোনো ফুটা নাই তবু, আকাশটা দাঁড়িয়ে আছে খুঁটি ছাড়াই, আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করছেন এক ফোঁটা বীর্য থেকে...... তাই না?

শীলা: এভাবে তো কখনো ভেবে দেখি নাই!

নীরা: হ্যাঁ রে! এইজন্যই আল্লাহ পুরা কুরআন জুড়ে আল্লাহর এসব সৃষ্টি নৈপুণ্যের দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। এগুলা নিয়ে যদি চিন্তা করি আমরা, আল্লাহর ক্ষমতার ব্যাপারে সম্যক ধারণা পাব, আর তাহলেই জান্নাত/ জাহান্নাম কোনোটার বর্ণনাই আমাদের কাছে অবিশ্বাস্য লাগবে না বুঝলি?

শীলা: উফ আপু! তুমি এত্ত সুন্দর করে সব কিছু বুঝাও কিভাবে! সত্যিই তো, আমাদের চারপাশে কত অবিশ্বাস্য ঘটনাই ঘটছে!এখন থেকে আমার মাঝে আর কখনো সংশয় আসবে না ইনশাল্লাহ!

নীরা: ইনশাল্লাহ!

পাপের বিজ্ঞাপন



ফেসবুকের হোম পেইজ এ একবার চোখ বুলাতেই একটা নিউজে চোখ আটকে গেল সুমির। এ কী! নীলার প্রোফাইলে সবাই Rest in Peace লিখছে কেন? 

তাড়াতাড়ি করে মিতুকে ফোন দিল ও।

সুমিঃ এই নীলার কী হয়েছে রে?
মিতুঃ তুই জানিস না? 
সুমিঃ নাতো, কী জানব?
মিতুঃ ও তো লাইফ সাপোর্টে ছিল তিন দিন, গতকাল রাতে মারা গেছে।
সুমিঃ ইন্নানিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিঊন।কিভাবে? কী হয়েছিল? 
মিতুঃ কিছুই নারে! সামান্য ডেঙ্গু। কিন্তু ব্রেনে ভাইরাল আক্রমণ করেছিল, ভর্তি হওয়ার দিন রাতেই একদম হঠাৎ কোমায় চলে যায়।
সুমিঃ এত কিছু ঘটে গেছে, কিচ্ছু জানি না আমি! 
মিতুঃ কেউই জানে নারে! আমিও গতকাল শুনেছি যে কোমায়, তার কিছুক্ষণ পরেই শুনি যে নাই ও। বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল মিতু।
সুমিরও গলা রুদ্ধ হয়ে এল।

ওরা একসাথে স্কুলে পড়েছে ১০ বছর। সুমি ইসলামে আসার পর সুস্পষ্টভাবে এড়িয়ে চলত নীলা, অনেকদিন তাই যোগাযোগ ছিল না।

নীলার ফেসবুক প্রোফাইলে যেতেই ভয়ে কেঁপে উঠল সুমির সারা শরীর। জ্বলজ্বল করছে ওর হাসি মাখা ছবি। দুর্দান্ত সুন্দরী ছিল, একেকটা ছবি একেক স্টাইলের। শখানেক লাইক, হট, সেক্সি ইত্যাদি নানা বিশেষণে বিশেষিত। About এ বড়বড় করে লেখা In a relationship with...........বয়ফ্রেণ্ডের সাথে এমন সব ভঙ্গিতে ছবি দিয়ে ভর্তি যে তাকানো যায় না! ওর ছবি হোমপেইজ থেকে হাইড করে রাখতে হয়েছিল এইজন্য!

ও আল্লাহ! এইগুলা সব যে এখন ওর বিরুদ্ধে সাক্ষী হবে! ওর কানের কাছে ভেসে উঠল কদিন আগেই পড়া একটা হাদীস-
“আমার সমগ্র উম্মাহ্‌ নিরাপদ, কেবল তারা ব্যতীত যারা কিনা তাদের পাপ নিয়ে দম্ভ করে বেড়ায়। তাদের কেউ যখন কোন কুকর্ম করে রাতে ঘুমাতে যায় এবং আল্লাহ্ তার পাপ গোপন রাখেন, সকালে ঘুম থেকে উঠার পর সে বলতে থাকে, “এই শোন, আমি না কাল রাতে এই এই (কুকর্ম) করেছি”।  সে যখন ঘুমাতে যাই, আল্লাহ্ তার পাপ গোপন রাখেন, আর সকালে ঘুম থেকে উঠেই আল্লাহ্ যা গোপন রেখেছিলেন তা সে লোকজনের কাছে প্রকাশ করে বেড়ায়”। [সহীহ আল বুখারী]

আল্লাহ! ফেসবুক যে এখন আমাদের পাপের
 বিজ্ঞাপন দেয়ার জায়গা হয়ে গেছে। যত মানুষ এখন ওর প্রোফাইলে যাবে ওর পাপের সাক্ষী যে আরো বাড়বে.........

হতবিহবল সুমির মাথায় হঠাৎ একটা বুদ্ধি আসল। ওর পরিচিত শখানেক বোনদের একটা ফেসবুক গ্রুপ আছে। ও ওদের বলল যে সবাই যেন নীলার ফেসবুক প্রোফাইলটার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করে। গণহারে এতজন রিপোর্ট করতে থাকলে হয়ত ব্লক হয়ে যাবে ওর প্রোফাইলটা।

জীবনকে পূর্ণ মাত্রায় উপভোগে ব্যস্ত ওর এই ছোট্টবেলার বন্ধুটার জন্য এটা করা সুমির কাছে দায়িত্ব মনে হল.........আল্লাহর অশেষ রহমতে দু-একদিনের মাঝেই প্রোফাইলটা ব্লক করিয়ে দিতে পারল!

সেইসাথে ছোট্টবেলার বন্ধুটার জন্য খুব করে দুআ করতে থাকলো। ও তো আমাদের আর সবার মতই মৃত্যুকে খুব দূরের কিছু ভেবেছিলো। ও এই যে ফেসবুকে এসব ছবি দিয়ে বেড়াতো, এতে আমাদের দায়ও কি এড়ানো যায়, যারা লাইক দিয়েছে, কমেন্ট দিয়ে প্রশংসা করেছে-ভাবছিলো সুমি। প্রশংসা পেতে কার না ভালো লাগে! একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কুরআন খুলে সূরা নূর বের করলো সুমি। উল্টাতে উল্টাতে চোখে পড়লো নিচের আয়াতটা-

“যারা পছন্দ করে যে,ঈমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার লাভ করুক,নিঃসন্দেহে ইহাকাল ও পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। [সূরা আন-নূর; ২৪:১৯]

এটাকেই খুঁজতেছিলো ও। তারপর খুঁজে বের করলো সূরা যুমারের আয়াতটা যেটা একদম মন প্রশান্ত করে দেয়-

হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি অতি ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু। (৩৯ঃ৫৩)

মনে মনে আরো একবার তাওবা করলো নিজের অতীতের গুনাহগুলোর জন্য, দুআ করলো সবার জন্য যাতে আল্লাহ আর কাউকে এভাবে অপ্রস্তুত অবস্থায় তাঁর কাছে ফিরিয়ে না নিয়ে যান, আমীন।



রিবা নিয়ে জানা সিরিজের স্ক্রিপ্ট -১১

রিবার নানা রূপ আজকের পর্বে আমরা রিবার নানা রূপের সাথে পরিচিত হব যেন দৈনন্দিন জীবনে আমরা সেগুলো থেকে বেঁচে থাকতে পারি-   টাকা ধার নেয়ার...