Thursday, August 15, 2019

কোয়ান্টাম মেথডঃ আমাদেরকে কোন পথে ডাকছে-২



১ম পর্বের লিংক

৫. ইসলামের কিছু মৌলিক বিষয়ের পর্যালোচনা:

ইসলামের দৃষ্টিতে কোয়ান্টাম মেথডের অবস্থান বিবেচনা করার আগে আমরা ইসলামের কিছু মূলনীতি বা পরিভাষা সম্পর্কে আলোচনা করে নেব – যে বিষয়গুলোর ব্যাপারে ধোঁয়াশাচ্ছন্ন ধারণা নিয়ে আমাদের বক্তব্য বোঝা কঠিন হয়ে যাবে।(আমাদের দেশের খুব কম মানুষেরই এই বিষয়গুলো নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা আছে)
৫.১.বিদ’আত:
৫.১.১. বিদ’আত কি?
আল্লামা ইব্রাহীম ইবনু মুসা আশ-শাতিবী বলেন: বিদআত বলতে বুঝায় দ্বীনের মধ্যে শরীয়াতের পদ্ধতির তূল্য কোন নব-আবিষ্কৃত উদ্ভাবিত তরীকা বা পদ্ধতি, মহান আল্লাহর অতিরিক্ত ইবাদাতের আশায় যে পদ্ধতির অনুসরণ করা হয়।’ [18]
তাহলে আমরা বুঝলাম যে, বিদ’আত মূলত বর্জনের সুন্নাতের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং ইবাদাতের উদ্দীপনাতেই এর সৃষ্টি। এ ব্যাপারে ইসলামের মূলনীতিটি হচ্ছে-
  • ইবাদাতের ক্ষেত্রে সব কিছু হারাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা অনুমোদন দিয়েছেন তা ব্যতীত।
  • দুনিয়াবী ব্যাপারে অন্য সব কিছু হালাল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা নিষিদ্ধ করেছেন তা ব্যতীত।
অজ্ঞতার বশে অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন আল্লাহর রাসূল প্লেনে চড়েননি, তাহলে কি প্লেনে চড়া বিদআত? আমাদের দেখতে হবে আল্লাহর রাসূলের এই বর্জন কি ইচ্ছাকৃত নাকি অনিইচ্ছাকৃত? বিদ’আত সবসময় ইচ্ছাকৃত বর্জন এবং অবশ্যই ইবাদাতের সাথে সংশ্লিষ্ট।

৫.১.২. বিদ’আত চেনার উপায়:

উপরোক্ত মূলনীতির আলোকে আমরা বলতে পারি, কোন কিছুকে বিদ’আত হিসেবে চিহ্নিত করার পূর্বে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে-
  •  প্রথমেই দেখতে হবে তা ইবাদাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কিনা। হতে পারে তা কোন কথা, কাজ বা বিশ্বাস।
  •  ইবাদাতের সাথে সংশ্লিষ্ট হলে দেখতে হবে আল্লাহর রাসূল ও তাঁর সাহাবীরা এই পদ্ধতি সম্পর্কে জানতেন কিনা।
  • যদি না জেনে থাকেন, তবে তাঁর উৎস ওহী নয়। আর ইসলামে সকল ইবাদাতের উৎস একমাত্র ওহী।
  •  যদি জেনে থাকেন, তবে তাঁরা তার উপর আমল করেছিলেন কিনা। যদি না করে থাকেন, তবে সেটাই উচিত সিদ্ধান্ত, কারণ তাঁরাই শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম এবং আমাদের অনুসরণীয় আদর্শ।

৫.১.৩. বিদ’আত বর্জনের ব্যাপারে আমরা এত সংবেদনশীল কেন?

• ইসলাম আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য একমাত্র জীবনব্যবস্থা:
আল্লাহ বলেন: “যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত।” (আল ইমরান ৩:৮৫)
এই চিন্তাটা ‘আমাদের বিবেক বুদ্ধি’ দ্বারা খুব সাম্প্রদায়িক এবং অসহিষ্ণু মনে হলেও করার কিছু নেই।কারণ ইসলামের এই ‘Salvific Exclusivity’( পারলৌকিক মুক্তি শুধই ইসলামের প্রকৃত অনুসারীদের জন্য) তে বিশ্বাস করা আমাদের ঈমানের একটি অংশ। “আসলে সকল ধর্মের মর্মকথা একই – পার্থক্য শুধু অভিব্যক্তিতে বা বাহ্যিক প্রকাশে বা rituals-এ” – এই কথা যদি সত্যি হত, তবে মুহাম্মদ (সা.)-এঁর মিশনের কোন প্রয়োজনই ছিল না । মক্কার পৌত্তলিকরা সবাই আল্লাহ মানতো – আবু জাহেল, আবু লাহাব সবাই আল্লাহয় বিশ্বাস করতো – কথায় কথায় আল্লাহকে নিয়ে শপথ করতো ৷ কিন্তু তবু আমরা তাদের কাফির ও মুশরিক বলে থাকি এবং কাফির ও মুশরিকের সাথে কিছুতেই মুসলিমদের প্রেম-প্রীতি, সহ-অবস্থান, সামাজিকতা বা নির্বিচার মেলামেশা যে সম্ভব নয়, সে কথা পবিত্র কুর’আনের বহু আয়াতে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে। রাসূল (সা.)- এঁর বহু হাদীসেও মুসলিমদের সাবধান করে দেওয়া হয়েছে। আর সেজন্যই, উদাহরণস্বরূপ, জন্মদিন বা Valentine Day উদযাপন কখনই মুসলিম সংস্কৃতির অংশ হতে পারেনা।
এজন্য কোন কিছুকে ইবাদাত হিসেবে গ্রহণ করার আগে একজন মুসলিম সম্ভাব্য সকল উপায়ে তা যাচাই বাছাই করে নেন; পরকালের ব্যাপারে “হলেও হতে পারে” জাতীয় অনিশ্চয়তাসূচক কোন মানসিকতা তার মাঝে থাকেনা। আর কোন মতবাদ যদি তাকে এই দৃষ্টিভঙ্গী গ্রহণ করতে বলে যে, সকল ধর্মই এক বা কোন কাজ করতে বলে যা অন্য কোন ধর্মের ইবাদাতের অংশ হিসেবে প্রমাণিত বা কোন কাজ যে অনুমোদিত তা বোঝানোর জন্য অন্য কোন ধর্মগ্রন্থ থেকে reference দেয়া হয় বা অন্য কোন ধর্মের প্রবাদপুরুষ কাউকে example হিসেবে দেখানো হয়, তবে তা নি:সন্দেহে আপনাকে পথভ্রষ্টতার দিকে ডাকছে।
• বিদআত কুফরের দরজা খুলে দেয়:
ইসলাম একটি পূর্ণাংগ এবং ত্রুটিমুক্ত জীবনব্যবস্থা( complete and perfect)এতে সংযোজন বা বিয়োজনের কোন অবকাশ নেই। রাসূল (সা.) বলেন: সত্যতম বাণী আল্লাহর কিতাব, সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মাদের আদর্শ, সবচেয়ে খারাপ বিষয় হল নতুন উদ্ভাবিত বিষয়। প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা। [19]
তাই কেউ যদি দাবি করেন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য এমন কোন কাজ বা পন্থা রয়েছে যা তার মস্তিষ্কপ্রসূত, তবে তিনি প্রকারান্তরে দাবী করছেন-
# ওহী অসম্পূর্ণ, রাসূল (সা.)আমাদেরকে যা জানিয়েছেন, তার চেয়ে উত্তম কিছু তিনি আবিষ্কার করেছেন।
অথবা
# রাসূল (সা.)তার দায়িত্ব ঠিকমত পালন করেননি।
আমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছি যে, উপরোক্ত দুটি চিন্তার উভয়টি বা যে কোন একটি আমাদেরকে ইসলামের বাইরে নিয়ে যায়। রাসূল (সা.) বলেন:
যা কিছু কাউকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে অথবা আগুন থেকে দূরবর্তী করে তার এমন কিছুই নেই যা কিনা তোমাদের জন্য স্পষ্ট করে বর্ণনা করা হয়নি। [20]
• বিদআত শিরকের দরজা খুলে দেয়:
মূর্তিপূজা যে শিরকের সবচেয়ে প্রকাশ্য এবং জঘন্য রূপ এ ব্যাপারটি সর্বজনস্বীকৃত।আল্লাহ পাক আল কুর’আনে নূহের জাতির বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন সূরা নূহের ২৩ নম্বর আয়াতে। তাতে নূহের (আ)জাতির যে উপাস্যগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা তাদের পূর্ববর্তী যুগের সৎকর্মশীলদের নাম। কিন্তু তাদের পূজা কিভাবে শুরু হল সেটা আমরা জানতে পারি নিচের হাদীস থেকে। একটু মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করি-
হযরত মুহাম্মাদ ইবনে কায়েস (রহ.) বলেন যে, ঐ লোকগুলো ছিলেন আল্লাহর ইবাদাতকারী, দ্বীনদার,আল্লাহ ওয়ালা ও সৎ। তাঁরা হযরত আদম (আঃ) ও নূহ (আ) এর ছিলেন সত্য অনুসারী,যাদের অনুসরণ অন্য লোকেরাও করতো।যখন তারা মারা গেলেন। তখন তাদের অনুসারীরা পরস্পর বলাবলি করলোঃ ‘যদি আমরা এদের প্রতিমূর্তি তৈরী করে নেই, তবে ইবাদাতে আমাদের ভালভাবে মন বসবে এবং এদের প্রতিমূর্তি দেখে আমাদের ইবাদাতে আগ্রহ বাড়বে।’ সুতরাং তারা তাই করল। অতঃপর যখন এই লোকগুলোও মারা গেল এবং তাদের বংশধরদের আগমণ ঘটল, তখন শয়তান তাদের কাছে এসে বললোঃ’তোমাদের পূর্বপুরুষরাতো ঐ বু্যুর্গ ব্যক্তিদের পূজা করত এবং তাদের কাছে বৃষ্টি ইত্যাদির জন্য প্রার্থনা করত। সুতরাং তোমরাও তাই করো।’ তারা তখন নিয়মিতভাবে ঐ মহান ব্যক্তিদের পূজা শুরু করে দিল। [21]
উপরোক্ত ঘটনা থেকে নিচের বিষয় গুলো লক্ষণীয়-
  • প্রথমে নূহের জাতির জন্য স্মারক বানানোর পুরো ব্যাপারটির উদ্দেশ্যই ছিল সৎ-আল্লাহর ইবাদাতে মনোযোগ বৃদ্ধি। কিন্তু এই পদ্ধতিটি ঐশী বাণী দ্বারা সমর্থিত ছিলনা।ইসলামী পরিভাষায় একে আমরা স্বচ্ছন্দে বিদ’আত হিসেবে অভিহিত করতে পারি।
  •  (সাধারণ) বিদ’আত রাতারাতি শিরকে পরিণত হয়না।কয়েক প্রজন্ম সময় লাগে।
  •  শয়তান আপাতদৃষ্টিতে ভাল পরামর্শ ই দিয়ে থাকে। ঐশী জ্ঞানের সাহায্য ছাড়া তার কুটকৌশল বোঝা কঠিন।
৫.১.৪. বিদআতপন্থী দলের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
  • Out of the Context কুরআনের আয়াত ব্যবহার:কুরআন কোন কালেই অর্থহীণ শব্দসমষ্টি বা ধাঁধাঁ ছিলনা যে তাকে ইচ্ছামত ব্যাখ্যা করা যাবে। এর একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য এই যে একে পূর্ণাংগ একটি বই (সুন্নাতকে মানদণ্ড ধরে, যার একটি অংশ অপর অংশকে ব্যাখ্যা করে) হিসেবে বিবেচনা না করে যদি বিচ্ছিন্নভাবে নেয়া হয়, তবে সকল বিভ্রান্ত আক্বীদার মানুষই এখান থেকে দলিল দেখাতে পারবে। তাই তাফসীরের কিছু অবশ্য অনুসরণীয় মূলনীতি রয়েছে যার আলোকে কুর’আনকে ব্যাখ্যা করতে হয়। বিদ’আতপন্থী দলগুলোর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য এই যে, তারা সবসময় কুর’আনের একটি আয়াত বা তার অংশবিশেষকে বিচ্ছিন্নভাবে (তাফসীরের মূলনীতি গুলো না মেনেই) মনগড়াভাবে উপস্থাপন করে, যাতে তা তাদের পক্ষে দলিল হিসেবে কাজ করে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা ইসলামের মূল বাণীর সাথে রীতিমত সাংঘর্ষিক।
  • • জাল হাদীসের ব্যবহার:রাসূল (সা) এর সুন্নাত ওহীর একটি রূপ। তাই একে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহর ইচ্ছায় মুসলিমগণ এমন সূক্ষ্ম, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অবলম্বন করেছেন যা অতুলনীয়। যুগে যুগে এই পদ্ধতি অবলম্বন করে, যে কোন যুগেই একজন মানুষ জাল ও সহীহ হাদীসের মাঝে পার্থক্য করতে পারবে। কিন্তু বিদ’আতপন্থী দলগুলোর এটা স্বভাবজাত যে, তারা সবসময় সহীহ হাদীসগুলোকে পাশ কাটিয়ে জাল হাদীসকে তাদের দলীল হিসেবে ব্যবহার করে।
৫.২. আল্লাহর অবস্থান নিয়ে ইসলামের বক্তব্য:
লোকমুখে চালু আছে যে, আল্লাহ পাক সর্বত্র বিরাজমান। তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতা সর্বত্র পরিব্যাপ্ত – এটা সঠিক। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁর সত্তা তাঁর সৃষ্টির সাথে মিশে আছে। বরং সত্তাগত ভাবে তিনি সৃষ্টি থেকে পৃথক এবং তিনি সাত আসমানের ওপরে আছেন এবং তিনি সৃষ্টির উর্দ্ধে অবস্থানকারী। অতএব তিনি তাঁর সত্তার দ্বারা সর্বত্র বিরাজমান নন, আর মানুষের যুক্তিও তাঁর সর্বত্র বিরাজমান হওয়াকে প্রত্যাখ্যান করে, কেননা যদি তিনি সর্বত্র থাকেন, তবে অর্থ এই দাঁড়ায় যে যাবতীয় আবর্জনাতেও তাঁকে পাওয়া যাবে, কিন্তু এটা তাঁর পবিত্রতার ধারণার বিরোধী, উপরন্তু আল্লাহ পাক তাঁর কিতাবে কিংবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হাদীসে কোথাও উল্লেখ করেননি যে তিনি সর্বত্র বিরাজমান। বরং তাঁর অবস্থান সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি আসমানে, অর্থাৎ সাত আসমানের উর্দ্ধে অবস্থিত, আর এটাই সঠিক বিশ্বাস। এর সপক্ষে কুরআন ও হাদীসে বহু দলীল রয়েছে, আমরা এখানে দুএকটি উল্লেখ করব।
আল্লাহ পাক বলেন: “তোমরা কি নিরাপদ বোধ করছ যে যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের সহ ভূমিকে ধসিয়ে দেবেন ফলে আকস্মিকভাবে তা প্রকম্পিত হতে থাকবে?” [22]
হাদীসে বর্ণিত যে আল্লাহর রাসূল এক দাসীকে প্রশ্ন করলেন যে “আল্লাহ কোথায়?” সে জবাব দিল “আসমানে।” এরপর তিনি প্রশ্ন করলেন “আমি কে?” দাসীটি বলল: “আপনি আল্লাহর রাসূল।” ফলে নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাসীটিকে মুমিন হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন। [23]
৫.৩.ইসলামে সূফীবাদের অবস্থান:
পার্থিব লোভ লালসা ও ভোগ বিলাস যথাসম্ভব পরিত্যাগ করা ইসলাম ধর্মের একটি মৌলিক শিক্ষানীতি হলেও সন্ন্যাসবাদের কোন স্থান এখানে নেই। আজকের খ্রিষ্টধর্মে এর বহুল প্রচার থাকলেও এটা আসলে কোন ঐশী নির্দেশ নয়। ধার্মিক খ্রিষ্টানগণ যখন অনুভব করলেন বিবাহ ও ঘরসংসার করে যথেষ্ট আখিরাতমুখিতা অর্জন করা যায়না, তখন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য মানবীয় বুদ্ধি বিবেক খাটিয়ে এক নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন যার সাফল্য সহজেই অনুমেয় যখন আমরা পাদ্রীদের দ্বারা শিশুদের যৌন হয়রানির খবর দেখি। ইসলামের মাঝেও একদল মানুষ অনুরূপ নতুন পদ্ধতির সূচনা করেন যাদের আক্বীদা, কাযযকলাপ কোন কিছুই শরীয়াহ সম্মত নয়। যেমনঃ সুফীবাদের অনুসারী ও অন্যান্য কতিপয় পথভ্রষ্ট দল সৃষ্টির সাপেক্ষে আল্লাহ পাকের সত্তা ও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কিছু ভ্রান্ত ও কদর্য ধারণা পোষণ করে থাকে আর এ সম্পর্কে তাদের কিছু বাতিল পরিভাষা আছে।
হুলুল: সুফী ও অন্যান্য পথভ্রষ্ট দলের পরিভাষায় হুলুল সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টার অবস্থান – গোটা সৃষ্টিজগতে কিংবা এর কোন অংশে।গোটা সৃষ্টিজগতে স্রষ্টার অবস্থানের মতবাদ এই যে স্রষ্টা সৃষ্টি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া সত্ত্বেও সর্বত্র বিরাজমান।
ইত্তিহাদ: দুটো বস্তু এক হওয়াকে আরবীতে ইত্তিহাদ বলা হয়। পথভ্রষ্টদের পরিভাষায় ইত্তিহাদ হল এই ধারণা যে স্রষ্টা ও সৃষ্টি অথবা এর কোন অংশ প্রকৃতপক্ষে একই সত্তা।স্রষ্টা ও গোটা সৃষ্টি একই সত্তা হওয়ার মতবাদকে ‘ওয়াহদাতুল উজুদ’(وَحْدَة الوُجُود) বলা হয়। যারা স্রষ্টা ও সৃষ্টির কোন অংশ একই সত্তা হওয়ায় বিশ্বাসী তারা ধারণা করে যে নবী, সৎকর্মশীল, দার্শনিক প্রকৃতির লোকেরা স্রষ্টারই অংশ! এরা নোংরা বস্তুকে স্রষ্টার অংশ হওয়া থেকে বাদ দেয়। ইবনুল ফারিদ, ইবনু আরাবী প্রমুখ এই মতবাদের অনুসারী ছিল।
হুলুল ও ইত্তিহাদের ধারণা সুস্পষ্ট কুফর ও ধর্মদ্রোহিতা আর এর মধ্যে কদর্যতার দিক থেকে ইত্তিহাদ হুলুলের চেয়েও মারাত্মক, কেননা তা সৃষ্টি ও স্রষ্টাকে এক সত্তায় পরিণত করেছে।
৫.৪.ইসলামে জোতিষশাস্ত্রের অবস্থান:
আল-কুরআন এবং হাদীসে দিনের আলোর মত স্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে গায়েবের জ্ঞান বা অদৃশ্যের জ্ঞান আল্লাহ পাকের একচ্ছত্র বৈশিষ্ট্য, এতে কারও কোন অংশীদারিত্ব নেই। গায়েবের জ্ঞানের মধ্যে রয়েছে এমন সবকিছু যা মানুষের ইন্দ্রিয়সমূহের দ্বারা জানা যায় না। সেটা হতে পারে অতীতের ঘটনা, কিংবা ভবিষ্যতের ঘটনা কিংবা দূরত্বের কারণে মানুষের জ্ঞান থেকে অন্তরালে থাকা কিছু যেমন জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদি। এর মধ্যে কিছু বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহ পাক চাইলে তাঁর সৃষ্টির কোন অংশকে জানাতে পারেন, যেমন তিনি নবীর(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মারফত আমাদেরকে জান্নাত জাহান্নামের বিবরণ জানিয়েছেন। তেমনি আল্লাহ পাক পৃথিবীতে মানুষের রিযিকের বিলিবন্টন সংক্রান্ত তথ্য ফেরেশতাগণের নিকট প্রকাশ করলে তাঁরা তা জানতে পারেন। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে নবী-রাসূল কিংবা ফেরেশতারা গায়েব জানেন, বরং গায়েবের জ্ঞানের একাংশ আল্লাহ পাক তাদেরকে জানালে তবেই কেবল তারা তা জানতে পারে। আর তাই এটি ইসলামী আকীদার একটি অন্যতম মূলনীতি যে গায়েবের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ পাকের বৈশিষ্ট্য, এই বৈশিষ্ট্য কারও প্রতি আরোপ করলে তাকে আল্লাহর সমকক্ষ করা হয়।
জ্যোতিষশাস্ত্র, রাশিচক্র এবং অনুরূপ ভ্রান্ত বিদ্যাগুলোর মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থা ও অবস্থান দেখে কোন ঘটনা, ভাগ্য বা ভবিষ্যত নির্ণয় করা। এই বিদ্যাচর্চার দুটি তাওহীদ বিরোধী দিক রয়েছে:
প্রথমত, এই ধারণা করা যে গ্রহ-নক্ষত্র মহাবিশ্বের ঘটনাবলীকে সৃষ্টি, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে, এই ধারণা মূলত রুবুবিয়্যাতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে শিরক করার সমতুল্য।
দ্বিতীয়ত, গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান থেকে মানুষের ভাগ্য ও ভবিষ্যত নির্ণয়ের চেষ্টা, যা কিনা আল্লাহ পাকের অদৃশ্যের জ্ঞানের একচ্ছত্র বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে অপরকে শরীক করার শামিল।
৫.৫. জ্বীন জগত:
সাধু সন্ন্যাসী, ভাগ্যগণক, যাদুটোনা চর্চাকারীদের দ্বারা সংঘটিত নানা অলোকিক ঘটনা দেখে বহু মানুষ তাদেরকে আল্লাহর প্রিয় পাত্র ভাবা শুরু করে এবং তাদের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধার আতিশয্যে তারা যা বলে তাই করতে থাকে। পুরো ব্যাপারটিই ঘটে জ্বীনজগত সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতার কারণে। মানুষের মাঝে একদল লোক যাদুটোনা, ভাগ্যগণনা জাতীয় বাতিল ও নিষিদ্ধ বিষয় চর্চার জন্য জ্বীনদের সাহায্য নেয়, তারা শয়তান জ্বীনদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য নানাপ্রকার শিরকী ও কুফরী কাজ করে, জ্বীনদের ইবাদত করে, ফলে শয়তান জ্বীনেরা তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে তাদেরকে এই সমস্ত নিষিদ্ধ বিষয় চর্চায় সাহায্য করে। [24]

ফুটনোটসমূহ:

  • [18] শাতিবী, আল-ই’তিসাম ১/৫০
  • [19] মুসলিম ২/৫৯৩
  • [20] তাবারানীর আল মুজাম আল কাবীর।আলবানীর (র) এর মতে সহীহ
  • [21] বুখারী (৪৯২০) তাফসীর ইবনে কাসীর (১৮/১৪২-১৪৪)
  • [22] সুরা মূলকঃ ১৬
  • [23] মুসলিম (৫৩৭)
  • [24] আর যেদিন আল্লাহ তাদের সবাইকে সমবেত করবেন। সেদিন বলবেন, “হে জিনের দল, মানুষের অনেককে তোমরা বিভ্রান্ত করেছিলে” এবং মানুষদের মধ্য থেকে তাদের সঙ্গীরা বলবে, “হে আমাদের রব, আমরা একে অপরের দ্বারা লাভবান হয়েছি এবং আমরা পৌঁছে গিয়েছি সেই সময়ে, যা আপনি আমাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন।” তিনি বলবেন, “আগুন তোমাদের ঠিকানা, তোমরা সেখানে স্থায়ী হবে। তবে আল্লাহ যা চান তা ব্যতীত।” নিশ্চয় তোমার রব বিজ্ঞ, সর্বজ্ঞ। (সূরা আল আনআম, ৬ : ১২৮)

Wednesday, August 7, 2019

কুরআনে রুকিয়ার আয়াতগুলো আত্মস্থ করা-৮


সূরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াতঃ 

অর্থঃ 
এটা যদি আমাদের মুখস্থ না থাকে, অনুরোধ করবো মুখস্থ করে ফেলতে। অর্থ পড়লেই দেখবো যে কী পরিমাণ সাহস যোগায় এই আয়াতগুলো-
রসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতিতারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনাতারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছিআমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তাতোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে (285) আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করেহে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো নাহে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছ, হে আমাদের প্রভূ! এবং আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাইআমাদের পাপ মোচন করআমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া করতুমিই আমাদের প্রভুসুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কে সাহায্যে কর

মূল ভাবঃ

যদি আমাদেরকে কেউ যাদুটোনা করে (আল্লাহ্মাফ করুক)তাহলে এটার চাইতে সুন্দর দুআ মনে হয় আর হয় না যে আল্লাহ্তুমি আমাকে সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা দিও নাএখন এই দুই আয়াতের ফযীলত নিয়ে একাধিক হাদীস আছে, বিস্তারিত জানা যাবে এখানে

সূরা ইমরানের প্রথম ১০ আয়াতঃ


অর্থঃ

আলিফ লাম মীম (1) আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক (2) তিনি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন সত্যতার সাথে; যা সত্যায়ন করে পূর্ববর্তী কিতাবসমুহের (3) নাযিল করেছেন তাওরত ও ইঞ্জিল, এ কিতাবের পূর্বে, মানুষের হেদায়েতের জন্যে এবং অবতীর্ণ করেছেন মীমাংসানিঃসন্দেহে যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন আযাবআর আল্লাহ হচ্ছেন পরাক্রমশীল, প্রতিশোধ গ্রহণকারী (4) আল্লাহর নিকট আসমান ও যমীনের কোন বিষয়ই গোপন নেই (5) তিনিই সেই আল্লাহ, যিনি তোমাদের আকৃতি গঠন করেন মায়ের গর্ভে, যেমন তিনি চেয়েছেনতিনি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেইতিনি প্রবল পরাক্রমশীল, প্রজ্ঞাময় (6) তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেনতাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশআর অন্যগুলো রূপকসুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোরআর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে নাআর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছিএই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছেআর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না (7) হে আমাদের পালনকর্তা! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্যলংঘনে প্রবৃত্ত করোনা এবং তোমার নিকট থেকে আমাদিগকে অনুগ্রহ দান করতুমিই সব কিছুর দাতা (8) হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি মানুষকে একদিন অবশ্যই একত্রিত করবেঃ এতে কোনই সন্দেহ নেইনিশ্চয় আল্লাহ তাঁর ওয়াদার অন্যথা করেন না (9) যারা কুফুরী করে, তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর সামনে কখনও কাজে আসবে নাআর তারাই হচ্ছে দোযখের ইন্ধন

মূল ভাবঃ 
এগুলো আল্লাহর পরিচয় দানকারী আরো কিছু আয়াত।  আমার অসম্ভব প্রিয় একটা দুআ আছে এখানে। ৮ নং আয়াতটা।আল্লাহ যে আমাদের এটা শিখাচ্ছেন,এটা থেকেই বোঝা যায় যে হিদায়াত স্থায়ী কিছু নয়। এই প্রেক্ষিতে আমার এই আয়াতটা পড়ে মনে হল যে আমরা অনেকেই ‘তাত্ত্বিকভাবে’ জানি যে তাবিজ, যাদুটোনা ইত্যাদি করা শিরক। কিন্তু আল্লাহ্‌ মাফ করুন নিজেদের জীবনে যদি বিশাল কোনো বিপদ আসে এগুলার ফলে, তখন অস্থির হয়ে গিয়ে এগুলার দ্বারস্থ হই। যেমন মনে করুন আপনার একমাত্র সন্তান আইসিইউতে। ডাক্তাররা আশা ছেড়ে দিয়েছেন। আপনাকে কেউ বললো যাদুটোনার কারণে এমন হয়েছে এবং আপনি অমুক জায়গায় গিয়ে অমুক তাবিজ ঝুলালে আপনার সন্তান বেঁচে উঠবে।
কী করবেন আপনি? আপনি কিন্তু জানেন যে পাল্টা যাদুটোনা করা শিরক.........
এইসব সময়েই আমাদের দুআ করা উচিৎ আগের পোস্টের দুআটা...আল্লাহ যেন আমাদেরকে সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা না দেন আর একবার হিদায়াত লাভের পর আমরা যেন সত্য লঙ্গনে প্রবৃত্ত না হই।
এই আয়াতের আরেকটা শিক্ষা হচ্ছে কুরআনের আয়াতকে বিভ্রান্তভাবে ব্যাখ্যা না করা। যারা তাবিজ, যাদুটোনা এগুলোকে ইসলামের মোড়কে সাজিয়ে উপস্থাপন করে, তারা সবসময় আপনাকে অস্পষ্ট কথাবার্তা বলবে। যাদুটোনা যে কুফরি সেটা সূরা বাক্বারার ১০২-০৩ আয়াতে দ্ব্যর্থহীণ ভাষায় বলে দেয়া হয়েছে।
আল্লাহ্‌ আমাদেরকে হিদায়াতের উপর মৃত্যু বরণ করার তৌফিক দান করুন, আমীন।

মুখের ভাষা



ফেসবুকে কয়েকটা পোস্ট দেখে মনটাই খারাপ হয়ে গেল আনিকার। ওর ফ্রেণ্ডলিস্টে সব মতাদর্শের মানুষই আছে, তাই এমন পোস্ট চাইলেও চোখ এড়ায় না......

একজন ফ্রেণ্ড তার চিন্তা ভাবনার সাথে মেলে না এমন একজন স্কলারের ঢালাও নিন্দা করে একটা লেখা শেয়ার করেছে যেখানে সমানে ঊনাকে পথভ্রষ্ট, গোমরাহ এগুলো বলা হচ্ছে......সাথে এটাও দাবী করা হচ্ছে যে ঊনার এহেন আক্বীদার জন্য ঊনি আর মুসলিম থাকতে পারেন না, তাই যারা তাঁর আদর্শকে অনুসরণ করে তারাও উচ্ছ্বনে গেছে ইত্যাদি...ওই পোস্টে এসে একজন বিরোধিতা করেছে, ব্যাস শুরু হয়ে গেছে কী বোর্ডের খোঁচা দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি।  ২-১টা কমেন্ট পড়ে আর সহ্য করতে পারলো না ও। উঠে গেল...।।

জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে একটু আনমনা হয়ে গেল আনিকা......ও যদি ওর ইসলামে আসার আগে এসব তথাকথিত প্র্যাক্টিসিং মুসলিমদের সাথে মিশতো, যাদের মুখের ভাষা এরকম, তাহলে জীবনে কী আসতো ও আর ইসলামে ?

Etiquette of seeking knowledge কোর্সটাতে সেদিনই পড়ছিল যে কোনো স্কলারকে ভুলের ঊর্ধ্বে মনে করা এক ধরণের এক্সট্রিমিজম। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাতীত আর কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে ছিলেন না। ঠিক সেভাবে কোনো স্কলারের যদি কোনো ভুল জানিও আমরা, তবে তাঁর আর সব কাজকে বাদ দিয়ে দেয়াও আরেকধরণের এক্সট্রিমিজম। আমাদের উচিৎ মধ্যপন্থা অবলম্বন করা......ঊনি বেশ কিছু স্বনামধন্য স্কলারের বড় কিছু ভুলের উদাহরণও দিলেন যেন আমরা স্কলারদের ফেরেশতার পর্যায়ে না উঠিয়ে ফেলি। আমরা যেন ভুলে না যাই যে ইসলামে কোনো পুরোহিত তন্ত্র নেই......অবশ্যই স্কলাররা সম্মানিত, তাদেরকে আমরা অন্ধভাবে বিশ্বাস করি না, আবার তাদের একটু ভুল পেলে ধুয়েও ফেলি না...মধ্যপন্থা......মধ্যপন্থা শিখতে হবে আমাদের!

প্রায়োরিটি


আল্লাহ কেন কুরআনকে আরবী ভাষায় পাঠাতে গেলেন? এত কঠিন! তার উপর উচ্চারণের কত নিয়ম কানুন!

কিছুদিন হল বাসায় একজন তাজউইড এর শিক্ষিকা রেখে সহীহভাবে কুরআনের উচ্চারণটা শিখছে নিপা। ও পড়ছে, এমন সময়ে কয়েকদিন ওর বাসায় এসেছে শৈলী, তাতেই ওর মনে এই প্রশ্নের উদয় হয়েছে।
কথা শুনে স্মিত হাসি দিল নিপা।কিছু বললো না।

কিন্তু শৈলী তো আর ছেড়ে কথা বলার পাত্রী না, তাই আবারো বললো, ‘তোর কাছে এই ব্যাপারটা বিরক্তিকর লাগে না? কঠিন লাগে না?

নিজের অজান্তেই শৈলীর পড়ার টেবিলের দিকে চোখ চলে গেল নিপার। টেবিল ভর্তি IELTS আর GRE র বই দিয়ে ভরা।

আচ্ছা এই যে তুই গত ছয় মাস ধরে GRE আর IELTS এর জন্য পড়ছিস, তোর এই ব্যাপারটা বিরক্ত লাগে না?কঠিন লাগে না?

লাগে না আবার! জানটা কয়লা হয়ে গেল রে! কিন্তু কোনো উপায়ও যে নেই! IELTS ছাড়া বাইরে পড়তে যাওয়ার তো কোনো সুযোগই নেই!

হুম।

দ্যাখ, ‘বাইরে পড়তে যাওয়াটা’ তোর কাছে যথেষ্ট ভালো একটা incentive মনে হচ্ছে এতদিন ধরে এগুলা পড়ার জন্য, তাই না?

কুরআন সহীহ উচ্চারণে তিলাওয়াত করার এবং আরবী জানার উপকারিতা তুই যদি জানতি বা বলা যায় বিশ্বাস করতি, তাহলে জান প্রাণ দিয়ে খেটে এগুলা শিখতে চাইতি। আমরা আখিরাতের উপরে দুনিয়ার সাফল্যকে এখন অগ্রাধিকার দেই বলে এগুলোর পিছনে সময়, শ্রম ব্যয় করতে চাই না।
কথাটা শুনে একটু ম্রিয়মান হয়ে গেল শৈলী। কথাটা তুই খুব একটা ভুল বলিসনি বোধ হয়......
*******************************************
আমরা সবাই দাবী করি যে আমরা পরকালে বিশ্বাস করি। আমাদের জীবনের ‘প্রায়োরিটি’ ঠিক করার সময় সেটা কি প্রকাশ পায়?


ভিন্ন নামের দুই বোনের উপাখ্যান


আপুর লেখা ‘মুবাশ্বেরা উপাখ্যান’ পড়লাম। পড়ে মনের গভীর থেকে আবারো আলহামদুলিল্লাহ পড়লাম যে ফেসবুক আমার অ্যাকাউন্ট দিসে বন্ধ কইরা। নাইলে সে যতই ‘কাহিনী মে টুইস্ট’ বলুক আমি দিব্য চোখে দেখতে পাচ্ছিলাম যে সেই ছোটবেলার ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটতো!আমার ফেসবুক থাকলে মানুষ জন আমাকে মেসেজ পাঠাতো যে তোমার তথাকথিত জনপ্রিয়তার রহস্য তাহলে এই! আপু এতদিন লিখতো না বলে You were the king in the jungle of blinds! সোজা বাংলায় ফাঁকা মাঠে গোল দিচ্ছিলা!আপুর লেখা কী ঝরঝরে মাশাআল্লাহ, তোমার মত ‘প্রবন্ধ টাইপ’ না

তুলনা তুলনা তুলনা!

ছোট বেলা থেকেই দেখে আসছি এই তুলনা। দুই বোনের মাঝে কে বেশী সুন্দর, কে বেশী মেধাবী, কে বেশী কাজ কর্মে পটু এই তুলনা আমাদের চারপাশের মানুষরা হরহামেশাই করতো।বিয়ের পর সেটা গড়ালো স্বামী, শ্বশুরবাড়ি এসব পর্যন্ত। আমাদের সম্পর্কের মূল Strength মনে হয় এটাই ছিলো যে আলহামদুলিল্লাহ এই তুলনার বিষবাষ্প যেন আমাদের সম্পর্ককে কলুষিত করতে না পারে সেজন্য আমরা সচেতন ছিলাম।কিন্তু তাতেও আবার ঝামেলা! তখন আমাদের দুই বোনের মাঝে সম্পর্ক হল মানুষের মাথা ব্যথা, হিংসার কারণ! কী জ্বালা!

যাই হোক, একই নামের দুই বোনের উপাখ্যান তো আপনারা শুনেছেন, আজ আপনাদের শুনাবো আর এক জোড়া বোনের কাহিনী। আজ থেকে ১০-১৫ বছর পর এরা যদি লেখালেখি শুরু করে তাহলে পাঠকরা বুঝতেও পারবেন না যে এরা দুই বোন! কারণ এদের নামে কোনো মিল নেই। একজনের নাম বিনতে ইয়াসির, আর একজনের নাম বিনতে সাবিত

কিন্তু ওই যে কথায় আছে না যে ‘বৃক্ষ তোমার নাম কী ফলে পরিচয়?’ সেরকম এদের কাণ্ড কারখানা দেখে বুঝলাম যে ‘বোন তোমরা প্রমাণ কী স্বভাবে পরিচয়!’

বিনতে ইয়াসির দেখতে কার মত এটা একটা রহস্য হলেও বিনতে সাবিতের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই -_- । সে যদি হারায় যায়, কোনো সমস্যা নাই, রাস্তার মানুষ যদি তার বাবাকে দেখে থাকে তাইলে এসে দিয়ে যাবে বাসায়, কারণ ঊনাকে দেখেই বোঝা যায় ঊনি কার মেয়ে

তাই শুরুতে ভেবেছিলাম দুই বোনের মাঝে কোনো মিল নাই। স্বভাবেও তেমন ছিলো না। আমি ভাবলাম সামীনকে তো দু বছর পর্যন্ত বড় করতে হেল্প করসি , এবার একটা ‘অন্যরকম বাবু’ পালার অভিজ্ঞতা হবে ইনশাল্লাহ।

কিন্তু কিসের কী! যত দিন যাচ্ছে, মেয়েটা আমার ডুপ্লিকেট সামীন হয়ে যাচ্ছে!! খাওয়া শেষ হইলে উলটা দিক ফিরে একটা ঘুরান দেয়,এক মুহুর্ত স্থির থাকে না, খাওয়ার সময়ে একইভাবে হাত পা নাড়াইতেই থাকে, খিদা লাগলে বাম কানটা ঝাড়া দিতে থাকে .........স্বভাবে এত এত মিল যে আমি অবাক হয়ে যাই!মনে হয় আমি যেন ফিরে গেছি ৮ বছর আগের জীবনে!

পার্থক্য কী নাই?

হুম আছে! কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে সেই পার্থক্যটা ‘Mirror image’ আমাদের দুই বোনের স্বভাবের! কারণ দুই বোন তাদের যার যার খালার মত হইসে আলহামদুলিল্লাহ!

আপু ছিলো আমাদের ৩ ভাইবোনের মাঝে সবচেয়ে লক্ষী বাচ্চা। আম্মা ব্যাপারটাকে আজো দেখেন ‘আল্লাহ কাউকে সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা দেন না’ এই হিসেবে। আম্মার ভাষায় আমি আর ভাইয়া এত জ্বালাইসি,এত জ্বালাইসি যে আপু যদি এমন শান্ত শিষ্ট লেজ বিশিষ্ট না হইতো তাহলে আম্মার গন্তব্য হইতো হেমায়েতপুরে।

নিজের এমন বর্ণাঢ্য অতীত কাহিনী শুনলে কে না চাইবে যে তার বাবু খালার মত হোক? আমিও তাই রামাদ্বানে আকুল হয়ে দুআ করসি। এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে আল্লাহ ক্ববুল করসেন। ইলমা তাই অনেক ব্যাপারেই সামীনের চেয়ে ভালো! টিকা দেয়ার সময় হাউমাউ করে কাঁদে না, পড়ে গিয়ে ব্যথা পেলে নিজেই সামলায় নেয়, চিৎকার করে বাড়ি মাথায় তোলে না ইত্যাদি।

ব্যাস এইখানে করে ফেলসি ঝামেলা। বয়ে নিয়ে আসা বাংগালী স্বভাব বসত সামীনকে বলসি যে ইলমু সোনা তো তোর চেয়ে ভালো। তুই যে হাড় জ্বালানী ছিলি।

৯ বছরের ছোট বোনের সাথে এহেন তুলনা বড় জনের কাছে অনেক অপমানজনক ঠেকেছে। ঊনি রাগ করে বলেছেন ছোট আপুকে আর দেখবে না ভিডিও কলে।

তারপর কান ধরেছি। আর করবো না তুলনা ইনশাল্লাহ। এই দুই বোনের এখনো দেখা হয় নি, এরা দুই ভিন্ন দেশের নাগরিক, এদের নাম আলাদা, ভাষা, বেড়ে ওঠা সবই হবে আলাদা............তারপরও ভিডিও কলের মাধ্যমে যে তীব্র বন্ধন গড়ে উঠেছে তা যেন অটুট থাকে।

মিলের উৎস তাহলে কী? এদের দুই বোনেরই শরীরে বইছে Mubasshera Sisters এর রক্ত। দেশ, ভাষা সব কিছুর সীমানা পেড়িয়ে  বড় হবার পরও এই দুই বোন কি বয়ে বেড়াবে জিন নামক আল্লাহর এক অদ্ভুত নিদর্শন? বড় হয়ে এদের স্বভাব দেখে কি মানুষ বলবে যে আচ্ছা তোমরা কি দুই বোন?
আল্লাহই জানেন। সেটা দেখার জন্য আমরা দুই মুবাশ্বেরা কিংবা একজন হয়তো বেঁচে থাকবো না কিন্তু এভাবেই তো আসলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মানুষের চিহ্ন রয়ে যায়। ঠিক যেভাবে আমরা দুই বোন আমাদের লেখার স্বভাবের মাঝে বয়ে চলেছি আমাদের আব্বা আর ফুপুদের ধাঁচ!

এগুলো সবই আমার কাছে মহান রাবের এক অসামান্য নিদর্শন। এভাবেই মানুষ বেঁচে থাকে মৃত্যুর পরও। তবে সেই বেঁচে থাকাটা যেন আমাদের আমল নামার জন্য ইতিবাচক কিছু হয় এটাই চাওয়া। তাই ভিন্ন নামের দুই বোন যেন Mubasshera Sisters এর জন্য সাদক্বায়ে জারিয়ে হয় এই দুআ করতে ভুলবেন না যেন!


কান নিয়েছে চিলে

আপা, ও আপা!
রহিমা বুয়া বার তিনেক ডাকার পর হুঁশ ফিরলো ডঃ ফিরোজার। মগ্ন হয়ে একটা রিসার্চ আর্টিকেল পড়ছিলেন। খুবই ইন্টারেস্টিং আর্টিকেলটা। ঢাকা বিশ্যবিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ডঃ ফিরোজা। দেশ বিদেশের বিখ্যাত জার্নালে তার পেপার নিয়মিত পাবলিশ হয়। তবে তিনি বিশ্বাস করেন এর অনেকটুকু অবদান রহিমা বুয়ার। সে আছে বলেই বিশাল একটা সময় রিসার্চের পিছনে দিতে পারেন তিনি। নিজের মত করে গুছিয়ে কাজ করে সে, খুব কমই তার কাজের খবরদারী করতে হয়। আজকের দিনে ঢাকা শহরে তার মত কাজের বুয়া থাকা আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার শামিল। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হল ফিরোজা যখন পড়াশোনার কাজ করেন তখন সেটা বুঝতে পারে রহিমা বুয়া, পারতপক্ষে ডিস্টার্ব করে না তাকে। তাই হঠাৎ তার এই ডাকে বেশ অবাকই হলেন তিনি।
কী ব্যাপার বুয়া?
একটা কথা জিগানোর জন্য আইছি।
বলো!
আমাগো বস্তিতে সবাই কইতেসে, আসছে জুম্মাবারে বাসার বেসিন দিয়া হগগলে এক লগে ব্লিচিং পাউডার ঢাইলা দিলে বলে সব ডেঙ্গু মশা যাইবো গা! যারা নানান বাড়িত কাম করে, তারা করবো এই কাম বলাবলি করতাসিলো। হুইনা আমার কেমুন য্যান লাগলো। টুনির বাপ গত জুম্মায় মসজিদ থন হুইন্যা আইসে যে ইমাম সাব কইসে চট কইরা সব কথা য্যান আমরা বিশ্বাস না করি। আল্লাহর মানা আসে। এই ছেলেধরা আইসা বাচ্চা লইয়া যাইবো এইটাও নাকি ভুয়া কথা। তাই ভাবলাম আপনারে জিগাই! এই কথাটা কি ঠিক আপা?
এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে গেলো রহিমা বুয়া আর কথাগুলো শুনে থ হয়ে রইলেন ফিরোজা। ব্লিচিং পাউডার দিলে এডিস মশা মরবে কিভাবে এটার লার্ভা তো থাকে পরিষ্কার স্বচ্ছ পানিতে! এভাবে বেসিন দিয়ে সবাই ব্লিচিং পাউডার ঢেলে দিলেতো সেটা ড্রেন দিয়ে ওয়াসার পানির লাইনের সাথে মিশে যেতে পারে, নদী নালা গুলোর মাঝে গিয়ে পড়লে মাছ, জলজ নানা প্রাণীর মারাত্মক সর্বনাশ হতে পারে। এটাতো চরম আত্মঘাতী একটা কাজ হতে যাচ্ছে। কে রটাচ্ছে এসব গুজব! তাদের উদ্দেশ্যই বা কী!
রহিমা বুয়াকে এত বিস্তারিত না বলে খালি বললেন ভুলেও এই কাজ করবে না। একদম ভুল কাজ এটা। ডেঙ্গু মশা জন্মায় পরিষ্কার পানিতে, হারপিক দিয়ে এটা মরে না, বরং এভাবে আমাদের খাওয়ার পানিতে হারপিক মিশে যেতে পারে।
তার আঁতকে ওঠা চেহারা আর এই ব্যাখ্যা শুনেই কনভিন্সড রহিমা বুয়া। জানালো এখুনি গিয়ে বস্তির অন্যান্য মানুষদের এটা জানিয়ে দিবে সে।
রহিমা বুয়া চলে যাওয়ার পরও চরম অস্বস্তিটা যাচ্ছিলো না ডঃ ফিরোজার। হাতে মোবাইল তুলে নিলেন। দুদিন পর একটা কনফারেন্সে ফুল পেপার সাবমিশনের ডেডলাইন আছে বিধায় অনলাইন জগত থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন। বড্ড সময় নষ্ট হয় একবার ফেসবুক বা হোয়াটস অ্যাপে ঢুকলে। তবে এটার সমস্যা হচ্ছে একদমই কিছু জানাও যায় না তাছাড়া। তাই ভাবলেন একটু জানা দরকার কী ঘটছে বাইরের দুনিয়ায়। ফিরোজা বেশ কিছু হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের মেম্বার , কিন্তু অনেক মেসেজ আসে দেখে নোটিফিকেশন অফ করে রেখেছেন। সেগুলো চেক করতে গিয়ে বিস্ময়ে থ হয়ে গেলেন-সবগুলো গ্রুপেই দেখি এই আহ্বান ওয়ালা মেসেজ এসেছে! আসছে জুম্মাবারে সবাই একসাথে.........
কিছুক্ষণ অবাক হয়ে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে রইলেন ফিরোজা। আসলেই কী এই মেসেজগুলো তার ডাক্তার, স্কুলের শিক্ষিকা ফ্রেণ্ডদের দ্বারা ফরওয়ার্ডেড হয়েছে? এদেরকে কি আদৌ শিক্ষিত বলা যায়?
একটা বিশা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন ফিরোজা। সেই পুরান কথাটাই আবার যেন নতুন করে উপলব্ধি করলেন- আল্লাহর কিতাবের জ্ঞান মানুষকে এমন একটা ‘সেন্স’ দেয় যেটা দুনিয়ার হাজারটা ডিগ্রী দিতে পারে না। ইমাম সাহেব বলেছেন যে রহিমা বুয়ার যে আক্কেল আছে সেটা তার তথাকথিত শিক্ষিত ফ্রেণ্ডদের নাই। মনে পড়লো সূরা হুজুরাতের আয়াতটা-
মুমিনগণ! যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও। (৪৯:৬)
কী গভীর একটা কথা। আমরা একবার যদি মেনে চলতাম তাহলে এভাবে কি যাচাই না করে স্রেফ শেয়ার অপশনে ক্লিক করে দিতাম? ডঃ ফিরোজার আরো মনে পড়লো-

অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে (১৬:৪৩)

যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার পিছনে পড়ো না। নিশ্চয় কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে। (১৭:৩৬)

এ বিষয়ে হাদীসও আছে-

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কোন লোকের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে (সত্যতা যাচাই না করে) তা-ই বলে বেড়ায়। (মুসলিমঃ৫)
আসলে অনলাইন দুনিয়াটাই বোধহয় এমন। খুব সহজে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় এই ব্যাপারটার একটা উন্মাদনা আছে মনে হয়। তাই চিন্তা ভাবনা না করেই ক্লিক করতে থাকি আমরা। কিন্তু যার দ্বীনের বুঝ আছে সেতো বুঝবে যে প্রতিটা ক্লিকের জন্যই সে দায়িত্বশীল। এসব কাজে সময় ব্যয় করি বলেই অনেক সুন্নাতী আমল করি না যা হয়তো আসলেই আমাদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। সহীহ হাদীস থেকে আমরা একটা দুআ জানতে পারি যেটা সকাল বিকাল তিনবার যদি আমরা নিয়ম করে পড়ি তাহলে ডেংগু মশা সহ যাবতীয় ক্ষতিকর প্রাণী থেকে মুক্ত থাকতে পারবো ইনশাল্লাহ। হাদীসটা হচ্ছে
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন “যে ব্যক্তি সকালে তিনবার ও সন্ধ্যায় তিন বার এই দুআ পড়বে, কোনো কিছুই ঐ ব্যক্তির ক্ষতি করতে পারবেনা”।
بِسْمِ اللهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ العَلِيمُ
আরবী উচ্চারণঃ বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা ইয়াদুররু মা আ’সমিহী শাই’উন ফিল আরদি, ওয়ালা ফিস সামা-য়ী, ওয়াহুয়াস সামীউ’ল আ’লীম। (৩ বার)।
বাংলা অর্থঃ আমি সেই আল্লাহর নামে শুরু করছি, যার নামে শুরু করলে আসমান ও যমীনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারেনা। প্রকৃতপক্ষে তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী। (৩ বার)।
আবু দাউদ, তিরমিযী ৩৩৮৮, ইবনে মাজাহ ৩৮৬৯, মুসনাদে আহমাদ ৪৪৮, ৫২৯, হিসনুল মুসলিমঃ পৃষ্ঠা ১৩৮, শেখ আলবানীর মতে হাদীসটি হাসান।
ডঃ ফিরোজা এটা সবসময় আমল করার চেষ্টা করেন, ছেলেমেয়েদের শিখিয়েছেন, সাথে নিচের কাজটাও করেন নিয়মিত। বাসায় ঢুকে, ভার্সিটি যেয়ে নিচের দুআটা পড়েন-
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন স্থানে অবতরণ করে বলে, ‘আউযুবি কালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মা-তি মিন শার্‌রি মা খালাক্ব’ (অর্থাৎ, আমি আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ বাক্য দ্বারা তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় কামনা করছি)। কোন কিছুই তাঁর ক্ষতি করতে পারবে না, এ স্থান ত্যাগ না করা পর্যন্ত।” (মুসলিম ২৭০৮)
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সিদ্ধান্ত নিলেন ডঃ ফিরোজা-আরো বেশী সময় দাওয়াতী কাজে ব্যয় করতে হবে। অবশ্যই যে রিসার্চগুলো তিনি করেন, সেগুলোকে ইবাদাত মনে করেন বলেই করেন কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মাঝে তার একটা অন্যরকম গ্রহণযোগ্যতা আছে তিনি টের পান। সেটা কাজে লাগিয়ে আরো বেশী অফলাইনের দুনিয়ায় ব্যস্ত হতে হবে ইনশাল্লাহ। তার আগে নিজে থেকেই ফোন করলেন সুমনকে, তার ভাগিনা, একটা শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক, নিজেই ফোন করে বললেন যে তার রেফারেন্স দিয়ে যেন ছাপিয়ে দেয় যে এটা একটা ভুয়া নিউজ।
আমরা সবাই যদি নিজের দায়িত্বগুলো এভাবে পালন করি তাহলে এই ‘কান নিয়েছে চিলে’ টাইপ গুজবগুলো আমাদের জন্য সর্বনাশ ডেকে আনবে না ইনশাল্লাহ।

রিবা নিয়ে জানা সিরিজের স্ক্রিপ্ট -১১

রিবার নানা রূপ আজকের পর্বে আমরা রিবার নানা রূপের সাথে পরিচিত হব যেন দৈনন্দিন জীবনে আমরা সেগুলো থেকে বেঁচে থাকতে পারি-   টাকা ধার নেয়ার...