Wednesday, July 24, 2019

বিপদের ছদ্মবেশে রহমত


এ কদিন কাঁদতে কাঁদতে দু চোখ ফুলিয়ে ফেলেছিল রিমা।রাতের বেলা কেঁপে কেঁপে উঠত ঘুমের মাঝে। আম্মু তুমি যেও না, যেও না বলে হাহাকার করে উঠত। ওদের বাসায় এখন রাজ্যের লোক, রাজ্যের কথা, তাই ওকে গত চার পাঁচদিন ধরে রাতে নিজের কাছে এনে রেখেছিল তুলি। এতদিন পর গতকাল সারা রাত ঘুমিয়েছে শান্ত হয়ে, চরম ক্লান্তি নিয়ে।এখন আবার দুপুরে ঘুমাচ্ছে। আন্টি একদম হঠাৎ করে মারা গেলেন গত বৃহস্পতিবার। একটা সপ্তাহ, স্রেফ একটা সপ্তাহে জীবনটা আমূল বদলে গেলো রিমার।

জানালার শিক ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে আন্টির কথা ভাবছিল তুলি। আর মায়ের সাথে রিমার চরম আহ্লাদের দৃশ্যগুলো। তিন ভাইয়ের পর একটাই মেয়ে, যাকে বলে আদরের এক্কেবারে চূড়ান্ত। 

তুলিপু!

রিমা না ঘুমাচ্ছে! ওর আচমকা ডাকে ভাবনায় ছেদ পড়ল তুলির।

তুলি: জ্বী আপু!

মা: আপু তুমিতো ইসলাম নিয়ে অনেক পড়াশোনা করো। আল্লাহকে অনেক ডাকো। তুমি আমাকে বলতে পারবা আল্লাহ কেন আমার মাকে এভাবে নিয়ে গেল?

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল তুলি প্রশ্নটা শুনে। সেই চিরায়ত প্রশ্ন! ছোটবেলা থেকে আমাদের কখনো জীবনের উদ্দেশ্য শিখানো হয় না, মৃত্যুর পরের জীবনের কথা বলা হয়না। তাই এমন বিপদে পড়লে আমাদের মনে এমন প্রশ্ন আসাটাই যে স্বাভাবিক।

তুলি: আমরা যেখান থেকে এসেছি আমরাতো সেখানেই ফিরে যাবো, তাই না আপু? তুমি স্কুল থেকে বাসায় ফিরে আসো কেন? এটা তোমার আসল বাসস্থান বলে, তাই না? এখানেও ব্যাপারটা সেরকরম। আর একটা কথা সবসময় মনে রাখবা, আল্লাহ আমাদের সবচেয়ে ভালবাসেন। তাই ঊনি আমাদের জন্য তাই করেন যা আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো!

রিমা: আম্মু চলে যাওয়াটা আমার জন্য ভাল! আপু সবাই যে বলছে শমরিতায় না রেখে অ্যাপোলো বা স্কয়ারে ভর্তি করলে আম্মু বেঁচে যেত কথাটা কি ঠিক?

তুলি: একদমই ভুল। বলা যায় ভয়ংকর রকমের ভুল। যা হয়ে গেছে তা আমাদের ক্বদর বা ভাগ্যের অংশ।যদি তুমি ভিতর থেকে আসলেই এটা বিশ্বাস কর যে হাসপাতাল চেঞ্জ করলে আন্টি বেঁচে যেত, তবে তা আমাদের ঈমানকে নষ্ট করে দিতে পারে।

রিমা: সত্যি আপু? আপু, এই ক্বদরে বিশ্বাসের ব্যাপারটা একদম ঘোলাটে লাগে আমার কাছে। আমি এ ব্যাপারে জানতে চাই। আমি তোমার মত সব বিপদ আপদে শান্ত থাকতে চাই।

তুলি: অবশ্যই জানবা আপু। তুমি আল্লাহ্‌র দ্বীন সম্পর্কে জানতে চাইলে কোনো কিছুই বাঁধা হয়ে থাকবে না আপু! তুমি বাসায় বসেই অনলাইনে করতে পারো, শুধু খেয়াল রাখতে হবে উৎসটা যেন ঠিক থাকে। তাই অলরেডি পড়াশোনা করেছে এমন কারো গাইড লাইন অনুযায়ী করা উচিৎ। 

রিমা: আমাকে তুমি গাইড করবো আপু! আমি নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চাই এখন, গঠনমূলক কোনো কাজে। মানুষের নানা ধরণের কথা আমাকে পাগল করে দিচ্ছে।

মনে মনে আলহামদুলিল্লাহ পড়ল তুলি।আল্লাহর কাছে কোটি কোটি শোকর। নিশ্চয়ই সকল বিপদ আপদ, যা আমাদের আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে আসে তা আদতে বিপদ নয়, রহমত! 

Friday, July 19, 2019

রিবা নিয়ে জানা সিরিজের স্ক্রিপ্ট -৩


                                         রিবা কিভাবে মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ল


এই ভিডিওটার  লিংক ()

২য় পর্বে আমরা দেখিয়েছি যে শুধুমাত্র চক্রবৃদ্ধি হারে হলেই সুদ নিষিদ্ধ হবে ব্যাপারটা এমন নয়। সুদের হার যাই হোক না কেন তা কুরআনে কঠোরভাবে না করা হয়েছে। তাহলে আমাদের মনে হতে পারে যে তারপরেও মুসলিম দেশগুলোতে এটা মহামারীর মত ছড়িয়ে গেল কিভাবে?

এটা বোঝার জন্য আমাদের একটু পিছনে ফিরে তাকাতে হবে, প্রায় ১০০ বছর আগে।
আমরা হয়তো জানি যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অটোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে এবং মুসলিম ভূমিগুলো পশ্চিমাদের দখলে চলে যায়। এসময় পরিবর্তন আসে মুসলিম দেশগুলোর শিক্ষা, অর্থ  ব্যবস্থা ইত্যাদি সব কিছুতে। মুসলিম বিশ্বে সুদের অনুপ্রবেশ ঘটে ব্যাংকের মাধ্যমে যার  মূল কার্যক্রমই ছিলো সুদভিত্তিক লেনদেন। একদম শুরুর দিকের ব্যাংকগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো মিশর, তুরষ্ক আর ভারতীয় উপমহাদেশে।

প্রাথমিকভাবে মুসলিমগণ সুদের সাথে লেনদেন এড়িয়েই চলতেন। কিন্তু সমস্যা বাঁধে যখন কিছু স্কলার, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন মিশরের রশিদ রিদা, ফতওয়া প্রদান করেন যে ব্যাংকের সাথে লেনদেনে সমস্যা নেই, এটা নিষিদ্ধ রিবার অন্তর্ভুক্ত নয়। তাদের যুক্তি ছিলো যে কুরআন শুধু চক্র বৃদ্ধি হারে সুদকেই নিষিদ্ধ করে। তাদের অভিমতের উপর ভিত্তি করে মিশরে আইন পাশ করা হয় যাতে শুধু চক্র বৃদ্ধি হারে সুদকেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এটা যে ঠিক নয় সেটা আমরা ২য় পর্বেই ব্যাখ্যা করেছি। ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাংকের সাথে লেনদেনকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেন আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক একদল সমাজ সংস্কারক যাদের নেতৃত্বে ছিলেন স্যার সৈয়দ আহমদ খান, ফজলুর রাহমান প্রমুখ। তারা মূলত ভাবছিলেন যে অর্থনীতি ব্যাংকভিত্তিক হয়ে গেছে, মুসলিমরা যদি নিজেদেরকে এভাবে গুটিয়ে নিতে থাকে তাহলে ব্যবসা বাণিজ্য সবকিছু অমুসলিমদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। মুসলিমরা আরো পিছিয়ে পড়বে। আমরা অবশ্যই বিশ্বাস করি যে ঊনাদের উদ্দেশ্য মহৎ ছিলো তবে আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে যা আল্লাহ দ্ব্যর্থহীণ ভাষায় নিষেধ করেছেন, তার মাঝে কোনো কল্যাণ থাকতে পারে না। 

তবে হ্যাঁ, অধিকাংশ মূল ধারার স্কলাররাই ব্যাংকের সাথে লেনদেনকে নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রভাবশালী পক্ষ দ্বারা যখন কোনো মত প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে তখন সাধারণ মানুষের জন্য সেটার বিপরীতে যাওয়া একটু কঠিন হয়ে যায়। এভাবেই ব্যাংক ভিত্তিক সূদী লেনদেন একটু একটু করে আমাদের জীবনে আসন গেঁড়ে নিতে থাকে। তারপর সময়ের সাথে সাথে ধর্মীয় মূল্যবোধ যত কমতে থাকে, এটার ব্যাপারে সংবেদনশীলতাও তত কমতে থাকে যেটার ফল আমরা আমাদের প্রতিদিনের জীবনে আজ দেখতে পাচ্ছি।


আর হ্যাঁ, আজকের সময়ে আলিমরা সবাই একমত যে সুদী ব্যাংকের সাথে লেনদেন বৈধ নয়। তাই ইতিহাসে কোনো কোনো স্কলার এটাকে অনুমোদন দিয়েছেন এটা আমাদের জন্য আজ আর কোনো অজুহাত না। 

Thursday, July 18, 2019

বাপের সম্পত্তি!


ফারাহঃ ভাবী এটা কি আপনাদের নিজের বাসা?

শর্মীঃ না ভাবী। ভাড়া।এত তাড়াতাড়ি নিজের ফ্ল্যাট কিভাবে হবে!

ফারাহঃ না আমাদের এইটা নিজেদের তো, তাই জিগ্যেস করলাম। আপনার ভাই এই ফ্ল্যাটটা আমার নামে করসে। ইন ফ্যাক্ট আমাদের যা যা সম্পত্তি সবই ও আমার নামে করে। আমাদের দুই মেয়ে তো, তাই কোনো রিস্ক নিতে চায় না। আমার ভাসুরের সাথে আমাদের বনিবনা হয় না। এত কষ্টে করা সম্পত্তি সব কথা নাই বার্তা নাই ঊনার ছেলেরা পাবে এটাতো আর হতে দেয়া যায় না তাই না?

শর্মীঃ মানে? ঠিক বুঝলাম না ভাবী। সব সম্পত্তি আপনার ভাসুরের ছেলেরা পাবে কেন?

ফারাহঃ ওমা! আপনি জানেন না? মেয়েরা তো বাপের সম্পত্তি পায় না, সব ভাইয়ের ছেলেরা নিয়ে যায়!

শর্মীঃ বাপেরটা পায় না, মায়েরটা পায়? আপনার নামে করলে কি ফায়দা?

ফারাহঃ এত কিছু বুঝিনা বাপু! মেয়েদের বাবা যা ভালো বুঝতেসে, করতেসে।

[
একটা দীর্ঘশ্বাস অনেক কষ্টে গোপন করল শর্মী। এই ফারাহ ভাবী ঊনার নতুন প্রতিবেশী। নিয়মিত পাঁচবেলা নামায পড়েন, সুন্দর করে পর্দাও করেন। শর্মী অনলাইন ইউনিভার্সিটিতে পড়ছে জানতে পেরে প্রায়ই এটা ওটা জানতেও চান ওর কাছে। এমন তাকওয়া সম্পন্ন মহিলাও কি ভয়াবহ ভুল ধারণা নিয়ে বসে আছেন- চিন্তা করে মনটা এমন খারাপ হল ওর!] একটু চুপ থেকে বলল---

ভাবী, একটা কথা বলি, কিছু মনে কইরেন না।আল্লাহ্‌র দ্বীনের ব্যাপারে আমাদেরকেতো জানতেই হবে তাই না?ওর আব্বা যা বুঝে......এভাবে এড়িয়ে গেলে কি হবে বলেন? আপনার দুই মেয়ে তাদের বাবার সম্পদের ৩ ভাগের ২ ভাগই পাবে। আপনি পাবেন ১/৮ অংশ। আর বাকিটা একেক পরিস্থিতিতে একেক জন পেতে পারে। ভাইয়ের ছেলেরাই পাবে এমন কোনো hard and fast rule নাই। আমরা উত্তরাধিকার আইনের বিস্তারিত পড়েছি। খুব সোজা ভাবী, বিশ্বাস করেন! কয়েকটা মূলনীতি মনে রাখলেই হয়, আর কিচ্ছু না। এভাবে কি আল্লাহকে ফাঁকি দেয়া যায় বলেন? 


অজুহাত

কালকে সকালে কী করছিস রে?

একটু কাজ আছে, কেন রে?

কী কাজ? কোথাও ঘুরতে যেতে ইচ্ছা করছে খুব।যাবি?

আমি একটা ইসলাম ক্লাসে যাবো। তুই যাবি আমার সাথে? সূরা ফাতিহার তাফসীর হবে। আসার সময় আমরা খেতে পারি একসাথে কোথাও। আমাদের বয়সী অনেকেই আসবে, পরিচয় হয়ে ভালো লাগবে তোর।

নারে, আমি এধরণের ক্লাসে যাওয়াটা একটু এড়িয়ে যেতে চাই।

কেন? খুব অবাক হয়ে গেল নিপা কথাটা শুনে। কারণ তন্বী যথেষ্ট প্র্যাক্টিসিং একটা মেয়ে। নিয়মিত নামায পড়ে।

বেশী কিছু জানতে চাই না, বেশী জানলেই তো বেশী হিসাব দিতে হবে, তাই না? যত কম জানবো ততই ভালো,হিসাব সহজ হবে।

এইটা তুই কী বললি?

কেন? হি হি  করে হাসতে লাগলো তন্বী। ভালো বুদ্ধি না?

তোর কি ধারণা যে আল্লাহ অন্তরের অবস্থা জানেন না?

মানে কি? এটার সাথে আমার ফাঁকিবাজি বুদ্ধির কী সম্পর্ক হল?

মানে এই যে তুই ইচ্ছা করে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করছিস না, এটা কি আল্লাহ জানেন না? অজ্ঞতা একটা অজুহাত বটে, কিন্তু সেটাতো শুধু তাদের জন্য যাদের জ্ঞান অর্জনের কোনো সুযোগ ছিল না। তোর আমার মত এদের জন্য তো না, তাই না?

হুম। এটা অবশ্য ঠিক বলেছিস। এভাবে ভেবে দেখি নি। আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে যাবো তোর সাথে কালকে।কখন বের হবি?

১০টার দিকে ইনশাল্লাহ।  

Wednesday, July 17, 2019

একদম ব্যাসিক!


যেটা জানো না, সেটা নিয়ে কথা বলবা না......আমি ওদের কোর্সের গ্র্যাজুয়েট, জানো তুমি? ২দিন ধরে কোথায় না কোথায় ইসলাম শিখেছো, এখন মাতব্বরি করতে এসেছো.........

দিনা চুপচাপ ওদের বাড়িওয়ালী আন্টির বকা শুনলো।স্মিত হেসে চুপ করে থাকলো, আর কথা বাড়ালো না দিনা।

দিনার চুপ থাকাকে বিজয়ের চিহ্ন ধরে সোৎসাহে ঊনি বলতে লাগলেন.........মেডিটেশন করে অবশ্যই অলৌকিক ক্ষমতা লাভ করা যায়, তা না হলে ওরা চিনে না জানে না এমন মানুষের বর্ণনা কিভাবে দেয়? হুহ! ফালতু কথা বলো খালি...

আন্টি, এটার ব্যাখ্যা খুব সহজ। এটা করা হয় জ্বিনদের সাহায্যে। আমাদের প্রত্যেকের সাথেই একজন ক্বারীন বা জ্বিন থাকে, আর জ্বিনরা অত্যন্ত দ্রুত বেগে চলাচল করতে পারে, আমাদের জগতটা, আর ওদের জগততো পুরা আলাদা। ধরেন আপনি মেডিটেশন করতে বসেছেন, কিছুক্ষণ আপনার সামনে একজন মানুষের রুপ ধরে এসে ওই লোকের বর্ণনা দিতে শুরু করবে, আপনিও হুবহু বলতে থাকবেন। ব্যাপারটার মেকানিজম হচ্ছে এসব যারা করে, তাদের সাথে জ্বীনদের সরাসরি যোগাযোগ থাকে, যেটা কী না ইসলামের দৃষ্টিতে পুরা কুফর। ওদেরকে জ্বীনরা সাহায্য করে নানাভাবে। যে লোকের বর্ণনা দেয়া প্রয়োজন, সেটার ক্বারীন এসে সব তথ্য আরেক জ্বীনকে দেয়, সে মানুষের রুপ ধরে এসে বলতে থাকে, বা ওই লোকের ক্বারীনই তাঁর রুপ ধরে আসে, সিম্পল!

শুনে কিছুক্ষণ থ হয়ে থাকলেন আন্টি। কী বলো তুমি এগুলা? এসব গাঁজাখুরি কথা তুমি কোথা থেকে শুনেছো?

এগুলা কুরআন হাদীস থেকে অর্জিত জ্ঞান আন্টি, আপনি চাইলে আমি আপনাকে বই দিতে পারি, The world of jinn and devils.........আপনি নিজে পড়ে দেখতে পারেন, করবেন সেটা?

হঠাৎ কেমন যেন নরম হয়ে গেল আন্টির কন্ঠটা......করবো মা। দিও তুমি আমাকে। 

একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল দিনা। মেডিটেশনের সাথে জড়িত বিষয়গুলাতে শিরক এত সূক্ষ্মভাবে জড়িত যে আক্বীদার গভীর জ্ঞান না থাকলে বোঝা আসলে দুষ্কর। ইসলাম নিয়ে স্ট্রাকচারডভাবে না পড়লে জীবনেও এই অন্তর্দৃষ্টি জন্মাতো না দিনার। অথচ এই জ্ঞানগুলো কত ব্যাসিক! 

Friday, July 12, 2019

কুফা

বুকের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে নিপার। রিয়াদ চলে যাওয়ার পর গত এক বছর বুকে পাথর বেঁধে একেকটা দিন পার করেছে,ভেঙ্গে পড়ে নি, কিন্তু আজ কান্নার বাঁধটা আজ বুঝি আর ঠেকাতে পারছে না...জায়নামাযে সিজদায় কাঁদতে কাঁদতে হেঁচকি তুলে ফেলেছে!
গিয়েছিল মোহাম্মাদপুরে একটা কাজে। যেখানে গিয়েছিল সেখান থেকে পপিদের বাসা একদম কাছেই, শুক্রবার বলে নিশ্চিত ছিল বাসাতেই আছে। বেশ কিছু দিন যোগাযোগ নেই, কিন্তু খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিপা আর পপির। তাই ভেবেছিল ওদের বাসায় গিয়ে চমকে দেবে, একসাথে কিছু নির্ভার সময় কাটাবে। কিন্তু এ কী!
পপিদের বাসার সামনে গিয়ে দেখে গেট খোলা, উৎসব উৎসব ভাব।একটু অবাক হয়ে ভিতরে ঢুকতেই দেখে ওর ভার্সিটির সব ফ্রেন্ডরা উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে কলকল করছে। কিন্তু ওকে রুমে ঢুকতে দেখেই সবাই কেমন যেন চুপ মেরে গেল! এ কী! পপি বিছানার উপর বধু বেশে বসা! আজকে পপির বিয়ে! আর নিপাকে জানায় নি? নিজের চোখে বিশ্বাস হচ্ছিল না......একটু হতভম্বের মত বিছানায় গিয়ে বসতেই ফ্যাকাশে হাসি দিল পপি। খুব অপ্রস্তুত লাগছিল নিপার। হঠাৎ কানে আসল তীব্র একটা কণ্ঠ-
ও কেন এসেছে? কে ওকে আসতে বলেছে?????নিজের স্বামীকে বিয়ের ছ মাসের মাঝে খাইসে, শিক্ষা হয়নি? এখন এই কুফা মেয়েটা কেন এসেছে আমার মেয়ের বিয়ের দিন????
মাথাটা ঘুরে উঠতে ধরেও সামলে নিল নিপা। এটা পপির মায়ের কণ্ঠ না? ঊনিই কি সেই যে নিপাকে এত আদর করতেন বলে পপি হিংসায় মারা যেত?
একটা মানুষ কি কখনো অশুভ হতে পারে? আসছি বলে ফোন রেখে গাজীপুরে রিয়াদের বাসটা যে খাদে পড়ে স্পট ডেড হল ও, সেটা কি নিপার দোষ ছিল? এভাবে একজনকে একটা মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী করা কি শিরক নয়? জীবন মৃত্যুর মালিক কি আল্লাহ নন?
হঠাৎ একটা কথা মনে পড়ে একটু থমকে গেল নিপা। এই বিষয়গুলা কি স্ক্রাকচারডভাবে দ্বীন শিক্ষা শুরু করার আগে ও জানত? ওরাতো কেউ দ্বীন শিক্ষা করছে না ওর মত। তাহলে ওরা কিভাবে জানবে এগুলা? জানানোর দায়িত্ব কি ওরই ছিল না?
চোখের পানি মুছে সুস্থির হল নিপা। কেঁদেতো কোনো লাভ নেই! কাজ করতে হবে, অনেক কাজ! প্রিয় মানুষগুলোর কাছে পৌঁছে দিতে হবে তাওহীদের অমিয় বাণী। ও আজ যে কষ্ট পেয়েছে, আর কাউকে যেন এই কষ্ট পেতে না হয়...............

রেফারেন্সিং


ফয়সাল: কী ভাইয়া কী খবর?কেমন যাচ্ছে দিনকাল?
সোহেল: এইতো ভাইয়া আছি আর কী! চলে যাচ্ছে
ফয়সাল: এমন  শুকনা মুখে বলতেসো কেন? হলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো?
সোহেল: হল ঠিক আছে, কিন্তু পড়ার অনেক প্রেশার ভাইয়া। একদম হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি। এত্তগুলা করে অ্যাসাইনমেন্ট! সবচেয়ে কষ্ট লাগে লিটারেচার রিভিউ আর রেফারেন্সিং করতে। এত্ত কড়া এখানে সব কিছু! একটা লাইন লিখবেন কিন্তু যদি ফুটনোট না দেই, এক্কেবারে নাম্বার হাফ করে দেয়, কী জ্বালা!
 ফয়সাল: ওহ! এই কথা! একটা ইন্টারেস্টিং কথা শুনবা?
সোহেল: কী?
ফয়সাল: আমারও প্রথম দিকে এমন লাগত জানো, এখন এগুলা করতে খুব ভালো লাগে
সোহেল: ভালো লাগে? কী বলেন ভাইয়া......কেমনে ডেভেলপ করলেন এই অভ্যাস? আমারতো অসহ্য লাগে!
ফয়সাল: IOU তে উসূল আল হাদীস পড়ার পর থেকে। ওখানে যখন আমাদের হাদীস শাস্ত্রটা কিভাবে সংরক্ষিত হয়েছে সেটা নিয়ে বিস্তারিত পড়লাম, তখন থেকে। আমরাতো ভাইয়া খালি ইমিডিয়েট আগেরজন এর রেফারেন্স দেই। লেখক আবার কোথা থেকে জেনেছেন সেটা লিখি না কিন্তু হাদীস লিটারেচার যদি পড়ো, তাইলে দেখবা চেইন শেষ হয়েছে একদম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত গিয়ে। মাঝখানে প্রত্যেকটা বর্ণনাকারীর সুস্পষ্ট বর্ণনা আছে! বিশ্বাস করবা না ভাইয়া, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম এর নামে একটা ভুল কথাও যেন প্রচলিত না হয় সেজন্য হাদীস বিশারদগণ নূন্যতম ৫০ হাজার লোকের জীবনী সংরক্ষণ করেছেন। ভাবা যায়!
সোহেল: কী বলেন ভাইয়া! ঊনাদের এত ধৈর্য্য কিভাবে ছিল!
ফয়সাল: এটা আমার কাছেও আশ্চর্য লাগে, জানো! কোন লেভেলের ডেডিকেশন থাকলে এটা সম্ভব চিন্তা করো!
সোহেল: কিন্তু এখনতো হাদীসের নামে অনেক কথাই প্রচলিত আছে ভাইয়া
ফয়সাল: সেটার জন্য কিন্তু পার্টলি আমাদের এই মানসিকতাটা দায়ী ভাইয়া। আমরা sweeping statement দিয়ে বসি, রেফারেন্সিং, গবেষণা, এগুলোর ধার কাছে নাই আর। এজন্য ইসলামের নামে যে যা খুশী বলে যায়, বুঝসো?
সোহেল: হুম! এইটা ভাইয়া ভালো কথা বলছেন। ইসলামের নামে কথা তো এখন সবার বাপের সম্পত্তি হয়ে গেছে, টকশোগুলা শুনলেই বোঝা যায়। সবাই ইসলাম নিয়ে কথা বলে, এটা নিয়ে পড়াশোনা থাকুক আর না থাকুক
ফয়সাল: হুম এইজন্যইতো একসাথে দুইটা অনার্স করতেসি ভাইয়া।ইসলামকে ডিফেন্ড করতে হলে নিজের জ্ঞানের ভিতটা মজবুত করতে হবে। তাছাড়া IOU এর পড়া আমার এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াতেও অনেক সাহায্য করে
সোহেল: দারুনভাবে মোটিভেট করলেন ভাইয়া। দেখি আমিও শুরু করব। আগে তো ভয় লাগত যে চালাতে পারব কীনা দুইটা একসাথে!
ফয়সাল: আরে শুরু করে ফেলো আল্লাহর নাম নিয়ে। আল্লাহই বারাকা দেন সময়ে। আচ্ছা ভাইয়া যাই এখন, আমার ক্লাশ আছে একটা
সোহেল: আচ্ছা ভাইয়া, আল্লাহ হাফেয



রিবা নিয়ে জানা সিরিজের স্ক্রিপ্ট -১১

রিবার নানা রূপ আজকের পর্বে আমরা রিবার নানা রূপের সাথে পরিচিত হব যেন দৈনন্দিন জীবনে আমরা সেগুলো থেকে বেঁচে থাকতে পারি-   টাকা ধার নেয়ার...